পরীক্ষা ছাড়াই পোষ্য কোটায় ন্যূনতম আবেদনের যোগ্যতায় ভর্তিসহ ১৬ দফা দাবিতে ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) কর্মকর্তাদের একাংশ ৪র্থ দিনের মতো কর্মবিরতি পালন করেছেন। প্রশাসন ভবনের সামনে উত্থাপিত দাবি নিয়ে আরিফুল নামে এক কর্মকর্তা বক্তব্য দেওয়ার সময় শিক্ষার্থীদের নিয়ে কটূক্তি করায় ফুঁসে উঠেছেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। বিশ্ববিদ্যালয় বিভিন্ন ছাত্র সংগঠন নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে বলেছে, সাধারণ শিক্ষার্থীদের কাছে ক্ষমা না চাইলে আন্দোলন করা হবে।
জানা যায়, উপরেজিস্ট্রার/সমমান পদের কর্মকর্তাদের বেতন স্কেল ৪ নম্বর গ্রেড, সহকারী রেজিস্ট্রার/সমমান পদের বেতন স্কেল ৬ নম্বর গ্রেড, ক্যাম্পাসের কর্মঘণ্টা আগের ন্যায় সকাল ৮টা থেকে ২টা পর্যন্ত, অবসরের বয়সসীমা ৬০ থেকে ৬২ বছর করাসহ ১৬ দফা দাবি বাস্তবায়নে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তাদের একাংশ। ঐ আন্দোলনে কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের আরিফুল ইসলাম নামে এক কর্মকর্তা শিক্ষার্থীদের আবেদন লেখার যোগ্যতা নেই বলে মন্তব্য করেন। বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকের ওয়ালে ওয়ালে প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে। ডেপুটি রেজিস্ট্রার মীর মো. জিল্লুর রহমান বলেন, ‘বর্তমান প্রশাসন যে উন্নয়নমূলক কাজ করে যাচ্ছেন সেখানে মাইক বাজিয়ে এমন অনভিপ্রেত মন্তব্য ও আন্দোলন আমরা ভিন্ন চোখে দেখছি। বিশ্ববিদ্যালয় অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশন এই অযৌক্তিক আন্দোলনে নেই।’ রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) এস এম আব্দুল লতিফ বলেন, ‘বেতন স্কেলের বিষয়টি নির্দিষ্ট শর্ত সাপেক্ষে আংশিক অনুমোদন হয়েছে। যাদের মাস্টার্স ডিগ্রি রয়েছে ওনারা পাবেন। চাকরির বয়সসীমা ৬২ বছরের বিষয়টি আচার্যের অনুমোদনের জন্য পাঠিয়েছি।’ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি ড. কাজী আখতার হোসেন বলেন, ‘এই ধরনের আন্দোলন ও বক্তব্য অনাকাঙ্খিত।’ ভিসি ড. রাশিদ আসকারী বলেন, ‘কর্মকর্তার ঐ বিষয়টি খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেব। শিক্ষামন্ত্রণালয় ও ইউজিসির অনুমোদনের বাইরে কিছু করার সুযোগ নেই। যে কোনো সমস্যা আলোচনার টেবিলে সমাধানের জন্য আহ্বান জানাই।’
