শিরোপাধারী লিভারপুল ও অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদের লড়াই দিয়ে আজ মঙ্গলবার শুরু হচ্ছে উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের নকআউট পর্বের লড়াই। ২০১৯-২০ মৌসুম গত সেপ্টেম্বরে শুরু হলেও শিরোপার মূল লড়াইটা হবে এখান থেকেই। এ পর্ব শেষে দেখা মিলবে কোয়ার্টার ফাইনালিস্টদের। লিভারপুল-অ্যাটলেটিকো ছাড়াও এদিন বরুসিয়া ও পিএসজিও মাঠে নামবে। দলগুলোর বাঁচা মরার লড়াইয়ের প্রাক্কালে দেখে নেওয়া যাক ইউরোপীয় জায়ান্টদের মধ্যে কার সম্ভাবনা কতখানি, লিখেছেন নেয়ামত উল্লাহ
n কোণঠাসা সিটির ‘শেষ’ সুযোগ
ম্যানচেস্টার সিটির ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ জয়ের আশা শেষ বহু আগেই। মৌসুমটাকে ব্যর্থ হওয়ার হাত থেকে বাঁচাতে চ্যাম্পিয়ন লিগ জিততেই হবে ইংলিশ চ্যাম্পিয়নদের, এমনটা বলে আসছিলেন কোচ পেপ গার্দিওলাও। তার ওপর উয়েফার দেওয়া দুই বছরের চ্যাম্পিয়ন্স লিগ নিষেধাজ্ঞা তাদের আরো কোণঠাসা করে দিয়েছে। চ্যাম্পিয়ন্স লিগে না থাকলে তারকাখচিত দল ধরে রাখা যাবে কি না, তা নিয়েও আছে বিস্তর সন্দেহ। ফলে সোনালি সময় পার করা সিটির এটাই ইউরোপ সেরা হওয়ার শেষ সুযোগ।
এমন পরিস্থিতিই রিয়াল মাদ্রিদের মুখোমুখি হবার আগে সিটিকে জোগাবে ‘বাড়তি অনুপ্রেরণা’, দুই দিন আগে এমনটাই জানিয়েছিলেন রিয়াল কোচ জিনেদিন জিদান। তবে ফরাসি এই কোচের অধীনে কখনো চ্যাম্পিয়ন্স লিগ না হারানো রিয়ালকে বিদায় করার কাজটা মোটেও সোজা নয় সার্জিও আগুয়েরোদের। তবে যদি কাজটা করেই ফেলে সিটি, তাহলে প্রথম ইউরোপীয় শিরোপা জয়ের সম্ভাবনা আরো জোরালো হবে বইকি!
n ‘স্কোয়াড গভীরতা’য় এগিয়ে
লিভারপুল-জুভেন্তাস
চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জিততে কী চাই? লিভারপুল কোচ য়ুর্গেন ক্লপের প্রথম উত্তরটা হচ্ছে ‘স্কোয়াড গভীরতা’। সেক্ষেত্রে ইউরোপ জুড়ে অপ্রতিদ্বন্দ্বী লিভারপুল ও জুভেন্তাস। গেল বছর চ্যাম্পিয়ন্স লিগের সেমিফাইনালে বার্সেলোনার বিপক্ষে তিন গোলের ব্যবধান ঘুচিয়ে ফাইনালে গিয়েছিল লিভারপুল। এমন অসামান্য কীর্তিটা তারা গড়েছিল দলের প্রধান তারকা সাদিও মানে আর মোহামেদ সালাহকে ছাড়াই! তার ওপর প্রিমিয়ার লিগের নিষ্পত্তিটা একটু আগেভাগেই হয়ে গেলে খেলোয়াড়দের বিশ্রামে পাঠানোর সুযোগও থাকবে কোচ ক্লপের সামনে। বড়ো ম্যাচের আগে চোটহীন থাকাটা এগিয়েই রাখবে ইউরোপসেরাদের।
জুভেন্তাসের বেঞ্চও বেশ শক্তিশালী। গত রবিবার রাতেই যেমন, ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোকে ছাড়াই পাওলো দিবালা ও গঞ্জালো হিগুয়েইনের গোলে জেতে দলটি। জর্জিও চিয়েল্লিনি, ব্লেইসে মাতুইদি, মিরালেম পিয়ানিচরা বেঞ্চ থেকে এসে ঘুরিয়ে দিতে পারেন ম্যাচের মোড়। আর চ্যাম্পিয়ন্স লিগ বিশেষজ্ঞ রোনালদো তো আছেনই। দুয়ের মিশেল শিরোপার দৌড়ে ভালোভাবেই এগিয়ে রাখবে জুভেন্তাসকে।
n বার্সা-রিয়ালের বাধা ফর্মহীনতা আর চোট
শিরোপার দাবিদারদের তালিকায় দুই স্পানিশ দল রিয়াল ও বার্সেলোনার নিচে থাকার প্রধান কারণ, ফর্মহীনতা। রিয়ালের আক্রমণভাগ নিজেদের হারিয়ে খুঁজছে। এডেন হ্যাজার্ড এখনো পুরোনো ছন্দে ফিরতে পারেননি, গ্যারেথ বেলের অবস্থাও একই। এমন অবস্থায় দল পুরোপুরি নির্ভর করিম বেনজেমার ওপর। তার নিষ্প্রভ থাকা মানে দলেরও সমূহ বিপদে পড়ার শঙ্কা তীব্র হওয়া।
শেষ তিনটি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জয়ের মৌসুমে অবশ্য এমন ছন্দহীনতা কাটিয়ে ঠিক সময়ে জ্বলে উঠেই শিরোপা জিতেছিল রিয়াল। সে তিন জয়ের কারিগর জিদান ফিরেছেন ডাগআউটে। দুঃসময়েও তাই রিয়ালের আশা শেষ হয়ে যায়নি একেবারে।
তবে বার্সেলোনার আশা খুবই ক্ষীণ। ডাগআউটে একেবারেই নতুন কোচ কিকে সেতিয়েন। চোটের কারণে দলেরও একেবারে ত্রাহি-মধুসূদন দশা। তার ওপর যোগ হয়েছে লিওনেল মেসির ফর্মহীনতা। এতসব প্রতিবন্ধকতা কাটিয়ে কাতালানরা যদি শেষমেশ শিরোপা জিতেই ফেলে, তবে সেটা অভাবনীয় কিছুই হবে।
আজকের খেলা
অ্যাটলেটিকো-লিভারপুল
বরুসিয়া-পিএসজি
