আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ও সাবেক সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট রহমত আলী আর নেই। গতকাল রবিবার সকাল সাড়ে ৭টায় ঢাকার স্কয়ার হাসপাতালে চিকিত্সাধীন অবস্থায় তিনি ইন্তেকাল করেন (ইন্না লিল্লাহি...রাজিউন)। দীর্ঘদিন ধরে বার্ধক্যজনিত বিভিন্ন রোগে ভুগছিলেন রহমত আলী। ডায়াবেটিস ও কিডনির জটিলতাও তার ছিল। তার বয়স হয়েছিল ৭৫ বছর। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, দুই ছেলে, এক মেয়েসহ অসংখ্য আত্মীয়স্বজন, সহকর্মী, গুণগ্রাহী ও শুভানুধ্যায়ী রেখে গেছেন।
প্রবীণ এই আওয়ামী লীগ নেতা ১৯৯১ সাল থেকে দশম সংসদ পর্যন্ত পাঁচবার গাজীপুর-৩ (শ্রীপুর-ভাওয়ালগড়-পিরুজালী-মির্জাপুর) আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৯৯ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০০১ সালের জুলাই পর্যন্ত তিনি স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বও পালন করেন। তার মেয়ে রুমানা আলী টুসী একাদশ জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনের এমপি।
অ্যাডভোকেট রহমত আলীর জানাজা গতকাল বিকালে জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় সম্পন্ন হয়েছে। জানাজার পরে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের পক্ষে তার সামরিক সচিব কফিনে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান। পরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শ্রদ্ধা জানান। আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে দলের সভানেত্রী শেখ হাসিনা কেন্দ্রীয় নেতাদের নিয়ে আলাদাভাবে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান। পরে স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী মরহুম রহমত আলীর কফিনে শ্রদ্ধা জানান। জানাজার আগে ঢাকা জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে মুক্তিযোদ্ধা রহমত আলীর কফিনের প্রতি রাষ্ট্রীয় সম্মান (গার্ড অব অনার) প্রদান করা হয়। ডেপুটি স্পিকার ফজলে রাব্বী মিয়া, জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূর-ই-আলম চৌধুরী, বিরোধীদলীয় নেতার পক্ষে বিরোধীদলীয় হুইপ পীর ফজলুর রহমান কফিনে শ্রদ্ধা জানান। জানাজায় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি ও আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য তোফায়েল আহমেদ, শিল্প মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি আমির হোসেন আমু, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হকসহ মন্ত্রিসভার সদস্য, সংসদ সদস্য, আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনগুলোর কেন্দ্রীয় নেতা, সংসদ সচিবালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অংশ নেন। জানাজার আগে রহমত আলীর জীবনবৃত্তান্ত পাঠ করেন হুইপ ইকবালুর রহিম। স্মৃতিচারণ করে বক্তব্য দেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক। পরিবারের পক্ষে রহমত আলীর ছেলে মো. জামিল হাসান দুর্জয় বক্তব্য রাখেন।
রহমত আলীর মৃত্যুতে পৃথকভাবে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সংসদের উপনেতা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী। এছাড়া অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল, আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম, নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী স্বপন ভট্টাচার্য্য, যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেল, সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতারা শোক প্রকাশ করেছেন।
