দেশের জনপ্রতিনিধিদের ব্যাকগ্রাউন্ড নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নূরুল হুদা। তিনি বলেছেন, ‘গুলিস্তান ও মহল্লায় হকারদের কাছ থেকে টাকা নেওয়া ব্যক্তিরাও কিছুদিন পর পাতিনেতা, উপনেতা, নেতা ও কমিশনার হয়ে যায়। বৈশ্বিক চিন্তা করলেও আমাদের কাজ করতে হয় স্থানীয়ভাবে। কেননা, আমাদের দেশে নির্বাচন কমিশনকে মলম পার্টি, পকেটমার, পাতিনেতা, ব্যাগ টানা পার্টি ও ক্যাসিনো মেম্বার নিয়ে কাজ করতে হয়।’ গতকাল রবিবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তাদের যোগদান উপলক্ষ্যে কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
নতুন কর্মকর্তাদের উদ্দেশে কমিশনের কার্যক্রম নিয়ে বক্তব্যে সিইসি বলেন, ‘গুলিস্তানে বা মহল্লায় যারা হকারদের কাছ থেকে টাকা নেয়, কিছুদিন পর হয়তো তাদেরই নেতা, পাতিনেতা, উপনেতা, তারপর পূর্ণ নেতা হতে দেখা গেল। তারপর কমিশনারও। এগুলোও তো আমাদের দেখতে হয়। হু নোজ (কে জানে) যে একদিন এমপি হবে না! সুতরাং সেই ব্যাকগ্রাউন্ড নিয়ে আমাদের কাজ করতে হয়।’ তিনি বলেন, ‘আমাদের দেশে তো মলম পার্টি নিয়ে কাজ করতে হয়। ব্যাগ টানা পার্টি নিয়ে কাজ করতে হয়। আমাদের দেশে ক্যাসিনো মেম্বার নিয়ে কাজ করতে হয়। আমাদের পকেটমার নিয়ে কাজ করতে হয়।’
দশটা হুন্ডা, বিশটা গুন্ডার যুগ নেই :সিইসি তার বক্তব্যে নির্বাচনে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) ব্যবহারের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়াদের সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, কেন ইভএম? ইভিএমের ফলেই এখন আর সেই দশটা হুন্ডা, বিশটা গুন্ডার যুগ নেই। এদের ভাড়া করতে প্রার্থীদের যেতে হবে না। যারা ভোট ছিনতাই করবে, এদের কাছে যেতে হবে না। আর নির্বাচনে যারা দায়িত্বে থাকে, তাদের পেছনে যারা টাকা দেবে, তাদের কাছেও যেতে হবে না। একমাত্র ইভিএমই পারে ভোটারদের কাছে প্রার্থীদের নিয়ে যেতে।
