পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত আর্থিক প্রতিষ্ঠান ইন্টারন্যাশনাল লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্স সার্ভিস লিমিটেডের সর্বশেষ অবস্থা জানতে চেয়েছে আপিল বিভাগ। বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদকে এ বিষয়ে আদালতে লিখিত বক্তব্য দাখিল করতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালকের নিচে নয়, এমন পদমর্যাদার একজন কর্মকর্তাকেও একই বিষয়ে লিখিত বক্তব্য নিয়ে ২৫ ফেব্রুয়ারি আদালতে হাজির থাকতে হবে। প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের চার বিচারপতির বেঞ্চ গতকাল রবিবার এই আদেশ দেন। এছাড়া একের পর এক বিভিন্ন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে ঋণ প্রদানে অনিয়মের ঘটনায় উষ্মা প্রকাশ করে আপিল বিভাগ বলেন, আর্থিক খাতে নানা অনিয়মের ঘটনায় আদালত চোখ বন্ধ করে বসে থাকতে পারে না।
এক পর্যায়ে ইন্টারন্যাশনাল লিজিংয়ের পরিচালক প্রশান্ত কুমার হালদারের (পিকে হালদার) বিষয়টিও আলোচনায় আসে। তখন আদালতের জিজ্ঞাসার জবাবে দুদক কৌঁসুলি খুরশীদ আলম খান বলেন, পি কে হালদারের বিরুদ্ধে গত ৮ জানুয়ারি মানিলন্ডারিং ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের মামলা করেছে দুদক। তার সব সম্পদ ও ব্যাংক হিসাব জব্দ করা হয়েছে। তার বিষয়ে আমরা ইমিগ্রেশনকে চিঠি দিয়ে জানিয়েছি যে তিনি যেন দেশত্যাগ করতে না পারে। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, দুদকের আবেদনের পরেও পিকে হালদার দেশ থেকে পালিয়ে গেছে। এ পর্যায়ে আদালত বলেন, শুধু চুনোপুঁটি ধরলেই হবে না, বড়ো বড়ো রাঘববোয়ালদেরকে ধরতে হবে।
গত জানুয়ারি মাসে ইন্টারন্যাশনাল লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্স সার্ভিসেস লিমিটেড বিলুপ্তির জন্য আবেদন করেন কয়েকজন আমানতকারী। ঐ আবেদনের প্রেক্ষিতে গত ২১ জানুয়ারি হাইকোর্ট প্রতিষ্ঠানটি পরিচালনার জন্য স্বাধীন পরিচালক ও চেয়ারম্যান হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদকে নিয়োগ দেন। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটির বর্তমান চেয়ারম্যান, এমডি, বহুল আলোচিত প্রশান্ত কুমার হালদারসহ (পিকে হালদার) ১৩ পরিচালকের ব্যাংক হিসাব ও পাসপোর্ট জব্দ করতে বলা হয়। হাইকোর্টের এই আদেশের বিরুদ্ধে আবেদন করেন ইন্টারন্যাশনাল লিজিংয়ের পরিচালকরা।
