পারল না মধ্যাঞ্চল
স্পোর্টস রিপোর্টার
ফাইনালে যেতে গেলে শেষ ম্যাচটা জিততেই হতো মধ্যাঞ্চলকে। রোমাঞ্চ ছড়ানো ম্যাচে ভালো সম্ভাবনা জাগিয়ে শেষ পর্যন্ত জিততে পারল না মধ্যাঞ্চল। শামসুর রহমানের সেঞ্চুরি ও নাসুম আহমেদের হাফ সেঞ্চুরির পর শেষ দিকে ফরহাদ রেজা ও শফিউল ইসলামের দৃঢ়তায় হার এড়াল দক্ষিণাঞ্চল। আর তাতে অষ্টম বিসিএলের ফাইনালের টিকিটও পেয়ে গেল চার বারের চ্যাম্পিয়নরা।
ফাইনালে দক্ষিণাঞ্চলের প্রতিপক্ষ পূর্বাঞ্চল। উত্তরাঞ্চলের বিপক্ষে ইয়াসির আলি প্রথম ইনিংসে ডাবল সেঞ্চুরি হাতছাড়া করার আক্ষেপ মেটালেন ম্যাচে জোড়া সেঞ্চুরি করে। তার ব্যাটেই উত্তরাঞ্চলকে হারিয়ে বিসিএলের ফাইনালে উঠেছে পূর্বাঞ্চল। তৃতীয় রাউন্ডের ম্যাচের শেষ দিনে সোমবার ৮ উইকেটে জিতেছে পূর্বাঞ্চল।
আগামী শনিবার শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচ শুরু হবে চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে। ফাইনাল ম্যাচটি হবে পাঁচ দিনের।
আগে তিনবার ফাইনালে খেললেও কখনও শিরোপার স্বাদ পায়নি পূর্বাঞ্চল। গতবার তাদের হারিয়েই নিজেদের চতুর্থ শিরোপা ঘরে তুলেছিল দক্ষিণাঞ্চল।
কক্সবাজারের শেখ কামাল আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ৫ উইকেটে ১৪৫ রানে দিন শুরু করা উত্তরাঞ্চল গুটিয়ে যায় ২৫৯ রানে। প্রথম ইনিংসে ৮ উইকেট নেওয়া নাঈম হাসান এবার নেন ১০১ রানে ৫টি।
উত্তরাঞ্চলের ইনিংস শেষ হওয়ায় একটু আগেভাগেই দেওয়া হয় চা পানের বিরতি। শেষ সেশনে ২১১ রানের লক্ষ্য পায় পূর্বাঞ্চল।
ড্র করলেই ফাইনাল নিশ্চিত হতো ইমরুল কায়েসের নেতৃত্বাধীন দলটির। কিন্তু সেই পথে হাঁটেনি তারা। জয়ের পথ বেছে নেয় তারা। ঝড়ো ব্যাটিংয়ে পথ দেখান ইয়াসির। প্রথম ইনিংসে ১৬৫ রান করেছিলেন। এবার তিনে নেমে খেললেন ৮৮ বলে ৮ চার ও ৫ ছক্কায় ১১০ রানের ইনিংস।
আশরাফুল অপরাজিত থাকেন ৮৬ বলে ৪টি চারে ৭০ রান করে।
ওদিকে ৫০৭ রানের বিশাল লক্ষ্য ছিল দক্ষিণাঞ্চলের। তবে ফাইনাল খেলতে ড্র-ই যথেষ্ট ছিল তাদের। ৬ উইকেট হাতে নিয়ে শেষ দিনে দারুণ শুরু করেন ডানহাতি ব্যাটসম্যান শামসুর ও ‘নাইটওয়াচ ম্যান’ হিসেবে নামা নাসুম।
শামসুর ১৭৮ বলে সেঞ্চুরি পূরণ করেন। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে এটি তার ২০তম সেঞ্চুরি। তার বিদায়ের পর দ্রুত দুই উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে দক্ষিণাঞ্চল। দলকে কিছুটা স্বস্তি দেয় নাসুমের সাবধানী ব্যাটিং। কিন্তু তৃতীয় সেশনের শেষ দিকে ২৪৬ বলে ৯ চার ও এক ছক্কায় ৮৫ রানের ইনিংস খেলা নাসুম ফিরে গেলে বিপদে পড়ে যায় দল।
তবে দশম উইকেটে ব্যাট হাতে দারুণ দৃঢ়তা দেখান ফরহাদ রেজা ও শফিউল, কাটিয়ে দেন দিনের শেষ ৯ ওভার।
সংক্ষিপ্ত স্কোর :
মধ্যাঞ্চল-দক্ষিণাঞ্চল
মধ্যাঞ্চল-১ম ইনিংস : ৮২.২ ওভারে ২৩৫/১০
এবং ২য় ইনিংস : ১০৭ ওভারে ৩৮৫/৮ ডিক্লেয়ার
দক্ষিণাঞ্চল ১ম ইনিংস : ২৮.২ ওভারে ১১৪/৪ ডিক্লেয়ার
এবং ২য় ইনিংস : (শামসুর রহমান ১৩৩, নাসুম ৮৫, ফরহাদ রেজা ২৭*; মিরাজ ৪/১৩৬, শুভাগত ৩/৫৯)
ফল : ম্যাচ ড্র
ম্যাচসেরা : নাসুম আহমেদ
উত্তরাঞ্চল-পূর্বাঞ্চল
উত্তরাঞ্চল ১ম ইনিংস : ৮২.৪ ওভারে ২৭২/১০
এবং ২য় ইনিংস: ১২০.৩ ওভারে ২৬৯/১০ (মাহিদুল ৪৪, মুশফিক ৩৮, জুনায়েদ ৩৬, সঞ্জিত ৩৬*, নাঈম ইসলাম ৩৫, সানজামুল ২৪; নাঈম হাসান ৫/১০১)।
পূর্বাঞ্চল ১ম ইনিংস : ১১৬.৩ ওভারে ৩৩১/১০
এবং ২য় ইনিংস : ৩৪.৫ ওভারে ২১১/২ (ইয়াসির ১১০, আশরাফুল ৭০*)
ফল : পূর্বাঞ্চল ৮ উইকেটে জয়ী
ম্যান অব দ্য ম্যাচ : ইয়াসির আলি
