অভিধানের চাহিদা বেশি

আপডেট : ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ২২:৪৩

এবারের মেলায় গল্প, উপন্যাস সবকিছু ছাপিয়ে সবচেয়ে বেশি বিক্রীত বইয়ের নামটি হচ্ছে বঙ্গবন্ধুু শেখ মুজিবুর রহমানের তৃতীয় গ্রন্থ ‘আমার দেখা নয়াচীন’, দ্বিতীয় সর্বাধিক বিক্রীত বইটিও একই লেখকের। বইটির নাম ‘কারাগারের রোজনামচা’। এর পরেই সবচেয়ে বেশি বিক্রীত বই হচ্ছে অভিধান।

বইমেলার সদস্য সচিব ড. জালাল আহমেদ বললেন, যেভাবে বিক্রি হচ্ছে, মনে হচ্ছে ২১ ফেব্রুয়ারির মধ্যে ‘আমার দেখা নয়াচীন’-এর বিক্রি পঞ্চাশ হাজার কপি ছাড়িয়ে যাবে।

শুধু তো গল্প, উপন্যাস নয়, প্রয়োজনীয় বইও সংগ্রহ করেন পাঠকরা বইমেলা থেকে। শিক্ষার্থীরা বিষয়ভিত্তিক বইয়ের খোঁজ করেন মেলায়। তবে প্রয়োজনীয় বই সবচেয়ে বেশি যা বিক্রি হয় বইমেলায় তা হলো অভিধান। সময় যত এগোচ্ছে, অভিধানের প্রয়োজনীয়তা দিন দিন ততই বাড়ছে। নানা বিষয়ের অভিধান চোখে পড়ছে স্টলগুলোতে। মানুষের আগ্রহ চতুর্মুখী।

তাই প্রতিবারের মতো গল্প-উপন্যাসের পাশাপাশি বিক্রির শীর্ষে রয়েছে ‘অভিধান’। আর প্রকাশের দিক থেকে শীর্ষে বরাবরের মতো রয়েছে কবিতা। এর পরেই রয়েছে উপন্যাস ও গল্পের বই।

বাংলা একাডেমি স্টলের বিক্রেতারা বলছেন, ‘অভিধান’ প্রয়োজনীয় বই। এ বছর ‘আধুনিক বাংলা অভিধান’ বিক্রি হচ্ছে সবচেয়ে বেশি। প্রতিবছরই বিক্রির শীর্ষে থাকে অভিধান, এবারও তার ব্যতিক্রম হচ্ছে না। ১৯৫৮ সালে রচিত ‘আঞ্চলিক ভাষার অভিধান’-এর মধ্য দিয়ে অভিধানের ব্যাপকতা শুরু হয়। এরপর গত ষাট বছরের ইতিহাসে শুধু বাংলা একাডেমি থেকেই মোট ২১টি অভিধান প্রকাশ পেয়েছে।

বাংলা একাডেমির বিক্রয়কেন্দ্রে দায়িত্বরত কর্মকর্তা জানান, ইংরেজি থেকে বাংলা ও বাংলা থেকে ইংরেজি অভিধানের বিক্রি বেশি। নতুন আসা আধুনিক বাংলা অভিধানও বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া ব্যবহারিক বাংলা অভিধান, বানান অভিধান, উচ্চারণ অভিধানের বিক্রিও ভালো বলে জানান তিনি। বাংলা একাডেমির স্টলে অভিধানসহ সব বই বিক্রি হচ্ছে ৩০ শতাংশ ছাড়ে। এই স্টলগুলো ছাড়াও বাংলা একাডেমির নতুন ভবনের নিচে স্থায়ী একটি স্টল রয়েছে। সেখান থেকেও অভিধান কেনা যাচ্ছে।

একাডেমির অভিধানের মধ্যে ব্যবহারিক বাংলা অভিধান, বাংলা টু ইংলিশ ও ছোটোদের অভিধান বিক্রির শীর্ষে  রয়েছে। তবে একাডেমি থেকে প্রকাশিত প্রাচীন ও মধ্যযুগের বাংলা ভাষার অভিধান, ছোটোদের অভিধান, বাংলা বানান অভিধান, আঞ্চলিক ভাষার অভিধান, বাংলা উচ্চারণ অভিধান, বিবর্তনমূলক বাংলা অভিধান, সমকালীন বাংলা ভাষার অভিধান, সহজ বাংলা অভিধানেরও বেশ চাহিদা রয়েছে।

নতুন বই

গতকাল মেলায় নতুন বই এসেছে ১৪৬টি। এরই মধ্যে বাংলা একাডেমি এনেছে পিয়াস মজিদের বঙ্গবন্ধু বিষয়ক গ্রন্থ ‘মুক্তিযুদ্ধ বঙ্গবন্ধু ও বাংলা একাডেমি’, অনন্যা এনেছে ইমদাদুল হক মিলনের ‘কয়েকজন মেয়ে’, অধ্যাপক আবু সাইয়িদের ‘তোমার আলোকে রহিব জাগিয়া’, মাহবুব রেজার ‘নামিল আঁধার’, পাঠক সমাবেশ এনেছে সৈয়দ শামসুল হকের ‘জলেশ্বরী:উপন্যাস সংগ্রহ (২য় খণ্ড), ঐতিহ্য এনেছে আব্দুল হাইয়ের ‘বিশ্বাসের বাতায়ন’, চিত্রা প্রকাশনী এনেছে শিহাব সরকারের ‘আমার পূর্বজরা’, পাঞ্জেরী পাবলিকেশন্স এনেছে মিনার মনসুরের ‘মুক্তিযুদ্ধের চেতনার শত্রু-মিত্র’, স্বকৃত নোমানের ‘বানিয়াশান্তার মেয়ে’, বিদ্যা প্রকাশ এনেছে মফিদুল হকের ‘ব্যক্তিত্ব ও বাঙালি সমাজ, অনুপম প্রকাশনী এনেছে ড. বিশ্বজিত্ রায়ের ‘রাধারমণের অপ্রকাশিত গান’, ভবেশ রায়ের ‘নলেজপিডিয়া-৩’, আবিষ্কার এনেছে আবু আককাস আহমেদের ‘হুমায়ূন আহমেদ চেতনার আকাশ’ উল্লেখযোগ্য।

আলোচনায় ‘মুক্তিযুদ্ধ বঙ্গবন্ধু ও বাংলা একাডেমি’

মেলায় বাংলা একাডেমি প্রকাশ করেছে পিয়াস মজিদ রচিত মুক্তিযুদ্ধ বঙ্গবন্ধু ও বাংলা একাডেমি গ্রন্থটি। গতকাল মেলার মূলমঞ্চে এ বইটির ওপরে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনা পর্বে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন গবেষক শাহিদা খাতুন। আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন কবি শিহাব সরকার এবং গবেষক ড. ইসরাইল খান। লেখকের বক্তব্য প্রদান করেন পিয়াস মজিদ। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কথাসাহিত্যিক সেলিনা হোসেন।

লেখক বলছি

লেখক বলছি অনুষ্ঠানে গতকাল নিজেদের নতুন বই নিয়ে আলোচনা করেন মাসরুর আরেফিন, সোহেল হাসান গালিব, সৈয়দ জাহিদ হাসান এবং আলতাফ শাহনেওয়াজ।