জাতীয় পার্টি (জাপা) চেয়ারম্যান জি এম কাদেরের গতকাল শনিবার দুটি অনুষ্ঠানে দুইরকম ঘটনা ঘটেছে। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) ৩১ নম্বর ওয়ার্ডের (মোহাম্মদপুর) কাউন্সিলর হিসেবে পুনর্নির্বাচিত জাপার প্রেসিডিয়াম সদস্য শফিকুল ইসলাম সেন্টুর সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে দলের প্রধান পৃষ্ঠপোষক রওশন এরশাদের এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে জি এম কাদেরের থাকার কথা ছিল। বিকালের এই অনুষ্ঠানে জি এম কাদের উপস্থিত থাকলেও সেখানে যাননি রওশন।
এর আগে দুপুরে প্রয়াত এইচ এম এরশাদকে নিয়ে লেখা একটি বইয়ের প্রকাশনা অনুষ্ঠানে জি এম কাদেরের সাথে অন্যদের পাশাপাশি বিএনপি নেতা গোলাম মাওলা রনি ও ২০ দল শরিক জাতীয় পার্টির (কাজী জাফর) প্রেসিডিয়াম সদস্য আহসান হাবিব লিংকন উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন। সেন্টুর সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে জি এম কাদের ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন জাপার কো-চেয়ারম্যান এ বি এম রুহুল আমিন হাওলাদার, মহাসচিব মসিউর রহমান রাঙ্গা ও প্রেসিডিয়াম সদস্য এস এম ফয়সল চিশতি। ‘অসুস্থতার কারণে রওশন আসতে পারেননি’ বলে অনুষ্ঠানে জানানো হলেও খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, পদ-পদবি এবং কর্তৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের প্রশ্নে দলে চলমান অভ্যন্তরীণ বিবাদের জের ধরেই মোহাম্মদপুরে সেন্টুর সংবর্ধনায় যাননি জাপার প্রধান পৃষ্ঠপোষক ও সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা রওশন। প্রসঙ্গত, গত বছরের ২৮ ডিসেম্বর জাপার কাউন্সিলের মাধ্যমে জি এম কাদেরকে চেয়ারম্যান এবং রওশনকে প্রধান পৃষ্ঠপোষক করার পর দলের কোনো অনুষ্ঠানেই এখন পর্যন্ত তাদের দুই জনকে একত্রে দেখা যায়নি।
অন্যদিকে, দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে সাঈদ তারেক রচিত ‘আমার দেখা এরশাদ’ বইয়ের প্রকাশনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে জাপা চেয়ারম্যান জি এম কাদের বলেছেন, জাপা সবসময় বাংলাদেশের রাজনীতিতে নিয়ামক শক্তি হিসেবে কাজ করেছে। দেশের রাজনীতিতে ইতিবাচক ভূমিকা রেখে জাপা অসাধারণ ভূমিকা রেখেছে। যারা রাজনীতি করছেন, তাদের জন্য এই বইটি ডকুমেন্ট হিসেবে কাজে আসবে।
বইয়ের লেখক সাঈদ তারেকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত প্রকাশনা অনুষ্ঠান মঞ্চে জি এম কাদেরের বামে বসেছিলেন বর্তমানে বিএনপি নেতা গোলাম মাওলা রনি। আওয়ামী লীগ দলীয় সাবেক সংসদ সদস্য রনি নিজ দল ছেড়ে বিএনপিতে যোগ দিয়ে ৩০ ডিসেম্বর একাদশ সংসদ নির্বাচনে ‘ধানের শীষ’ প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। অনুষ্ঠানে বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০ দল শরিক জাতীয় পার্টির (কাজী জাফর) প্রেসিডিয়াম সদস্য আহসান হাবিব লিংকন বলেন, এরশাদের মৃত্যু নিয়ে আজও রহস্য রয়ে গেছে। নির্বাচনের আগে সমঝোতা করতে এরশাদ ছয় মাসের জন্য রাষ্ট্রপতি হওয়ার প্রস্তাব দেন, আর ২০ দল নেত্রী খালেদা জিয়া তাকে দুই বছরের জন্য রাষ্ট্রপতি করতে এবং জাপাকে ৭০টি আসন ছেড়ে দিতে সম্মত হয়েছিলেন। জাপা বর্তমানে আওয়ামী লীগের মিত্র হলেও জনমানুষের মনোভাব বুঝে রাজনৈতিক অবস্থান নিতে জি এম কাদেরকে পরামর্শ দেন জাপা দলীয় সাবেক এমপি লিংকন। সাংবাদিক সামসুদ্দিন আহমেদ পেয়ারা, জাপার প্রেসিডিয়াম সদস্য সুনীল শুভ রায় ও আলমগীর সিকদার লোটনও এতে বক্তব্য রাখেন।
