টেলিভিশন

টিভিতে আমার প্রথম অনুষ্ঠান

আপডেট : ২৪ ডিসেম্বর ২০১৮, ২০:১০

ফেরদৌসী রহমান

 

ওই যে আকাশ নীল হলো আজ

          সে শুধু তোমার প্রেমে

ওই যে বাতাস বাঁশি হলো আজ

          সে শুধু আমার প্রেমে

সোনালি পাড় সবুজ শাড়ি—গায়ে লাল চাদর পরেছি—কপালে টিপ—ডিআইটির ছোট্ট স্টুডিও—চারিদিকে বড় বড় বাতি জ্বলছে—আমার সামনে বড় বড় দুটো ক্যামেরা—যেগুলোকে ডানে বাঁয়ে সামনে পেছনে করা হচ্ছে—পেছনে লাল সবুজ সাদা কাগজ পেঁচিয়ে নেওয়া হয়েছে বড় বড় পাতলা চৌকোনা ফ্রেমের সঙ্গে— সেট করা হয়েছে তাই দিয়ে। আমি হাতে মাইক্রোফোন নিয়ে দাঁড়িয়ে—আমার জীবনে প্রথম টেলিভিশন অনুষ্ঠানে গাইছি। ১৯৬৪ সনের ২৫শে ডিসেম্বর বিকেলে ডিআইটির বাইরে বিরাট সামিয়ানায় তত্কালীন প্রেসিডেন্ট আইয়ুব খান—এদেশের প্রথম টিভি অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করলেন। তারপর স্টুডিওতে সন্ধ্যা সাতটায় প্রথমে গানের অনুষ্ঠান—প্রথমে গাইলাম আবু হেনা মোস্তফা কামালের লেখা এবং আনোয়ারউদ্দীন খানের সুর করা ওপরের গানটি। তারপর গাইলাম একটি ভাওয়াইয়া। আমার হাতের ডানদিকে দূরে ছিল ছোট একটা টেলিভিশন মনিটর, সেটাতে আমি নিজেকে দেখতে পাচ্ছিলাম—গানের ফাঁকে ফাঁকে নিজেকে দেখছিলাম। অপর দিকে যথাসাধ্য চেষ্টা করে চোখ ক্যামেরার দিকে রাখারই চেষ্টা করলাম, যাতে মনে হয়, আমি দর্শক-শ্রোতাদের দিকে তাকিয়েই গান গাইছি। এতোদিন গাইছিলাম বেতারে—যেখানে জানি কোনো দর্শক নেই—শ্রোতাদেরও দেখি না, সুতরাং কপালটা কোঁচকালে ক্ষতি নেই বা গানের ফাঁকে যন্ত্রীদের ইশারা করতে কোনো অসুবিধা নেই—শুধু গানটা ভালো করে গাওয়াই আসল। গাইতাম স্টেজে—যেখানে সামনে দর্শকদের দেখতে পাচ্ছি—সুতরাং গাইবার সাথে সাথে বুঝতে পাচ্ছি, দর্শকদের গান ভালো লাগছে কি না। গাইতাম ছায়াছবিতে—যেখানে আমার গানটিই নায়িকার মুখ থেকে বেরুত। সারা রাত ধরে গানটা যে কত কসরত করে রেকর্ডিং হতো সেটা দর্শক বা শ্রোতারা বুঝতেন না। এই প্রথম এল টেলিভিশন—যেখানে সামনে দর্শকও নেই শ্রোতাও নেই—কিন্তু সব সময় মনে রাখতে হচ্ছে যে, দুটোই সামনে আছে—ওই ক্যামেরার পেছনে। এ এক মজার অনুভূতি।       (অংশ)

সূত্র: বাংলাদেশ টেলিভিশনের ২৫ বছর (১৯৮৯)