তদন্ত শুরু করেছে ঢাকা বোর্ড
ইত্তেফাক রিপোর্ট
রাজধানীর শীর্ষ পর্যায়ের অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সরকারি অনুমোদন ছাড়াই পাঠদান চলছে। এসব প্রতিষ্ঠানগুলোকে চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ঢাকা শিক্ষা বোর্ড। প্রথম পর্যায়ে প্রতিষ্ঠান প্রধানকে শোকজ দেওয়া হবে। এতে সন্তোষজনক ব্যাখ্যা না পাওয়া গেলে তাদের পাঠদানের অনুমোদন বাতিল করা হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
ইতিমধ্যে গত ১১ ফেব্রুয়ারি ঢাকা বোর্ড এক চিঠির মাধ্যমে রাজধানীর মনিপুর উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের প্রতিটি ব্রাঞ্চে শ্রেণিভিত্তিক শাখা ও শিক্ষার্থীর তথ্য চেয়েছে। পর্যায়ক্রমে রাজধানীর ক্যামব্রিয়ান স্কুল ও কলেজ, ভিকারুননিসা নূন স্কুল ও কলেজ, মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজসহ যেসব প্রতিষ্ঠানের একাধিক ব্রাঞ্চ রয়েছে, তাদের চিঠি দেওয়া হবে বলে জানা যায়।
ঢাকা শিক্ষা বোর্ড সূত্র জানায়, মনিপুর উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ বর্তমানে রাজধানীর মিরপুরের মনিপুরে দুটি, শেওড়াপাড়া, রূপনগর ও ইব্রাহীমপুরে মোট পাঁচটি শাখা পরিচালনা করছে। বাংলা মিডিয়াম ও ইংরেজি ভার্শনের একাধিক শ্রেণি শাখাও খোলা হয়েছে। অথচ তাদের মনিপুরের মূল শাখা ছাড়া অন্য কোনোটির অনুমোদন নেই।
ক্যামব্রিয়ান স্কুল অ্যান্ড কলেজ রাজধানীর বারিধারা, মিরপুর, উত্তরা, নারায়ণগঞ্জে চারটি ব্রাঞ্চ পরিচালনা করছে। সম্প্রতি মিরপুরের প্রশিকা মোড়ে আরেকটি শাখা উদ্বোধনের জন্য সাইনবোর্ড টাঙানো হয়েছে।
মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ মতিঝিল, মুগদা ও বনশ্রীতে তিনটি শাখা পরিচালনা করছে। এসব ব্রাঞ্চে বাংলা মিডিয়াম ও ইংরেজি ভার্শনের ৫০টির বেশি অনুমোদিত শ্রেণি শাখা খোলা হয়েছে। ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজেও অনুমোদনহীন শাখা ও শ্রেণি পরিচালনা করছে। তাদের চারটি ব্রাঞ্চে বাংলা মিডিয়াম ও ইংরেজি ভার্শনের ৩০টি বেশি অনুমোদন ছাড়া শ্রেণি শাখা চালু রয়েছে।
জানা যায়, বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় স্থাপন ও স্বীকৃতি প্রদানসংক্রান্ত নীতিমালা অনুযায়ী কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শাখা বা ব্রাঞ্চ চালানোর সুযোগ নেই। তবে অনেক আগে আইডিয়াল ও ভিকারুননিসার কয়েকটি শাখার অনুমোদন বোর্ড থেকে দেওয়া হয়। তবে অন্যরা এক প্রতিষ্ঠানের অনুমোদন নিয়ে একই নামে শাখা খুলে দিব্যি কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের কলেজ পরিদর্শক অধ্যাপক হারুন অর রশিদ জানিয়েছেন, রাজধানীর শীর্ষ পর্যায়ের অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অনুমোদন ছাড়া পাঠদান চলছে। অনেকের অনুমোদন থাকলেও সেখানে অনুমোদিত অতিরিক্ত শ্রেণি শাখা চালু করা হয়েছে।
তিনি বলেন, অনুমোদন ছাড়া সেসব প্রতিষ্ঠান পরিচালিত হচ্ছে তাদের চিহ্নিত করে ব্যবস্থা গ্রহণে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তার পরিপ্রেক্ষিতে প্রথম পর্যায়ে ঢাকার শীর্ষ পর্যায়ের কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের কাছে সব তথ্য চাওয়া হয়েছে। যাদের অনুমোদন পাওয়া যাবে না, তাদের কারণ দর্শাতে প্রথমে শোকজ দেওয়া হবে। সন্তোষজনক জবাব না পেলে পাঠদানের অনুমোদন বাতিলসহ তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
