পুলিশকে হারাতেই আবাহনীর এই হাল!

আপডেট : ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ২১:৫৪

আবাহনী ২ :০ পুলিশ

 স্পোর্টস রিপোর্টার

ফুটবল মাঠে আবাহনীর চেনা রূপটা এখনো দেখতে পাচ্ছে না দর্শক। ফুটবলের গত মৌসুমে আবাহনী যেসব শক্তির ওপর ভর করে প্রতিপক্ষের আক্রমণ গুঁড়িয়ে দিয়েছিল কিংবা রক্ষণ দুমড়ে দিয়েছিল, সেই আবাহনী যেন এখনো অচেনা। এএফসি কাপ ফুটবলে ব্যর্থ হয়ে ঘরে ফেরা আবাহনী প্রিমিয়ার লিগ অভিযানে নামল। ছবিটা সেই একই। ঝাঁজ নেই। প্রতিপক্ষ ভুল করলে সেই সুযোগটা কাজে লাগিয়ে গোল করার অপেক্ষায় থাকা আবাহনী কাল বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে জয় পেয়েছে পুলিশের বিপক্ষে। ২-০ গোলে।

নাইজেরিয়ান ফুটবলার সানডে চিজোবার গোলটাই শেষ পর্যন্ত আবাহনীর সান্ত্বনার জয় থাকল। বৃহস্পতিবার লিগ শুরু হলেও কাল ছিল আবাহনীর প্রথম ম্যাচ। নিজেদের চেনা গ্যালারিতে ৩০০ ফুটবলপাগল দর্শকও এসেছিলেন। কিন্তু প্রিয় দলের খেলায় খুশি হতে পারলেন কোথায়? খেলা শুরু হওয়ার আগে থেকেই গ্যালারিতে গুঞ্জন চলছিল কেন আবাহনী এএফসি কাপে ব্যর্থ হলো?

দায় দিচ্ছিলেন ফুটবলারদের। কথা বলতে বলতে ততক্ষণে আবাহনী মাঠে নেমে গেছে আকাশি-নীল জার্সি গায়ে। আর পুলিশ নামল কমলা জার্সি গায়ে, যেন হুবহু ব্রাদার্স নেমেছে। প্রেসবক্সের সংবাদকর্মীরা পুলিশকে বার বার ব্রাদার্স ব্রাদার্স বলছিলেন দর্শকের মতো।

পুলিশ ফুটবল দলটা আগের সেই আশির দশকের মতো না। এখনকার দলটায় দেশি-বিদেশি ফুটবলার নেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে বিদেশি ফুটবলারদের মান যাচাই-বাছাই করে নিয়েছেন কর্মকর্তারা। বিদেশি কোচও এনেছে। ফেডারেশন কাপ ফুটবলের সেমিফাইনাল খেলেছিল।

বসুন্ধরা কিংসের কাছে ৩ গোল হজম করে বিদায় নেয়। আর আবাহনী তো কোয়ার্টার ফাইনাল  থেকেই বিদায় নিয়েছিল। ফেডারেশন কাপ ফুটবলের গ্রুপপর্বে আবাহনী ও পুলিশ মুখোমুখিতে আবাহনী ৪-০ গোলে জিতেছিল। সেই পুলিশ লিগে অনেকটাই উন্নতি করেছে মনে হলো। লিগ ম্যাচে পুলিশ নতুন পরিকল্পনায় নামল। নিজেদের প্রথম ম্যাচ আবাহনীর বিপক্ষে।

৯০ মিনিটের খেলা। আবাহনীকে যেন চোখ রাঙ্গাচ্ছিল। কিন্তু গোল পাচ্ছিল না। কারণ তাদের দলে কোথায় যেন একটা গ্যাপ। বুঝাপড়ার ঘাটতি। সেই সুযোগে আবাহনী জ্বলে উঠল। ৪৩ মিনিটে আবাহনীর নাইজেরিয়ান সানডে এবং ৭৫ মিনিটে কিরগিজ ফুটবলার এডগার গোল করেন ২-০। পুলিশের ভুলগুলোকে কীভাবে রাঙ্গিয়ে তুলতে হয় তা অভিজ্ঞতা দিয়ে কাজে লাগিয়েছে আবাহনী।

পুলিশ রক্ষণভাগে দুর্বল। তারপরও গোল লাইন হবে বল ফেরত পাঠিয়ে হারের ব্যবধান কমিয়েছে। এএফসি কাপে গোলের সুযোগ পেয়েও গোল করতে পারেনি আবাহনীর স্ট্রাইকার নাবীব নেওয়াজ জীবন। দ্বিতীয় গোলটা জীবনই করতে পারতেন। ফাঁকা মাঠে পিছলে পড়ে গেলেন জীবন। পেছনে থাকা কিরগিজ ফুটবলার এডগার সহজেই পুশ করলেন পুলিশের জালে ২-০। প্রশ্ন উঠল চার ডিফেন্ডার এবং পেছনে গোলকিপার সাইফুল ইসলাম খান। কেউ বলটা দেখলেনই না।

হাঁপ ছেড়ে বাঁচলেন আবাহনীর পর্তুগীজ কোচ মারিও লেমস। খেলা শেষে বললেন, ‘যেটাই হোক আমরা ম্যাচটা জিতেছি এটাই স্বস্তি লাগছে।’ তার আগেই সামনে দিয়ে হেঁটে ড্রেসিং রুমে চলে যাচ্ছিলেন পুলিশের সার্বিয়ান কোচ নিকোলা ভিটরোভিচ।

আজকের খেলা:

মোহামেডান ও সাইফ স্পোর্টিং (সোয়া ৩টা, ময়মনসিংহ)।