মাঠে আছেন সালাহউদ্দিন সরে দাঁড়ালেন তরফদার

আপডেট : ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ২১:৫৫

বাফুফে নির্বাচন

স্পোর্টস রিপোর্টার

আগামী এপ্রিলে বাফুফের নির্বাচন। সভাপতি পদে নির্বাচন করবেন এমন ঘোষণা দিয়ে রেখেছিলেন তরফদার রুহুল আমিন। সভাপতি হওয়ার জন্য নির্বাচনের মাঠে তত্পর ছিলেন তিনি। বর্তমান সভাপতি কাজী সালাহউদ্দিনের কমিটির একাধিক ব্যক্তিকে তার পক্ষেও নিয়েছিলেন। সংগঠকদের এক করার জন্য বিভিন্ন সময়, বিভিন্ন ভাবে ফুটবল উন্নয়নের কথা বলে আওয়াজ তুলেছিলেন। ফুটবল সঠিক পথে হাঁটছে না, বাফুফে সভাপতির নেতৃত্ব নিয়ে কঠোর সমালোচনা করে আসছিলেন। দেশের ফুটবল উন্নয়ন করবেন বলে তার প্রতিও অনেকে আস্থা রাখছিলেন। কিন্তু হঠাত্ নির্বাচনের পথ থেকে সরে আসার ঘোষণা দিয়েছেন চট্টগ্রাম আবাহনীর কর্মকর্তা, জেলা ও বিভাগীয় ফুটবল সংগঠক পরিষদের চেয়ারম্যান ও ফুটবল ক্লাব সমিতির চেয়ারম্যান তরফদার রুহুল আমিন।

গতকাল দুপুরে তার মহাখালী কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে সরে দাড়ানোর ঘোষণা দেন তিনি। তরফদার রুহুল আমিন বলেন, ‘আমরা জানতাম বর্তমান সভাপতি আর নির্বাচন করবেন না। যেহেতু আর কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী নেই তাই আমি নির্বাচনের ঘোষণা দিয়েছিলাম। এখন আমি আমার নাম প্রত্যাহার করে নিচ্ছি। কারণ হচ্ছে আমরা ফুটবলের ভালো চাই। ফুটবলে আসলে অনেক কাজ বাকি আছে। এটাকে নিয়ে যে অস্বস্তিকর পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে, এই অস্বস্তিকর পরিবেশ থেকে আমরা মুক্তি পেতে চাই। যে কাদা ছোড়াছুড়ি হচ্ছে এটা আমাদের কারোর জন্য মঙ্গল না। নির্বাচন না করলেও একটা প্যানেল দেব।’

তরফদার নির্বাচন হতে সরে দাঁড়ালেও নির্বাচনী মাঠে থাকছেন বর্তমান সভাপতি কাজী সালাহউদ্দিন। তরফদারের সংবাদ সম্মেলন শেষ করে সংবাদ মাধ্যম বাফুফে ভবনে গিয়েছিলেন সালাহউদ্দিনের প্রতিক্রিয়া জানতে। বাফুফে সভাপতিও সংবাদ সম্মেলন করে বলেন, ‘নিবাচন করব না কথাটা এভাবে বলিনি। দাঁড়াতেও পারি, নাও দাঁড়াতে পারি। কাদা ছোড়াছুড়ির বিষয়টা আমার জানা নেই। উনাকে (তরফদার) ধন্যবাদ জানাই আমার ওপর আস্থা রাখার জন্য। একটা কথা বলি, পাটখড়ি একটা হলে ভেঙে ফেলা যায়, অনেকগুলো পাঠখড়ি এক সঙ্গে থাকলে ভাঙা যায় না। আমরা দেশের ফুটবলের জন্য কাজ করতে চাই।’

এই সংবাদ সম্মেলনে ছিলেন বাফুফের সিনিয়র সহসভাপতি আব্দুস সালাম মুর্শেদী, সদস্য হারুনুর রশিদ, মাহফুজা আক্তার কিরন, শওকত আলী খান জাহাঙ্গীর, জাকির হোসেন চৌধুরী, ইলিয়াস, ইকবাল এবং লিগ কমিটির কর্মকর্তা আব্দুর রহীম প্রমুখ। 

সহসভাপতি মহিউদ্দিন মুহির তোলা আর্থিক অনিয়ম নিয়ে প্রশ্নের জবাবে বাফুফে সভাপতি বলেন, ‘উনার যদি সত্ সাহস থাকত উনি এজিএমে এসে বলতেন। এএফসি, ফিফা এবং বাফুফের ১৪০ জন অডিট রিপোর্ট পাশ করেছে। উনি একা সঠিক, ফিফা গাঁধা? এএফসি গাঁধা? ১৪০ জনই কি গাঁধা? মাইক্রোফোন নিয়ে সালাম মুর্শেদী বলেন, ‘সহসভাপতি বা সদস্য যেই হোন না কেন ফাইন্যান্স নিয়ে একাধিকবার মিডিয়াতে অভিযোগ করা হয়েছে। তারা কি মিটিংয়ে এসে বলতে পারতেন না।’

সব শেষে কাজী সালাহউদ্দিন জানিয়েছন ৩০ এপ্রিলের আগেই তিনি নির্বাচন শেষ করতে চান।