জাতীয় পার্টি-জেপির চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন মঞ্জু এমপি বলেছেন, ‘সারাবিশ্বে একটা পরিবর্তন এসেছে, এই পরিবর্তনে সমস্ত বিশ্ব একটা অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এর মধ্যেও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বর্তমান সরকার সামষ্টিক অর্থনীতিকে স্থিতিশীল রাখতে সক্ষম হয়েছে। বিশ্ব অনিশ্চয়তার মধ্যেও আমরা নিরাপদ অবস্থানে আছি। বাংলাদেশ যে অর্থনৈতিক উন্নয়নের পথে দ্রুত ধাবিত হচ্ছে তা শুধু দেশের মানুষই নন, বিশ্বব্যাংকসহ বিশ্বনেতারা প্রশংসার সুরেই সেটি বলছেন।’ স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে গতকাল সোমবার জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ধন্যবাদ প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ কথা বলেন।
আনোয়ার হোসেন মঞ্জু বলেন, ‘আমরা গণতন্ত্রের কথা বলি। সংসদের বাইরে যারা রয়েছেন তারা বলেন দেশে নাকি গণতন্ত্র নেই! কিন্তু গণতন্ত্রের একটি কাঠামো ও সংস্কৃতি থাকে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে গণতান্ত্রিক অবকাঠামো স্থাপিত হয়েছে। এই কাঠামোটা ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন, উপজেলা নির্বাচন, পৌরসভা নির্বাচন, জেলা পরিষদ নির্বাচন, জাতীয় নির্বাচন—এসব এ সরকার সফলভাবে সম্পন্ন করতে পেরেছে। এখন আমাদের গণতান্ত্রিক সংস্কৃতিকে উন্নয়ন করতে হবে, যদিও সেটা সময়সাপেক্ষ। কিন্তু সরকারের সফলতা হচ্ছে গণতান্ত্রিক অবকাঠামো স্থাপন করতে সক্ষম হয়েছে। এটা যারা আমাদের সমালোচনা করেন তাদেরকেও স্বীকার করতে হয়। দেশের অর্থনীতির উন্নয়ন হচ্ছে, এ কথা কেউ অস্বীকার করে না। এমনকি এখানে যারা বিরোধী দলে রয়েছেন তারাও এটা স্বীকার করে নিয়ে তারপর নিজেদের দুঃখের কথা, সমস্যার কথা বলেন। যারা অত্যাচার, নির্যাতন, বাক্স্বাধীনতা কিংবা সংবাদপত্রের স্বাধীনতা ও সমাবেশের কথা বলেন—আমরাও বিরোধী দলে ছিলাম; জেলে নিয়েছে, জুলুম করেছে, এক জেল থেকে আরেক জেলে পাঠিয়ে দিয়েছে। যেখানে লকআপের পর নিয়মে নেই কয়েদিকে বাইরে নিয়ে যাওয়ার, সেখানে রাত ৮টার পর আমাদেরকে কাউন্টিং শেষে এক জেল থেকে আরেক জেলে নিয়ে গেছে, সেখানে রাখা হলো সন্ত্রাসীর সঙ্গে—এটা রাজনীতিতে থাকা উচিত নয়, কিন্তু তারা এটা করে এসেছেন। আশা করি, রাজনীতিতে গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি গড়ে উঠবে।’
আনোয়ার হোসেন মঞ্জু বলেন, ‘ইউরোপ, রাশিয়া, এমনকি ইউরোপিয়ান দেশগুলো একটার সঙ্গে আরেকটার প্রতিযোগিতা চলছে, অনিশ্চয়তা চলছে। চীনের সঙ্গে রাশিয়ার যে ব্যাবসায়িক টানাপোড়েন চলছে তার ফলে বিশ্বের অর্থনীতিতে একটা ইনফ্লেশন, রিসেশন চলছে। তবে শেখ হাসিনার সরকার ও অর্থমন্ত্রীর নেতৃত্বে সামষ্টিক অর্থনীতিকে স্থিতিশীল রাখতে সক্ষম হয়েছে। আশঙ্কা হয়েছিল মূল্যস্ফীতি বাড়বে, রিসেশন হবে—সরকার দুটোই মোকাবিলা করতে সক্ষম হয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘এখন বিশ্বব্যাংকসহ সকলে আমাদের সম্মানের সঙ্গে দেখে। এমন একটা সময় ছিল বিশ্বব্যাংকে গেলে আমাদের সঙ্গে দেখা করতে চাইত না, কথা বলতে চাইত না। গত বছর আমি যখন বিশ্বব্যাংকে গেলাম তখন চার জন ভাইস প্রেসিডেন্ট আমার সঙ্গে দেখা করলেন। বাংলাদেশ এখন দরিদ্র দেশ থেকে মধ্য আয়ের দেশে যাচ্ছে।’
তিনি বলেন, ‘গোটা পৃথিবী এখন অর্থনৈতিক সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এমন একটা পৃথিবী কেউ জানে না, কে কোনদিকে যাচ্ছে। এরকম অবস্থায় আমরা নিরাপদ অবস্থানে আছি। প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বাধীন সরকারের পররাষ্ট্রনীতির জন্যই এটা সম্ভব হচ্ছে।’ আনোয়ার হোসেন মঞ্জু বলেন, ‘বাংলাদেশের উন্নয়ন এখন আর কাগজে লেখার দরকার হয় না। উত্তর, দক্ষিণ, পূর্ব, পশ্চিম এমনকি সমুদ্রে গেলেও উন্নয়ন দেখা যায়। গভীর সমুদ্রবন্দরের কাজ চলছে। পদ্মা পেরিয়ে ওপারে গেলে যখন দেখি বড়ো রাস্তার সঙ্গে উপসড়কেরও সংযোগ রয়েছে, সড়ক বিভাগকে ফুলের বাগান, বাজার-ঘাটগুলো সুবিন্যস্ত—তখন আমরা বুঝতে পারি এখানে নিশ্চয়ই প্রধানমন্ত্রীর হাতের ছাপ রয়েছে। একসময় যেখানে ছিল বাঁশের সাঁকো, পরে তা লোহার হয়েছে, আর বর্তমানে সেখানে ইট-পাথরের স্থায়ী ব্রিজ হয়েছে।’ পিরোজপুর-২ আসনের এই সংসদ সদস্য বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী প্রতিটি বিষয় বিস্তারিত দেখেন। প্রতিটি বিষয়ে তিনি জ্ঞান রাখেন, সে অনুযায়ী তিনি মন্ত্রীদের এমনকি ইঞ্জিনিয়ারদেরও প্রয়োজনীয় উপদেশ দেন।’
করোনা ভাইরাস সম্পর্কে সরকার ও অর্থমন্ত্রীকে একটু সচেতন থাকার পরামর্শ দিয়ে জেপি চেয়ারম্যান বলেন, ‘আমাদের উন্নয়ন স্থিতিশীল। তবে করোনা ভাইরাসের প্রকোপের প্রভাব অর্থনীতিতে কী হবে, বিশ্ব অর্থনীতিতে মন্দাভাব পড়বে কি না, বলা যাচ্ছে না। আল্লাহর রহমতে এই ভাইরাস এখনো বাংলাদেশে আসেনি, আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি, যেন না আসে। মেডিক্যাল চেকআপের জন্য কয়েক দিন আগে আমি সিঙ্গাপুরে গিয়েছিলাম; সেখানে পর্যন্ত দেখেছি রাস্তাঘাট, হোটেল-রেস্তোরাঁ, হাসপাতাল সবকিছু খালি।’
