ক্যানসার-সচেতনতা ও একটি অন্য রকম শিক্ষাসফর

আপডেট : ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ২১:৪২

মো. ইমরান হোসেন

বর্তমানে বিশ্ব জুড়ে মানুষের মৃত্যুর দ্বিতীয় প্রধান কারণ ক্যানসার। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, কেবল ২০১৮ সালেই ৯৬ লাখ মানুষ শুধু ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে। এর মানে হলো, প্রতি ছয় জনে একজন মানুষ ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে মারা যাচ্ছে। ক্যানসার একটি মরণব্যাধি। অনিয়ন্ত্রিত কোষবিভাজনের ফলে এই রোগ হয়। এই রোগ নির্মূলের কার্যকর ওষুধ এখনো আবিষ্কৃত হয়নি। কিন্তু সচেতন থাকলে চিকিত্সা গ্রহণের মাধ্যমে ক্যানসার নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়। আর সচেতনতার অভাবে মানুষ যেমন ক্যানসারে আক্রান্ত হয়, তেমনি ক্যানসার রোগীর মৃত্যুর সম্ভাবনাও  বেড়ে যায়। সেজন্যই ক্যানসারে প্রায় ৭০% রোগীর মৃত্যু ঘটে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোতে। বাংলাদেশে বর্তমানে ১৫ লাখ ক্যানসারে আক্রান্ত রোগী রয়েছেন। প্রতি বছর কেবল আমাদের দেশেই আড়াই লাখ রোগী ক্যানসারে আক্রান্ত হচ্ছেন এবং দেড় লাখ রোগী মৃত্যুবরণ করছেন। তাই ক্যানসার বিষয়ে সচেতনতা তৈরি করতে না পারলে আমাদের দেশের জন্য তা আরো বেশি আতঙ্কের কারণ হবে।

বয়স বৃদ্ধির ফলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাওয়া, পূর্বপুরুষের মাধ্যমে জিনগতভাবে ক্যানসার কোষ স্থানান্তর, তেজস্ক্রিয়তার প্রভাব প্রভৃতি কারণে ক্যানসার সৃষ্টি হয়।

ক্যানসার প্রতিরোধে নিয়মিত ব্যায়াম করা, শাকসবজি গ্রহণ, ধূমপান-মদ্যপান পরিহার, দূষিত বা তেজস্ক্রিয় পরিবেশ থেকে দূরে থাকা ও নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানো উচিত।

শরীরের কোথাও দলা দেখা, ক্লান্তি বৃদ্ধি, ক্ষুধা হ্রাস, ওজন কমে যাওয়া, অস্বাভাবিক রক্তপাত, ত্বক পরিবর্তন, মলত্যাগে পরিবর্তন প্রভৃতি ক্যানসারের লক্ষণ। এসব লক্ষণ প্রকাশ মাত্রই ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে ক্যানসার ডায়াগনোসিস করা উচিত। কারণ ক্যানসার প্রাথমিক অবস্থায় ধরা পড়লে অপারেশনের মাধ্যমে ক্যানসার কোষ কেটে সরিয়ে ফেলা সম্ভব। কিন্তু ক্যানসার কোষ ছড়িয়ে পড়লে রেডিওথেরাপি, কেমোথেরাপি, হরমোন থেরাপি দিয়ে নিয়মিত চিকিত্সার মাধ্যমে ক্যানসার নিয়ন্ত্রণে রাখতে হয়।

এসব সচেতনতামূলক তথ্যগুলো দেশের পুরো এলাকায় ছড়িয়ে দিতে পারলে দেশে ক্যানসারের ঝুঁকি বেশির ভাগই কমে আসবে।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি বিভাগের শিক্ষক ড. রনক জাহান ও ড. সাইফুল ইসলামের নেতৃত্বে কয়েকটি ছোটো ছোটো গ্রুপে ভাগ হয়ে প্রত্যয়-২৫ ব্যাচের ৩৫ জন গ্রাজুয়েট ফার্মাসিস্ট মিলে পিছিয়ে পড়া জনপদের মধ্যে ক্যানসার নিয়ে সচেতনতার বার্তা পৌঁছে দেয়। একদিকে সাজেক, নীলগিরি, নীলাচল, কাপ্তাই বা সেন্টমার্টিনের মতো দর্শনীয় স্থানগুলো উপভোগের আনন্দ, অন্য দিকে ক্যানসারের মতো রোগ নিয়ে জনসচেতনতা তৈরির কাজ সদ্য গ্রাজুয়েট হওয়া ফার্মাসিস্টদের জন্য ছিল অন্য রকম এক অভিজ্ঞতা।

ভবিষ্যতে যারা কয়েক দিনের জন্য শিক্ষাসফরে বের হবেন, তারা যদি বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে সাধারণ মানুষদের নিয়ে কিছুটা সময় দেন তবেই আমার লেখাটি সার্থক হবে।

n লেখক :শিক্ষার্থী, ফার্মেসি বিভাগ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়