সাংবাদিকদের ওপর হামলাকারী সেই ছাত্রলীগ নেতা রিয়াদ ইয়াবাসহ গ্রেফতার

আপডেট : ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ২২:০৬

ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচন চলাকালে সাংবাদিকদের ওপর হামলা চালানো সেই ছাত্রলীগ নেতা শহিদুল ইসলাম খান রিয়াদকে ইয়াবাসহ গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গত শনিবার রাতে পুরান ঢাকার রায়সাহেব বাজার এলাকা থেকে গ্রেফতারের পর গতকাল রবিবার তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, মিথ্যা তথ্য দিয়ে নিরপরাধ একজনকে ফাঁসাতে গিয়ে নিজেই ফেঁসে গেছেন ছাত্রলীগ নেতা রিয়াদ।

সূত্রাপুর থানার ওসি কাজী ওয়াজেদ আলী বলেন, শনিবার রাতে রিয়াদ ফোন করে একটি ইয়াবার চালানের ব্যাপারে তথ্য দিতে চান। একজন পুলিশ কর্মকর্তাকে ঘটনাস্থলে পাঠালে চালানসহ জড়িতদের ধরিয়ে দেওয়ারও আশ্বাস দেন। তখনই একজন পুলিশ কর্মকর্তাকে সেখানে পাঠানো হয়। তবে পরে বোঝা যায়, সাজু নামে এক ব্যক্তির সঙ্গে বিরোধের জের ধরে তাকে ইয়াবা ব্যবসায়ী হিসেবে ফাঁসানোর চেষ্টা করেছিলেন রিয়াদ। এ সময় তল্লাশি করে তার পকেটেই চার পিস ইয়াবা পাওয়া যায়। পরে তাকে ও খোকন নামে তার এক সহযোগীকে আটক করা হয়। ইয়াবা ব্যবসার অভিযোগে তাকে গ্রেফতার করে আদালতে পাঠানো হয়।

সূত্র জানায়, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি রিয়াদের বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসাসহ অপরাধমূলক বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের অভিযোগ রয়েছে। সর্বশেষ সিটি করপোরেশন নির্বাচনের দিন সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় তাকে সাময়িক বহিষ্কার করে ছাত্রলীগ। তবে শনিবার রাতে আটকের পর তাকে ছাড়িয়ে নিতে বিভিন্ন মহল থেকে তদবির করা হয়। অবশ্য পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এতে সাড়া দেননি। শেষপর্যন্ত তার বিরুদ্ধে মামলা হয়। সেই মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে গতকাল তাদের দুজনকে আদালতে হাজির করা হয়। এ সময় আদালত তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

গত ১ ফেব্রুয়ারি সিটি করপোরেশন নির্বাচনে গেন্ডারিয়ার ৪৬ নম্বর ওয়ার্ডের ফরিদাবাদ মাদ্রাসা কেন্দ্রে দায়িত্ব পালন করছিলেন বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড পত্রিকার সাংবাদিক নুরুল আমিন জাহাঙ্গীর, বাংলাদেশ প্রতিদিনের মাহবুব মমতাজী ও দিন প্রতিদিন পত্রিকার স্থানীয় প্রতিনিধি পাপন। তারা দেখতে পান, কোমরে অস্ত্র গুঁজে রিয়াদ দুই ভোটারকে কেন্দ্র থেকে বের করে দিচ্ছেন। ঐ ঘটনার ভিডিও ধারণের সময় রিয়াদের নেতৃত্বে তিন সাংবাদিকের ওপর হামলা করা হয়। একপর্যায়ে তাদের অস্ত্রের মুখে টেনেহিঁচড়ে কেন্দ্রে একটি কক্ষের ভেতর আটকে রাখা হয়। পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা খবর পেয়ে ঐ তিন সাংবাদিককে উদ্ধার করেন। এরপর রিয়াদই উলটো গেন্ডারিয়া থানায় ঐ তিন সাংবাদিকের বিরুদ্ধে জিডি করেন। পরে ভুক্তভোগী সাংবাদিক নুরুল আমিন জাহাঙ্গীরও একটি জিডি করেন রিয়াদের বিরুদ্ধে।