তৌহিদ আজিজ
আফগানিস্তানে ঘাঁটি গেড়ে থাকা পাকিস্তানি তিন প্রভাবশালী জঙ্গি দুই সপ্তাহ আগে আফগান বিশেষ বাহিনীর হাতে নিহত হয়। এখনো টার্গেটে রয়েছে আরো একটি পাকিস্তানি জঙ্গি গ্রুপ। বিদ্রোহী গোষ্ঠী মনে করছে, এর পিছনে যুক্তরাষ্ট্র ও পাকিস্তানের গোপন আঁতাত রয়েছে। জঙ্গিদের বিরুদ্ধে এমন অভিযানের মধ্যেও ফের আলোচনায় উঠে এসেছে যুক্তরাষ্ট্র-তালেবান শান্তি আলোচনার বিষয়টি। সম্প্রতি মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও বলেছেন, এ আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হয়েছে।
মাইক পম্পেও বলেছেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এখন তালেবানের সঙ্গে শান্তি আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার ইতিবাচক ইঙ্গিত দিয়েছেন। এ অবস্থায় ধারণা করা হচ্ছে, এর মধ্য দিয়ে দীর্ঘ ১৮ বছরের দ্বন্দ্ব-সংঘাতের অবসান ঘটবে। ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যম বিবিসি ও মার্কিন বার্তা সংস্থা এপির খবরে বলা হয়েছে, আফগানিস্তানের শান্তি আলোচনা এখন অনেকটা চুক্তির কাছাকাছি পৌঁছেছে। অবশ্য এই শান্তি চুক্তি করার ক্ষেত্রে তালেবানের পক্ষ থেকে আগেই বলা হয়েছিল, দেশটি থেকে মার্কিন সৈন্য পুরোপুরি প্রত্যাহার করতে হবে। বিষয়টি মার্কিন প্রেসিডেন্টের নির্বাচনি প্রতিশ্রুতিতেও ছিল। সে কারণে ট্রাম্প আফগানিস্তান থেকে মার্কিন সৈন্য অর্ধেকেরও বেশি কমিয়ে আনার ঘোষণা দিয়েছিলেন। সবদিকের বিবেচনায় মাস তিনেক আগে আলোচনা যখন চূড়ান্ত পর্যায়ে যাচ্ছিল তখন আফগান তালেবানের হামলায় এক মার্কিনি নিহত হলে পরিস্থিতি আবার জটিল আকার ধারণ করতে থাকে। একপর্যায়ে তালেবানরাও ফের বেপরোয়া হয়ে উঠতে থাকে। সাম্প্রতিক সময়ে এই জঙ্গিগোষ্ঠীটির হামলায় বেশ কিছু বেসামরিক লোক নিহত হয়েছে। এমনকি কয়েক সপ্তাহ আগে যে মার্কিন বিমান ভূপাতিত হয়েছে তার জন্য তালেবানকেই সন্দেহ করা হচ্ছে। সেসময় তালেবানের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, তাদের ঐ হামলায় অনেক সেনা নিহত হয়েছে। আফগানিস্তানে নিয়োজিত মার্কিন বাহিনীর মুখপাত্র কর্নেল সনি লেগেট বলেছেন, গজনি প্রদেশে বোম্বার্ডিয়ার ই-১১এ নামের একটি সামরিক বিমান বিধ্বস্ত হয়েছে। তবে এতে কেউ হতাহত হয়েছে কি না তা বলা হয়নি।
আফগান বিশেষ বাহিনীর অভিযানে সম্প্রতি যে পাকিস্তানি তালেবান নেতা নিহত হয় তার নাম শেহরিয়ার মাসুদ। আফগান তালেবান থেকে বের হয়ে যাওয়া এই নেতাকে তার বাড়ির পাশে একটি দূরনিয়ন্ত্রিত বোমার বিস্ফোরণ ঘটিয়ে হত্যা করা হয়। নিজেদের মধ্যে অভ্যন্তরিণ কোন্দল থাকলেও ঐ গোষ্ঠীটির বিশ্বাস, তাকে পাকিস্তানি গোয়েন্দারা হত্যা করেছে। এর আগে চলতি মাসে আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলেও আরো দুইজন পাক তালেবান নেতা নিহত হয়। অভিযোগ রয়েছে, এই দুটি জঙ্গি গোষ্ঠী শক্তি সঞ্চয় করে তাদের নিজ দেশে হামলা চালায়। বর্তমানে আফগানিস্তানে এই সব জঙ্গিদের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালিত হলেও একই সঙ্গে শান্তি আলোচনাও গুরুত্ব পেয়েছে। অনেকের মতে, তালেবানের ধ্বংসাত্মক কার্যকলাপের বিরুদ্ধে অভিযান চললেও শান্তি আলোচনাকে সমধিক গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। যা মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর কথায়ও ফুটে উঠেছে। তিনি বলেছেন, ‘যদিও এখনো শান্তি চুক্তি হয়নি। তারপরও এ নিয়ে দরকষাকষি হচ্ছে। আশা করছি আমরা এবার ভালো কোনো খবর দিতে পারব।’
