আবার প্রস্তুত সাইফউদ্দিন

আপডেট : ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ২১:২২

দেবব্রত মুখোপাধ্যায়

অনেকদিন পর বল করলেন মাশরাফি বিন মুর্তজা।

নেটে বল করার পর আরেক সিনিয়র খেলোয়াড় মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের সঙ্গে গল্প করছিলেন। এর মধ্যে আটপৌরে পোশাকে অ্যাকাডেমি মাঠে এলেন সাইফউদ্দিন। সিনিয়রদের গল্প শেষ হওয়ার জন্য একটু অপেক্ষা করলেন। তারপর মাশরাফির সঙ্গে একান্তে কী একটু কথা বলে নিলেন। প্রেরণা খুঁজলেন?

হতে পারে। ইদানীং ইনজুরি সাইফউদ্দিনকে যেভাবে ভোগাচ্ছে, তাতে মাশরাফির মতো ইনজুরি সংগ্রামে অভিজ্ঞ কারোরই প্রেরণা দরকার এই অলরাউন্ডারের। নিজে অবশ্য হাসিমুখে বললেন, আপাতত ব্যথা-বেদনাকে পেছনে ফেলে আসতে পেরেছেন। প্রায় পাঁচ মাসের বিরতি শেষ করে উত্তরাঞ্চলের হয়ে বিসিএল খেলার ভেতর দিয়ে মাঠে ফিরেছেন। চিকিত্সকদের বেশ কিছু বাধানিষেধ মেনেই এই ম্যাচে ১৮ ওভার বল করেছেন। নিজে টের পাচ্ছেন এবং চিকিত্সকরাও বলছেন, এখন সীমিত ওভারের ক্রিকেট খেলার জন্য প্রস্তুত আছেন এই অলরাউন্ডার। ফলে ওয়ানডে দলে ডাক পেলে আবার মাঠে নামতে তিনি পুরোপুরি তৈরি।

সাইফউদ্দিনের ক্ষেত্রে চিকিত্সকদের ধারণা, তিনি যে চোটে ভোগেন, এটার উত্স অনেক গভীরে। বোলিং অ্যাকশন ও মাত্রাতিরিক্ত চাপের ফলে এই পিঠেব্যথা বাসা বেঁধেছে তার শরীরে। সর্বশেষ গত বছর নিউজিল্যান্ড সফর থেকে ফিরেছিলেন টেনসি এলবোর সমস্যা নিয়ে। কিন্তু এরপর শুরু হয় এই লাম্বার স্পাইন ফ্যাসেট জয়েন্ট পেইন। এই সমস্যার কারণে বিশ্বকাপে ব্যথানাশক ইনজেকশন নিয়ে খেলেছেন টুর্নামেন্টে ১৩ উইকেট নেওয়া এই বোলার। এরপর দেশে ত্রিদেশীয় টি-টোয়েন্টি খেললেও তারপর থেকে মাঠের বাইরেই আছেন। অবশেষে ব্যথাটা পুরোপুরি ছেড়ে যাওয়ায় গত মাস থেকে অনুশীলনেও ফিরেছেন পুরোদমে।

গতকাল বিসিবির প্রধান চিকিত্সক দেবাশীষ চৌধুরী বলছিলেন, এই সমস্যার সমাধান আসলে দুটো—কাজের চাপ কমানো এবং টেকনিক্যাল দিকটা ঠিক করা। আপাতত কয়েক মাসের বিশ্রাম নিয়ে সুস্থ হয়ে উঠেছেন তিনি। তবে টেকনিক্যাল দিকটা ঠিক না করা হলে আবার ব্যথাটা ফিরে আসার ভয় থেকে যায়, ‘ওর কাজের চাপ আমরা এখন নিয়ন্ত্রণ করতে পারছি। ওকে বলে দেওয়া হয়েছে, সর্বোচ্চ কতোটা বল করতে পারবে বা এসব। কিন্তু টেকনিক্যাল দিক নিয়ে ওকে কোচদের সঙ্গেই কাজ করতে হবে।’

সেই কাজটা সাইফউদ্দিন করেছেন চম্পাকা রামানায়েকের সঙ্গে। সাইফউদ্দিন বলছিলেন, এতে তার ভালো উন্নতি হয়েছে, ‘আমি দেখতে চাচ্ছিলাম, আমার অ্যাকুরেসি আগের মতো আছে কি না। বিসিএলে খেললাম। আমার দিনে সর্বোচ্চ ৮ ওভার বল করার পারমিশন ছিল। সেটার মধ্যেই ভালো জায়গায় বল করতে পেরেছি।’

এখন শরীরে অন্তত কোনো সমস্যা টের পাচ্ছেন না এই পেস বোলিং অলরাউন্ডার। ব্যাট করতে তো সমস্যা নেই-ই। বলও সীমিত ওভারে যে কয় ওভার করতে হয়, সেটা বিনা বাধায় করতে পারছেন। ফিল্ডিংয়েও কোনো সমস্যা নেই। ফলে নিজেকে তৈর বলেই মনে করছেন তিনি।

ওয়ানডে দলে ডাক পাবেন কি না, সেটা তার হাতে নেই। তার পরও বলছিলেন, ‘আমাকে দলে নেওয়া তো নির্বাচকদের ব্যাপার। তবে আমি খেলার জন্য এখন পুরোপুরি প্রস্তুত। আমার দিক থেকে আর কোনো সমস্যা নেই। পুরো সুস্থ হয়ে ফিরব বলেই তো অনেক ক্রিকেট মিস করলাম। এবার ভালোভাবে ফিরতে চাই।’