দেবীগঞ্জ-ভাইলাগঞ্জ সড়ক

চলাচলের বিকল্প ব্যবস্থা না করে ব্রিজ সংস্কার

আপডেট : ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ২১:৪৫

জাকির হোসেন কবির, দেবীগঞ্জ (পঞ্চগড়) সংবাদদাতা

পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ উপজেলা সদরে অবস্থিত দেবীগঞ্জ-ভাইলাগঞ্জ সড়কের ডারা নদীর ওপর থাকা ব্রিজটি ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় গত বৃহস্পতিবার এতে সংস্কার কাজ শুরু করে স্থানীয় এলজিইডি বিভাগ। ব্রিজের উপরিঅংশে ঢালাই দেওয়ার ফলে ব্রিজটি দিয়ে পথচারীসহ সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। কোনো বিকল্প রাস্তা না থাকায় এ পথে গত তিন দিন থেকে ঐ রাস্তায় চলাচলে বেড়েছে জনদুর্ভোগ।

সরেজমিনে দেখা যায়, ব্রিজের পশ্চিম পাশ থেকে ব্রিজের নিচ দিয়ে মোটরসাইকেল, অটো চলাচল করছে। ব্রিজের নিচের অংশ অনেক গভীর হওয়ায় মোটরসাইকেল, অটো আরোহীদের উলটে পড়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটছে। আটোচালক রুবেল জানান, ব্রিজের নিচের রাস্তার দু-দিক অনেক উঁচু ফলে অটো ওঠানামা করতে চরম ভোগান্তির শিকার হাচ্ছি। অটো উলটেও গেছে কয়েকবার। ফলে অটো ব্রিজের ওপারে রেখে যাত্রী নামায় দিতে হচ্ছে এতে করে অটো থেকে আয় কমে গেছে। 

দেবীগঞ্জ সদর ইউনিয়নের সবুজপাড়া গ্রামের মো. সেলিম কবির জানান, আমি মোবাইলের ব্যবসা করি, মোটরসাইকেলে মোবাইলের কার্টুন বাড়ি থেকে দোকানে নিয়ে যাই এবং রাতে বাড়ি নিয়ে আসি। ব্রিজ বন্ধ থাকায় ব্রিজের নিচ দিয়ে কাটুন আনা নেয়া করতে না পারায় গত দুদিন থেকে আমার দোকান বন্ধ রয়েছে।

দেবীগঞ্জ সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবু তোরাব সরকার জানান, ডারা পাড়ের ব্রিজটি অনেক পুরোনো হয়ে গেছে। তিন ইউনিয়নের লোকজন ব্রিজটি দিয়ে চলাচল করে।  বিকল্প কোনো রাস্তাও নেই, ব্রিজের মধ্যখানে ভেঙে যাওয়ায় ব্রিজের উপরিভাগে মেরামত করায় ব্রিজ দিয়ে চলাচল বন্ধ রয়েছে। ফলে জনজীবনে চরম দুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে। ব্রিজটি ভেঙে ফেলে নুতন ব্রিজ করা খুব জরুরি হয়ে পড়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ব্রিজটি কয়েক দিন পর চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হবে, তবে ভারী যান চলাচলে ঝুঁকির আশঙ্কা থেকেই যাচ্ছে। ইতিপূর্বে ব্রিজটি একাধিকবার সংস্কার করা হয়েছে। ব্রিজের মাঝখানে কোনো পিলার নেই। ব্রিজের দুই অংশে দুইটি ব্রিক ওয়ালের ওপর সরাসরি বিমের ওপর ব্রিজটি নির্মিত। এবার ব্রিজের ওপর অংশে রেললাইনের মতো লোহা বিছিয়ে ঢালাই দেওয়া হয়েছে শুধু ব্রিজের বিমের ওপর ভর করে। এলজিইডি ব্রিজের উপরিঅংশে ঢালাই দিয়েছে।

জানা যায়, দেবীগঞ্জ, টেপ্রীগঞ্জ ও চিলাহাটী তিন ইউনিয়নের লোকজন চলাচল করে ব্রিজটি দিয়ে। জোরাতালি দেওয়া ব্রিজটিতে ভারী যান চলাচল করলে যে কোনো মুহূর্তে সেতুটি ভেঙে যেতে পারে বলে আশঙ্কা স্থানীয়দের। ব্রিজের মাঝখানে ফাটল দেখা দিয়েছে, ব্রিজের নিচ থেকে প্লাস্টার খসে পড়ছে। এলজিইডি বিভাগ শুরু থেকে নতুন ব্রিজ অথবা বিকল্প কোনো সেতুর ব্যবস্থা করলে আজকে জনদুর্ভোগ এড়ানো যেত বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

উপজেলা প্রকৌশলী মমিনূল ইসলাম জানান, ডারা নদীর ওপর এ ব্রিজটি দিয়ে অধিক লোডের গাড়ি চলাচল করায় ব্রিজটি তার কার্যকারিতা হারিয়েছে। গত বছর থেকে ব্রিজটির বিভিন্ন জায়গা মেরামত করে চালানো হচ্ছে। ব্রিজটি ভেঙে নতুন ব্রিজ করতে হবে এ জন্য একটি প্রস্তাব ঢাকায় প্রেরণ করা হয়েছে। সামনে বর্ষা মৌসুম। ব্রিজটি ভেঙে পড়লে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হবে তিন ইউনিয়নের হাজার হাজার মানুষের। জনদুর্ভোগ লাঘব করতে ও বড়ো ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে ডারা নদীর ওপর দ্রুত নতুন ব্রিজ নির্মাণের দাবি এলাকাবাসীর।