শায়লাকে আমি বাদ দিয়েছি।
কেন বাদ দিয়েছি, সে প্রশ্ন করবেন না। শায়লার কোনো দোষ নেই ঐ অর্থে। কোনো অর্থেই তার দোষ নেই। আমার পরিবার আগে থেকেই ওদের পরিবারের প্রতি নেতিবাচক ধারণা পোষণ করে আসছে। আমার দুলাভাই তো শুনেই রি রি করে উঠলেন, ‘আর জায়গা পাইলা না, মিয়া? শামসুর মাইয়্যার লগে পীরিত মারাইবার গ্যাছো?’
আমি ইন্টারপড়ুয়া কিশোর নই। আমার ইচ্ছা-অনিচ্ছার মূল্য আছে। এ চিন্তা করেই আপা সেদিন দুলাভাইকে যুগপত্ থামিয়ে দিয়েছিল, ‘আরে কী বাজে বকছ? পাস্ট ইজ পাস্ট।’
অল্প বয়সেই আর্থ্রাইটিস ধরেছে আমায়। আমার বাবারও আছে এই রোগ। অসুখটা উঠলেই শায়লা বলে, ‘বাবার সূত্রে অসুখটা পেয়েছ! উত্তরাধিকার বলে কথা! খুব ভালো কিছু ইনহেরিট করেছ।’
পত্রিকার খবর দেখে মাথা আউলে গেছে। ওকে ফোন করতেই হাসতে হাসতে উত্তর দেয়, ‘ওটা ছাড়ো। বাবা ব্যবসায়ী মানুষ। টাকা-পয়সা উনার হাতের ময়লা। একশো-দুশো কোটি টাকা বিদেশ রাখা অর্থ-পাচার নয়। ভবিষ্যত্ সুরক্ষা। আর উত্তরাধিকারবলে তো আমিই পাচ্ছি? নাকি? তো হানি, ওসব নিয়ে ভেবো না, সোনা। ওটা ছাড়ো।’
ছেড়েছি; ওটাকে নয়, শায়লাকে। উত্তরাধিকার বলে কথা!
