মানবতা ও ভ্রাতৃত্বে

আপডেট : ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ১৮:২৫

মুজাহিদ হোসেন

 

গোমতির কুমিল্লা থেকে পদ্মাপাড়ের রাজশাহীর দূরত্ব নেহাত্ই কম নয়। সড়কপথে প্রায় ৪০০ কিলোমিটার। মাঝে আঞ্চলিক সংস্কৃতির দৃশ্যনীয় ফারাক। তারপরও উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন চোখে নিয়ে বরেন্দ্রভূমির রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে আসে, আসতে হয় কুমিল্লার শিক্ষার্থীদের। বাড়ি ছেড়ে নতুন পরিবেশে খাপ খাওয়ানো কম ঝক্কির নয়। তাদের এই ঝক্কির অনেকটাই যেন মোলায়েম করে দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের কুমিল্লা জেলা সমিতি।

‘বুকে নিয়ে ময়নামতি, শালবন আর গোমতি, আলোর বার্তা পৌঁছাব আমরা বিশ্বব্যাপী’ স্লোগানকে সামনে রেখে ২০১১ সালের ৮ মার্চ বিশ্ববিদ্যালয়ে কুমিল্লা জেলা সমিতির যাত্রা শুরু হয়। যাত্রার পর থেকে ফি-বছর কেবল ভর্তিচ্ছুদের সহায়তা, বার্ষিক বনভোজন আর নবীনবরণ করেই ক্ষান্ত থাকেনি সংগঠনটি। দেশ ও মানবতার ডাকেও সাড়া দিয়ে প্রতিবারে এগিয়ে যায় সংগঠনটির সদস্যরা। বছর জুড়ে সংগঠনটির নানাবিধ সাংগঠনিক কর্মব্যস্ততা এরই মধ্যে ক্যাম্পাসে বেশ সাড়া ফেলেছে।

২০১৭ সালে হঠাত্ ভয়াবহ বন্যা গোটা উত্তরবঙ্গকে প্লাবিত করে। দিনাজপুরের মতো উঁচু জেলাও প্লাবিত হয়। এতে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে উত্তরবঙ্গের মানুষগুলো। বন্যার এই ভয়াবহতা গোটা দেশের মানুষের হূদয় আন্দোলিত করেছিল। সরকারের পাশাপাশি শিক্ষার্থীরাও এগিয়ে আসে বন্যার্তদের সাহায্যার্থে। বসে থাকেনি রাবির কুমিল্লা জেলা সমিতি। ত্রাণ বাকসো হাতে সাহায্য তুলতে বেরিয়ে পড়ে এর সদস্য শিক্ষার্থীরা। প্রায় ৪ লাখ টাকার ত্রাণ সাহায্য নিয়ে নওগাঁ, দিনাজপুর, রংপুর ও কুড়িগ্রামের দুর্গম অঞ্চলের বন্যার্তদের ত্রাণ সহায়তা দেয় সংগঠনটি।

মানবতার ডাকে সাড়া দিয়ে চলতি বছরের শীতেও উত্তরবঙ্গের শীতার্তদের পাশে দাঁড়িয়েছে জেলা সমিতির সদস্যরা। এই বছরের ৩ থেকে ৫ জানুয়ারি রংপুর, পঞ্চগড় জেলায় ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আশেপাশের শীতার্তদের প্রায় দেড় লাখ টাকার ত্রাণ সহায়তা দেওয়া হয়।

শুধু তাই নয়, পড়াশোনার একঘেয়েমি দূর করতে প্রায়শই বনভোজন, প্রীতিম্যাচ, ভ্রমণ, প্রতিটি জাতীয় দিবস পালন ও রমজানে ইফতার মহফিল আয়োজন করে সংগঠনটি। ভর্তি পরীক্ষার সময় কুমিল্লা থেকে আসা ভর্তিচ্ছুদের থাকা ও খাওয়ার ব্যবস্থা করে। নবীনদের বরণ, তাদের আবাসনের ব্যবস্থাও করে সংগঠনটির সদস্যরা।

জেলা সমিতির বর্তমান সভাপতি জামসেদ সবুজ বলেন, শিক্ষার্থী হিসেবে দেশ ও মানুষের প্রতি আমাদের বাড়তি কিছু দায়িত্ব আছে। জেলা সমিতির মাধ্যমে সেটিই করতে চাইছি। জেলা সমিতিকে কেবল আঞ্চলিক সংগঠন হিসেবে সীমাবদ্ধ না রেখে এর কাজকে মানবতার পরিসরে নিয়ে যেতে চেয়েছিলাম এবং সেই লক্ষ্যেই আমরা কাজ করে যাচ্ছি।