ক্ষমতাসীন জোটের সাথে দুই ধাপে অনুষ্ঠিত সংলাপের ফলাফল এবং একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে নিজেদের উদ্বেগের কথা ঢাকায় নিযুক্ত বিদেশি কূটনীতিকদের জানিয়েছে বিএনপি।গতকাল
সোমবার চেয়ারপার্সনের গুলশানের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত রুদ্ধদ্বার বৈঠকে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান দলের পক্ষে দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে বিভিন্ন পর্যবেক্ষণ কূটনীতিকদের অবহিত করেন। দলের অভ্যন্তরীণ সূত্র এসব তথ্য নিশ্চিত করেছে।
এ বিষয়ে বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা সাবিহউদ্দিন আহমেদ বলেন, তারা বিদেশি কূটনীতিকদের দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি সম্পর্কে জানিয়েছেন।
কূটনৈতিকদের মধ্যে বৈঠকে অংশ নেন ইউরোপীয় ইউনিয়ন, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, জাপান, চীন, জার্মানি, ইন্দোনেশিয়া, মরক্কো, সুইডেন, পাকিস্তানের পলিটিক্যাল সেক্রেটারি, তুরস্ক, স্পেন, ভিয়েতনাম, নরওয়ে, সুইজারল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত এবং অস্ট্রেলিয়ার উপ-রাষ্ট্রদূত। বিএনপি নেতাদের মধ্যে বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ড. আবদুল মঈন খান, ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া, ভাইস-চেয়ারম্যান ইনাম আহমেদ চৌধুরী, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা সাবিহ উদ্দিন আহমেদ, বিএনপি নেতা মীর হেলাল, জেবা খান, সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদ, ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা, অ্যাডভোকেট ফাহিমা মুন্নি প্রমুখ।
বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদ জানান, ৩৫টি দেশের কূটনীতিকরা বৈঠকে অংশ নেন।
শামা বলেন, বিএনপি নেতারা দেশের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলেছেন, নির্বাচন এবং অন্যান্য রাজনৈতিক বিষয় নিয়েও আলোচনা হয়েছে।
বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বিএনপি নেতা বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ১৪ দলীয় জোটের সাথে তাদের দুই দফা সংলাপ সম্পর্কে কূটনীতিকদের জানানো হয়েছে। সরকারের ‘অনমনীয়’ মনোভাবের কারণে সংলাপ ফলপ্রসূ হয়নি বলে জানানো হয়েছে।
বিদেশি কূটনীতিকদের তারা আরো জানিয়েছেন, তাদের দল ও জোট গণতন্ত্রের জন্য নির্বাচনে যোগ দিতে সিদ্ধান্ত নিয়ছে, কিন্তু গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজনে সরকার ও নির্বাচন কমিশন লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরিতে কোনো পদক্ষেপ নেয়নি।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নিশ্চয়তার পরও ‘গায়েবি’ মামলায় বিএনপি নেতা-কর্মীদের গ্রেপ্তার চলমান রয়েছে বলেও কূটনীতিকদের জানিয়েছে বিএনপি নেতারা।
তিনি বলেন, ‘নির্বাচনের তফসিল এবং পুনঃতফসিল ঘোষণায় নির্বাচন কমিশন যে পক্ষপাতিত্বমূলক আচরণ করেছে আমরা সে বিষয়টিও কূটনীতিকদের জানিয়েছি।’
বিএনপি নেতা জানান, তারা নির্বাচন নিয়ে বিভিন্ন উদ্বেগের কথাও তাদেরকে জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, বিএনপির নির্বাচনে যোগ দেয়ার সিদ্ধান্তকে প্রশংসা করেছে কূটনীতিকরা এবং স্বচ্ছ নির্বাচনের মাধ্যমে বাংলাদেশের গণতন্ত্র দৃঢ় হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তারা।
জামায়াতের প্রতীক কী, জানতে চান কূটনীতিকরা
জামায়াতে ইসলামী কোন প্রতীকে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অংশগ্রহণ করবে তা বিএনপির কাছে জানতে চান কূটনীতিকরা।
সূত্রটি জানায়, বৈঠকে কূটনীতিকরা বিএনপির কাছে জানতে চান, জামায়াতে ইসলামী কোন প্রতীকে নির্বাচনে করবে। উত্তরে বিএনপি বলে, এখনও বিষয়টি ঠিক হয়নি। কারণ জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট এবং ২০ দলীয় জোট আছে। সুতরাং দেখা যাক। পরবর্তিতে এটা ঠিক করা হবে। তখন সবাই জানতে পারবে। বৈঠকে কূটনীতিকদেরকে জানানো হয় যে, আইনগতভাবে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া নির্বাচন করতে পারবেন। এই কারণে আমরা তার জন্য মনোনয়ন ফরম তুলেছি। এছাড়া গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের জন্য বিএনপি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছে, সেবিষয়টিও কূটনীতিকদেরকে অবহিত করে দলটি সূত্রটি আরো জানায়, বিএনপির বৈঠকে কূটনীতিকদের কাছে উদ্বেগ প্রকাশ করে যে, এখনও নির্বাচনী পরিবেশ ও লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নাই। এখনও গ্রেপ্তার হচ্ছে। এই কথার পরিপ্রেক্ষিতে কূটনীতিকরা বলেন, তোমরা তো ৭ দফা দাবি দিয়েছিলে। এই দাবির মধ্যে তোমরা বন্দি সকল নেতাকর্মীদের মুক্তি চেয়েছিলে। তোমাদের রেকর্ড কী বলে, কতজন মুক্তি পেয়েছে। বিএনপি বলে, এ পর্যন্ত বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীকে মুক্তি দিয়েছে।
