মার্চে শুরু হচ্ছে বাংলাদেশ ভারত পাইপলাইন নির্মাণ

আপডেট : ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ২২:২৯

ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের দেড় বছর পর ইন্দো-বাংলা মৈত্রী পাইপলাইনের নির্মাণকাজ শুরু হচ্ছে। আজ সোমবার ভারত থেকে দেশে আসছে প্রকল্পের পাইপের প্রথম চালান। আগামী মার্চ থেকে শুরু হবে এ পাইপ স্থাপন। নির্মাণ সম্পন্ন হলে ভারত থেকে পাইপলাইনের মাধ্যমে সরাসরি তেল আসবে। এর মাধ্যমে পাইপলাইনে জ্বালানি আমদানির যুগে প্রবেশ বাংলাদেশ।

জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, ২০১২ সালের ৬ ডিসেম্বর পাইপলাইনে তেল আমদানি করতে বাংলাদেশকে প্রস্তাব দেয় ভারত। বর্তমানে ক্রুড ও পরিশোধিত তেল সামুদ্রিক জাহাজ, নৌ জাহাজ, ওয়াগন ট্রেন এবং ট্যাংক লরিতে পরিবহন করা হচ্ছে। দীর্ঘকাল ধরে এ চার উপায়ে বিদেশ থেকে আমদানি থেকে শুরু করে প্রান্তিক পর্যায় পর্যন্ত তেল সরবরাহ করা হচ্ছে। কিন্তু এতে সিস্টেম লস, খরচ বেড়ে যাওয়ায় এবং নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়ছে। এ প্রেক্ষাপটে তেল পরিবহনে পাইপলাইন ব্যবহারের জন্য ভারতের প্রস্তাব গ্রহণ করে সরকার। এরই অংশ হিসেবে ২০১৮ সালে ‘ইন্দো-বাংলা মৈত্রী পাইপলাইন’ নির্মাণে ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করা হয়।

কথা ছিল- চলতি ২০২০ সালে পাইপলাইনের মাধ্যমে বাংলাদেশ তেল আমদানি শুরু করবে। কিন্তু নির্ধারিত সময়ে ভূমি অধিগ্রহণ এবং সরকারের আন্তঃমন্ত্রণালয় যোগাযোগ-সমঝোতা সম্পন্ন করতে না পারায় কাজ শুরু করতে দেরি হচ্ছে। গত মঙ্গলবার একনেকে প্রকল্পটির জন্য ৩০৬ কোটি ২৩ লাখ টাকা অনুমোদন হয়েছে। এখন আগামী বছরের আগস্ট নাগাদ পাইপে তেল আমদানি শুরু করা যাবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

প্রকল্পটির পরিচালক টিপু সুলতান জানান, গতকাল সোমবার বেনাপোল বন্দর দিয়ে বাংলাদেশে পাইপলাইনের প্রথম চালান প্রবেশপত্রটি। ১৩০ কিলিমিটার দীর্ঘ পাইপলাইনের মধ্যে ১২৫ কিলোমিটার বাংলাদেশে এবং ৫ কিলোমিটার ভারতে স্থাপিত হবে। সব মিলিয়ে ৬ মাসের মধ্যে বাংলাদেশ অংশের সম্পূর্ণ পাইপলাইন বসানো সম্পন্ন করা যাবে।

প্রকল্পটি বাস্তবায়নকারী সংস্থা মেঘনা পেট্রোলিয়াম কোম্পানি সূত্র জানায়, ভারত থেকে প্রথম চালানের পাইপ ৪৫টি লরিতে করে আজ বাংলাদেশে পৌঁছে। কয়েকটি ধাপে মোট ১২৫ কিলোমিটার পাইপ আসবে। ভারতের শিলিগুড়িতে নুমালীগড় রিফাইনারির মার্কেটিং টার্মিনাল থেকে বাংলাদেশে দিনাজপুরের পার্বতীপুর ডিপো পর্যন্ত পাইপলাইন স্থাপিত হবে। ভারতীয় অংশেও জমি অধিগ্রহণের কাজ শুরু হয়েছে।

বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) চেয়ারম্যান মো. সামছুর রহমান বলেন, জমি অধিগ্রহণসহ কয়েকটি ইস্যুর কারণে কাঙ্ক্ষিত গতিতে প্রকল্পটি এগিয়ে নেওয়া যায়নি।

পাইপলাইনটি বাংলাবান্ধা থেকে পার্বতীপুর যাওয়ার পথে একাধিক নদী, সড়ক ও রেলপথ পার হবে। এ জন্য বিআইডব্লিউটিএ এর অধীনে চারটি নদী-তিস্তা, ইছামতি, করতোয়া ও ডাউক নদীর মোট ৬টি পয়েন্টে এবং রেলওয়ের অধীনে ৩টি পয়েন্টে, সড়ক ও জনপথের চারটি পয়েন্টে এবং স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের অধীনে ২৮ পয়েন্ট স্পর্শ করবে। দীর্ঘদিনের আলোচনা শেষে সে অনুমোদন-সমঝোতাও মিলেছে।

জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের এক কর্মকর্তা বলেন, বাংলাদেশ এবং ভারত- দুই দেশই জ্বালানি তেল আমদানি করে। কিন্তু মধ্যপ্রাচ্যের দেশ থেকে সমুদ্রপথে তেল আমদানি এবং সে তেল দেশের উত্তরাঞ্চলে নৌ বা রেলপথে পরিবহনের সময় সিস্টেম লস বেশি হয়। আর ভারত থেকে আমদানি করলে সিস্টেম লস কমার ফলে তেলের সার্বিক দাম কম পড়বে। এই সুবিধা বিবেচনায় নিয়ে বাংলাদেশ-ভারত পাইপলাইন নির্মিত হচ্ছে।

বর্তমানে প্রতি ব্যারেল তেল আমদানিতে বিপিসির পরিবহন খরচ (প্রিমিয়ার) ৬ দশমিক ৬ মার্কিন ডলার। এর মধ্যে মধ্যপ্রাচ্য থেকে চট্টগ্রাম বন্দরে তেল আনতে ব্যারেল প্রতি খরচ ২ দশমিক ২ ডলার। আর চট্টগ্রাম থেকে দিনাজপুরের পার্বতীপুর ডিপোতে তেল নিয়ে যেতে খরচ হয় ৪ দশমিক ৪ ডলার। পাইপলাইনটি চালু হলে এ মোট পরিবহন খরচ এক ডলারের বেশি কমে ৫ দশমিক ৫ ডলারে দাঁড়াবে বলে বিপিসি প্রাক্কলন করেছে।