উদ্যোক্তাদের ছাড়তে হবে ব্যাংকের মালিকানা
g ইত্তেফাক রিপোর্ট
বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর পদে সত্ এবং শক্ত একজন গভর্নর দিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ। তিনি বলেন, দেশের বেসরকারিখাতের ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের উদ্যোক্তাদের মালিকানা পাবলিকের হাতে ছেড়ে দিতে হবে। এটি করা গেলে ব্যাংকিং খাতে অনিয়ম-দুর্নীতি ও লুটপাট বন্ধ হবে। ব্যাংকগুলোকে ব্যবসার জায়গা হিসেবে না ভেবে জনগণের আমানতের সুরক্ষাও দেওয়া অতি জরুরি।
গতকাল সোমবার জাতীয় প্রেসক্লাবে বাম গণতান্ত্রিক জোট আয়োজিত ‘ব্যাংকিং ও আর্থিক খাতে অনিয়ম, দুর্নীতি, লুটপাট উত্তরণের’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ বলেন, দেশের বেসরকারি খাতের ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের উদ্যোক্তাদের মালিকানা পাবলিকের হাতে ছেড়ে দিতে হবে। এটি করা গেলে ব্যাংকিং খাতে অনিয়ম দুর্নীতি ও লুটপাট বন্ধ হবে। ব্যাংকগুলোকে ব্যবসার জায়গা হিসেবে না ভেবে জনগণের আমানতের সুরক্ষাও দেওয়া অতি জরুরি।
আমানতের সুদহার কমানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সরকার লুটপাটকারীদের ৯ শতাংশ সুদে ঋণ দিতে আমানতকারীদের সুদের হার কমিয়েছে। দেশে যে উন্নয়ন হয় তার সুফল ভোগ করে ৫ শতাংশ ধনী, সাধারণ জনগণের জন্য কোনো উন্নয়ন হয় না। ‘বাংলাদেশে ধনী বৃদ্ধির হার সবচেয়ে বেশি ১৯ শতাংশ, যা বিশ্বে সর্বোচ্চ। ধনী বাড়ার হার বাড়লে গরিব বাড়ার হারও বাড়ে। অর্থনীতি আয়বৈষম্য এত বেশি যা এশিয়ার অনেক দেশ এর ধারে কাছেও নেই।’
ক্রেডিট রেটিং কোম্পানি ক্রিসেলের প্রেসিডেন্ট ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোজাফফর আহমেদ বলেন, যারা ব্যাংক প্রতিষ্ঠা করেন তারা ধীরে ধীরে মালিকানা থেকে সরে যান, পাবলিক মালিক হয়ে যায়; কিন্তু আমাদের দেশে তার উলটো। তারা তো সারাজীবন ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন না। ‘বেসরকারি ব্যাংকগুলোর সর্বময় ক্ষমতা চেয়ারম্যানের হাতে। এমডিসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের হাতে কোনো ক্ষমতা নেই। করপোরেট গভর্নেন্স একদম নেই। আর তা হচ্ছে না মালিকদের সদিচ্ছার অভাবে।’
অধ্যাপক ড. এম এম আকাশ বলেন, এভাবে চলতে থাকলে আগামী তিন বছরের মধ্যে ব্যাংকগুলোর লোনেবল ফান্ড ক্রাইসিস তৈরি হবে। আমরা দেখছি প্রাইভেট সেক্টর মুনাফা করলে নিজের, আর লোকসান করলে সরকারের। ফারমার্স ব্যাংক তার অন্যতম উদাহরণ। এভাবে চলতে পারে না। দেশের ৪ শতাংশ ইচ্ছাকৃত খেলাপি, ৯৬ শতাংশ অনিচ্ছাকৃত খেলাপি।
বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম বলেন, ব্যাংকব্যবসা এখন খুবই লাভজনক। তার চেয়ে বেশি লাভজনক হচ্ছে এমপিগিরি ও রাজনৈতিক ব্যবসা! বাজার অর্থনীতি রাজনীতিকে বাজারনীতিতে পরিণত করেছে। দেশের বেশির ভাগ মানুষের অর্থনীতি ভালো আছে—এরকম মিথ্যা তথ্য যারা প্রচার করছে, তাদের সাজা হওয়া দরকার।
অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ বলেন, দুর্নীতিবাজ ব্যাংক কর্মকর্তা, লুটেরা ব্যবসায়ী এবং দুর্নীতিগ্রস্ত রাজনৈতিক নেতৃত্ব—এই তিনের মেলবন্ধনেই খেলাপিঋণের নষ্ট সংস্কৃতির ভিত্তি রচনা করেছে। এখন দেশের উন্নয়নের নীতিই হচ্ছে লুটপাট।
