পুরান ঢাকায় ফায়ার সার্ভিস স্টেশন নির্মাণ

আপডেট : ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ২১:৪১

বাংলাদেশে বিভিন্ন এলাকায় সাংবত্সরিক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটিয়া থাকে। বিশেষ করিয়া রাজধানীর পুরান ঢাকা শহর এই ব্যাপারে অধিক ঝুঁকিপূর্ণ। ঐতিহ্যবাহী পুরান ঢাকার রাস্তাঘাটগুলি এখনো সংকীর্ণ। অনেক বাড়িঘর জরাজীর্ণ। তাহা ছাড়া বিভিন্ন কারখানা ও রাসায়নিক গুদাম থাকায় আরো বেশি দুর্ঘটনাপ্রবণ এলাকা পুরান ঢাকা। এখানে গত কয়েক বত্সরে বেশ কয়েকটি অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটিয়াছে যাহা আজও আমরা ভুলিতে পারি নাই। বিশেষত গত বত্সর ২০ ফেব্রুয়ারি চকবাজারে সংঘটিত অগ্নিকাণ্ডটি ছিল হূদয়বিদারক। মুহূর্তের মধ্যে অগ্নিকাণ্ডে জানমালের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। নিহত হন ৭১ জন। আহত হন শতাধিক। অনেক মর্মস্পর্শী ঘটনার জন্ম দেয় এই দুর্ঘটনাটি। ইহার আগে ২০১০ সালের ৩ জুন পুরান ঢাকার নিমতলীতে স্মরণাতীতকালের ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নিহত হন ১২০ জনেরও বেশি। দেখা যাইতেছে, পুরান ঢাকা অগ্নিকাণ্ডের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হইলেও সেই অনুযায়ী প্রতিকারের ব্যবস্থা তেমন নেওয়া হইতেছে না। বিভিন্ন রাসায়নিক গুদাম আগের মতোই বহাল তবিয়তে আছে। রাসায়নিক গুদামগুলি জনবসতি হইতে দূরে রাখা উচিত। তাহা ছাড়া অগ্নিকাণ্ডের পর যাহাতে দ্রুত ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা কাজ করিতে পারেন, এই জন্য এখানে নূতন করিয়া ফায়ার সার্ভিস স্টেশনও নির্মাণ করা জরুরি; কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক হইলেও সত্য যে, এই সকল উদ্যোগের প্রতিশ্রুতি থাকিলেও বাস্তবে কথার সহিত কাজের কোনো মিল নাই।

চকবাজারের চুড়িহাট্টায় অগ্নিকাণ্ডের এক বত্সর পূর্তি হইতে যাইতেছে। সেই সময় ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) ও ফায়ার সার্ভিস ঘোষণা দিয়াছিল যে, শীঘ্রই বাবুবাজারে একটি ফায়ার সার্ভিস স্থাপনা নির্মাণ করা হইবে; কিন্তু এখন পর্যন্ত তাহার কাজই শুরু হয় নাই। এখানে উল্লেখ করা যাইতে পারে যে, দেশের রাসায়নিক, কাপড় ও কাগজের সবচাইতে বড়ো পাইকারি বাজার হইল আরমানিটোলা, ইসলামপুর ও নয়াবাজার। এই জন্য স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীদের দাবি হইল, ফায়ার সার্ভিস স্টেশনটি বাবুবাজার সেতুর নিচেই তৈরি হউক। ইহা ঐ তিন এলাকার অনেকটা কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত বলিয়া সহজেই চারিপার্শ্বে যাওয়া যাইবে। যেইখানে ফায়ার সার্ভিস স্টেশন নির্মাণের কথা বলা হইতেছে, সেইখানে ডিএসসিসি পার্কিংয়ের জন্য ইজারা দিয়াছে। প্রয়োজনে এই ইজারা বাতিল করিয়া ফায়ার সার্ভিস স্টেশন নির্মাণ করিতে হইবে। কেননা জনগণের জানমাল রক্ষা করাটাই সরকারের বড়ো দায়িত্ব। আপাতত টিনশেডের একটি স্থাপনা নির্মাণ করা যাইতে পারে। পরবর্তীকালে এইখানে স্থায়ী স্থাপনা গড়িয়া তুলিতে হইবে।

ইলেকট্রনিকস সেফটি অ্যান্ড সিকিউরিটি অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ—ইসাবের এক পরিসংখ্যানে জানা যায়, ২০১৯ সালে ছোটো-বড়ো মিলাইয়া আগুন লাগিবার ঘটনা ঘটিয়াছে মোট ২৪ হাজার ৭৪টি। ইহাতে মৃত্যু হইয়াছে ১৮৫ জনের। আহত হইয়াছেন ৫৮৬ জন। সম্পদহানি হইয়াছে ৩৩০ কোটি ৪১ লক্ষ ২৮ হাজার ৭৪৪ টাকার। জানমালের এই ক্ষতি বিশাল ও অপূরণীয়। এই অগ্নিকাণ্ড প্রতিরোধে আমাদের যেমন সচেতন হইতে হইবে, তেমনি সরকারেরও উচিত ফায়ার সার্ভিস স্টেশন নির্মাণসহ বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করা। বিশেষ করিয়া প্রত্যেক উপজেলায় এই ধরনের স্টেশন নির্মাণ করা জরুরি হইয়া পড়িয়াছে। ফায়ার সার্ভিস স্টেশনগুলিতে যাহাতে জনবল ও সাজসরঞ্জামের ঘাটতি দেখা না দেয়, সেই ব্যাপারেও সরকারের নজর দেওয়া আবশ্যক।