রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে মন্ত্রী-এমপিরা বলেছেন, দেশের মানুষ আর বিএনপি-জামায়াতের সঙ্গে কোনো ধরনের ঐক্য বা আপস করে রাজনীতি করতে রাজি নয়। বঙ্গবন্ধুর হত্যাকারী, একুশে আগস্ট গ্রেনেড হামলাকারীদের সঙ্গে কীসের ঐক্য? পাকিস্তানের পেতাত্মা এসব কুলাঙ্গারের সঙ্গে সমঝোতার কোনো প্রশ্নই ওঠে না। আর কোনো দিন এসব মীরজাফরের পক্ষে দেশের চলমান এই উন্নয়ন-অগ্রগতি থামানো সম্ভব হবে না। কারণ দেশের জনগণ এসব মীরজাফরকে চিনতে পেরেছে।
প্রথমে স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী এবং পরে ডেপুটি স্পিকার অ্যাডভোকেট ফজলে রাব্বী মিয়ার সভাপতিত্বে গতকাল রবিবার জাতীয় সংসদ অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তারা এসব কথা বলেন। আলোচনায় অংশ নেন বিরোধী দলের উপনেতা ও জাতীয় পার্টির (এ) চেয়ারম্যান জি এম কাদের, শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি, খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার, সাবেক মন্ত্রী মুহা. ইমাজ উদ্দিন প্রমাণিক, সাবেক প্রতিমন্ত্রী এ কে তাজুল ইসলাম, রুহুল আমিন রুহুল, সালমা চৌধুরী, ছোট মনির, কাজিম উদ্দিন আহমেদ, জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ ও বিএনপির জাহিদুর রহমান।
আলোচনায় অংশ নিয়ে মন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার বিএনপি-জামায়াতের সঙ্গে কোনো ধরনের ঐক্য বা আপস করতে দেশের মানুষ রাজি নয় জানিয়ে বলেন, বিএনপি উন্নয়ন দেখতে পারে না। বর্তমান সরকার এত উন্নয়ন করছে, এটা তাদের সহ্য হয় না। তাই তারা শুধু আন্দোলন আন্দোলন বলে।
শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি বলেন, একজন দুর্নীতির দায়ে দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিকে কীভাবে সরকার মুক্তি দেবে? অসুস্থ হলে সর্বোচ্চ চিকিত্সা দেওয়া হচ্ছে। আদালতই একমাত্র মুক্তি দিতে পারে, অথবা দোষ স্বীকার করে রাষ্ট্রপতির কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা করলে সেটি বিবেচনায় আসতে পারে।
জাতীয় নির্বাচনে সংখ্যানুপাতিক হারে ভোটের হিসাবে জনপ্রতিনিধি নির্বাচনের প্রস্তাব করে বিরোধী দলের উপনেতা জি এম কাদের বলেন, এই পদ্ধতিতে নির্বাচন হলে যে দল শতকরা ২০ ভাগ ভোট পাবে, সেই দল সংসদের মোট আসনের ২০ ভাগ, অর্থাত্ ৬০ জন সংসদ সদস্য পাবে। এতে নির্বাচনি ব্যবস্থায় কোনো সমস্যা হবে না। নির্বাচনি ব্যবস্থা সুসংসহত হবে। সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদে থাকা বাধ্যবাধকতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমরা এই অনুচ্ছেদ পুরোপুরি বাতিল হোক এটা চাই না। তিনি আরো বলেন, এই মুহূর্তে দেশের সবচেয়ে বড়ো সমস্যা বেকারত্ব।
সাবেক মন্ত্রী ইমাজ উদ্দিন প্রমাণিক বলেন, মীরজাফর মারা গেছে, কিন্তু মৃত্যুর আগে বলে গেছে বংশধর রেখে যাব। সেই মীরজাফরের বংশধররা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা করেছে।
বিএনপির জাহিদুর রহমান বলেন, সম্পূর্ণ মিথ্যা মামলায় বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে কারাগারে বন্দি রাখা হয়েছে। তিনি মানবিক কারণে খালেদা জিয়াকে জামিনে মুক্তি দিয়ে বিদেশে চিকিত্সার সুযোগ প্রদানের জন্য সরকারের প্রতি দাবি জানান।
জাতীয় পার্টির ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ বলেন, নির্বাচনকে অর্থবহ করতে রাজনৈতিক দলগুলোকে একসঙ্গে বসতে হবে, নইলে ভোটের প্রতি মানুষের অনিহা দূর হবে না।
সাবেক প্রতিমন্ত্রী এ কে তাজুল ইসলাম বলেন, খালেদা জিয়া দম্ভভরে বলেছিলেন, আওয়ামী লীগ কোনো দিন ক্ষমতায় আসতে পারবে না, এমনকি বিরোধী দলের আসনেও বসতে পারবে না। কিন্তু আল্লাহর কী রহমত, আওয়ামী লীগ টানা তৃতীয় মেয়াদে আজ ক্ষমতায়।
