পাবনায় বাড়ছে বাল্যবিয়ে প্রথম পছন্দ প্রবাসী পাত্র

আপডেট : ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ২১:৪৭

পাবনা প্রতিনিধি

পাবনায় বেশিরভাগ মেয়ের অভিভাবকের প্রথম পছন্দ প্রবাসী পাত্র। দ্বিতীয় পছন্দ ছোটো পুঁজির ব্যবসায়ী। এ রকম পাত্র মিললেই জামাই করে নেন তারা। হোক তা বাল্যবিয়ে। যার প্রমাণ পাওয়া যায় সদর উপজেলায় গত এক বছরে বন্ধ হওয়া বাল্য বিয়ের তথ্যে। সদরেই বন্ধ হওয়া ৩৫০টি বাল্যবিয়ের অর্ধেক পাত্রই ছিলেন প্রাবাসী। মেয়ের নিরাপত্তার জন্য তাড়াতাড়ি বিয়ে দেওয়াকেই সমাধান মনে করেন এখানকার অধিকাংশ অভিভাবক।

সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জয়নাল আবেদীন বলেন, গ্রামের দরিদ্র পরিবারগুলোর দুশ্চিন্তা মেয়ের নিরাপত্তা নিয়ে। প্রেমে পড়ে যাওয়া এবং বখাটেপনার শিকার হয় অনেক কিশোরী। ফলে অভিভাবকেরা মেয়ের ভবিষ্যত্ ভেবে এমন পাত্র পেলেই তাকে যোগ্য মনে করে মেয়ে পাত্রস্থ করতে চান।

সম্প্রতি ৩৩৩ নম্বরে কল করে নিজের বিয়ে বন্ধ করে পাবনা সদরের অষ্টম শ্রেণিপড়ুয়া এক কিশোরী ও ষষ্ঠ শ্রেণির একটি মেয়ে। দুটি ঘটনাতেই কিশোরীদের পরিবারের সদস্যদের বক্তব্য ছিল, সম্প্রতি বেড়ে যাওয়া খুন, ধর্ষণ, যৌন হয়রানিসহ নানা সামাজিক অস্থিরতায় মেয়ে সন্তান তাদের ভাবিয়ে তুলেছিল। তারা জানতেন বাল্যবিবাহের কুফল ও আইন। তবুও এ অবস্থায় মেয়ে বিয়ে দিতে চেয়েছিলেন।

বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ’ব্রাক’ এর সামাজিক ক্ষমতায়ন কর্মসূচির জেলা জ্যেষ্ঠ ব্যবস্থাপক লুইস গোমেজ বললেন, সম্প্রতি অভিভাবক পর্যায়ের প্রায় ৬০০ নারীকে নিয়ে সেমিনারে নারীর ভাষ্যে বিভিন্ন অপ্রীতিকর তথ্য উঠে এসেছে। নিকট আত্মীয়স্বজনের কাছেও যৌন হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে অনেক মেয়ের। মান-সম্মান, সামাজিক নিরাপত্তাহীনতা ভেবে পরিবার প্রধানেরা মেয়েদের দ্রুত বিয়ে দিতে চাইছেন। জামাই হিসেবে পছন্দ প্রবাসী অথবা ছোটো ব্যবসায়ী। ছোটো ব্যবসায়ীর কারণ তিনি বলেন, অন্তত দুই মুঠো ভাত সে জোগাড় করতে পারবে।

জেলা সদরের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হোসনে আরা পারভীন বলেন, দারিদ্র্যের কারণে অনেক অভিভাবক বাল্যকালেই বিয়ে দিতে চান। সবচেয়ে বেশি দরকার তাদের সচেতন করা।