রাজধানীর বাসাবোর একটি বাসায় ভারতীয় জাল রুপি তৈরির কারখানার সন্ধান পেয়েছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। শনিবার রাতে বাসাবোর কদমতলা এলাকায় চালানো এ অভিযানে আট জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। জব্দ করা হয়েছে ৪৯ লাখ জাল রুপি ও তৈরির বিপুল সরঞ্জাম। গ্রেফতারকৃতরা জানিয়েছে, অন্য মামলায় কারাবন্দি থাকার সময়ে তারা জাল মুদ্রা তৈরির ব্যাপারে পরিকল্পনা করে। জামিনে বেরিয়ে শুরু করে জাল রুপি তৈরি। গ্রেফতারকৃতরা হলো : চক্রের হোতা বশিরউদ্দিন, মনিরুজ্জামান, মনির হোসেন, আবদুল কাদের ওরফে আল আমিন, এনামুল হক আশারি, আকবর আলী, কবির হোসেন ও সোহেল মাহমুদ। তাদের কাছ থেকে একটি ল্যাপটপ ও চারটি প্রিন্টারসহ জাল রুপি তৈরির সরঞ্জাম জব্দ করা হয়েছে।
ডিবি উত্তর বিভাগের উপ-কমিশনার মশিউর রহমান বলেন, কদমতলা এলাকার ৩৫/১ নম্বর বাসার ষষ্ঠ তলার ফ্ল্যাটে এই কারখানা চালিয়ে আসছিল মনির হোসেন ও মনিরুজ্জামান। তবে কারখানার মূল মালিক ও অর্থের যোগানদাতা বশিরউদ্দিন। তার অধীনে মূলত কারিগর হিসেবে কাজ করত কবির হোসেন। কবিরের সহকারী ছিল সোহেল। এই চক্রের আরেক সদস্য আল-আমিন জাল রুপি তৈরির জন্য বিশেষ ধরনের কাগজ তৈরি, তাতে জলছাপ দেওয়া, নিরাপত্তা সুতা বসানো ও ছাপার জন্য যাবতীয় সরঞ্জাম সরবরাহ করত। তারাসহ চক্রের আট সদস্য অভিযানে গ্রেফতার হয়েছে।
ডিবি জানায়, এনামুল হক ও আকবর আলী প্রতি লাখ জাল রুপি ২১ হাজার টাকায় কিনে নিত। পরে তারা ভারতীয় নাগরিক মোহনা, একরামুল ও হব্বুর কাছে প্রতি লাখ ২৫ হাজার টাকায় বিক্রি করত। কারখানার মালিক বশিরউদ্দিন একসময় বাগেরহাটে জাকির নামে এক ব্যক্তির জাল রুপি তৈরির কারবারে সহায়তা করত। পরে সে নিজেই কারখানা চালু করার পরিকল্পনা করে। সে তার সহযোগীদের মাধ্যমে জাল রুপি তৈরি ও সীমান্তবর্তী এলাকায় বিক্রি করে থাকে। এছাড়া তার তত্ত্বাবধানে দেশের বিভিন্ন জায়গায় জাল রুপির কারখানা বসিয়ে ডিলারদের মাধ্যমে বিক্রি করা হচ্ছে। চাঁপাইনবাবগঞ্জ এলাকার সীমান্তবর্তী ডিলাররা এসব জাল রুপি ভারতের ক্রেতাদের কাছে বিক্রি করে।
ডিবি পুলিশ বলছে, সন্দেহভাজন কিছু লোককে দীর্ঘদিন ধরে অনুসরণ করা হচ্ছিল, তারা বাংলাদেশ থেকে জাল রুপি কিনে সীমান্ত পেরিয়ে অন্য দেশে পাঠাত। ধীরে ধীরে পুরো চক্রটির সন্ধান পাওয়া যায়। জাল রুপি তৈরির সঙ্গে জড়িতদের মধ্যে যারা ভারতীয় নাগরিক, তাদের ব্যাপারে সেদেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে অবহিত করা হবে।
