উন্নয়নশীল বাংলাদেশকে উন্নত দেশের কাতারে শামিল হতে হলে দেশের এক ইঞ্চি জায়গাও পতিত রাখা উচিত নয়। এমনিতেই বাংলাদেশ একটি জনবহুল দেশ। আয়তনের তুলনায় জনসংখ্যা বেশি। এজন্য আমাদের বাড়ির আশেপাশে কিংবা মাঠে-ঘাটে যেখানে ফাঁকা জায়গা পাওয়া যায়, সেখানেই শাকসবজির চাষ করতে হবে। লাগাতে হবে বিভিন্ন ফলের গাছ। আশার কথা, নরসিংদী জেলায় মাচান পদ্ধতিতে ব্যাপক হারে শিম চাষ করা হচ্ছে। বিশেষ করে আদিয়াবাদ গ্রামটি শিম চাষের মডেল বা আদর্শ গ্রামে পরিণত হয়েছে। এখানকার অনেক নারী শিম চাষ করে স্বাবলম্বী হচ্ছেন। পারিবারিক চাহিদা মিটিয়ে বাজারে বিক্রি করে সংসারের অভাব দূর করছেন। গত কয়েক বছরে বিভিন্ন ধরনের সবজির মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় এখানকার কৃষাণী ও গৃহিণীদের চোখ খুলে গেছে।
কিছুদিন আগে কথা হলো কাঞ্চন মিয়ার স্ত্রী সেলিনা বেগমের সঙ্গে। তিনি জানালেন, তাঁদের কোনো চাষযোগ্য জমি নেই। তাঁরা অল্প জমি বর্গা নিয়ে সবজি চাষ শুরু করেন। সবজির মধ্যে ছিল শিম, করলা, টমেটো ও আলু। শিম চাষ করে তাঁরা বেশ লাভবান হয়েছেন। শিম একটি পুষ্টিকর সবজি। বাজারে তার চাহিদাও বেশি। ৪০০-৫০০ টাকা মণ দরে বিক্রি করেন ঢাকার পাইকারদের কাছে।
নরসিংদীর গ্রামাঞ্চলে অনেক নারী নিজ বাড়ির আঙিনায় শিম চাষ করে এখন স্বাবলম্বী। কেউ কেউ মাঠে-ময়দানে পুরুষের পাশাপাশি সবজি চাষ করছেন। এক সময় অভাব-অনটন যেখানে ছিল নিত্যসঙ্গী, সেখানে এখন তারা সন্তান-সন্ততি নিয়ে সুখে আছেন। কুসংস্কারের বেড়াজাল ছিন্ন করে তারা বের হয়ে আসতে পারছেন বলে একের পর এক সাফল্য পাচ্ছেন। আত্মবিশ্বাস, দৃঢ় মনোবল, সংগ্রাম ও কঠোর পরিশ্রম ছাড়া আমরা কাঙ্ক্ষিত উন্নয়নের সোপানে পৌঁছতে পারব না।
নাহার ইসলাম
ঢাকা
