একাদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় বছরের প্রথম অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির দেওয়া ভাষণের ওপর আনীত ধন্যবাদ প্রস্তাব নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা শেষে তা সর্বসম্মতক্রমে গ্রহণ করা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার রাতে ঐ প্রস্তাব গ্রহণের পর সংসদ অধিবেশন সমাপ্তি সংক্রান্ত রাষ্ট্রপতির আদেশ পড়ে শোনান স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী।
সংবিধান ও কার্যপ্রণালি বিধি অনুযায়ী একাদশ সংসদদের ৬ষ্ঠ অধিবেশন অর্থাত্ ২০২০ সালের প্রথম অধিবেশনের প্রথম দিনে গত ৯ জানুয়ারি সংসদে ভাষণ দেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। গত ১৪ জানুয়ারি ঐ ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাব উত্থাপন করেন জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূর ই আলম চৌধুরী। এরপর ঐ ধন্যবাদ প্রস্তাবের ওপর সাধারণ আলোচনা শুরু হয়। সরকার ও বিরোধী দলের ২২৭ জন সদস্য প্রায় ৫৫ ঘণ্টা আলোচনা করেন।
এর মধ্যে সরকারি দল ১৪ দলীয় জোটের শরীকসহ ২০১ জন সদস্য অংশ গ্রহণ করেন। শুধু আওয়ামী লীগের ১৯২ জন সংসদ সদস্য আলোচনা করেন। এছাড়া ওয়ার্কার্স পার্টির চার জন, জাসদের দুই জন, বিকল্পধারা বাংলাদেশের একজন, তরিকত ফেডারেশনের একজন, জাতীয় পার্টি জেপি একজন। আর বিরোধী দল জাতীয় পার্টির ১৮ জন, বিএনপির পাঁচ জন, গণফোরামের দুই জন, একজন স্বতন্ত্রসহ মোট ২৬ জন আলোচনা করেন। বিরোধী দলের মধ্যে জাতীয় পার্টি সময় পেয়েছে প্রায় ৯ ঘণ্টা। আর বিএনপির সংসদ সদস্যরা আলোচনা করেছেন প্রায় এক ঘণ্টা।
বছরের প্রথম অধিবেশনের ২৮ কার্যদিবসে সবমিলিয়ে সাতটি বিল পাশ হয়েছে। অধিবেশনে কার্যপ্রণালি বিধির ৭১ বিধিতে ২৩৫টি নোটিশ পাওয়া যায়। এর মধ্যে ১২টি নোটিশ গ্রহণ করা হয়েছে এবং আটটি নোটিশ নিয়ে সংসদে আলোচনা হয়েছে। এছাড়া ৭১ (ক) বিধিতে দুই মিনিট করে আলোচনার নোটিশ ছিল ৬০টি। এবারের অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রীর উত্তরদানের জন্য ১২৪টি প্রশ্ন পাওয়া যায় তার মধ্যে প্রধানমন্ত্রী ৫৫টি প্রশ্নের উত্তর দেন। এছাড়া অন্যান্য মন্ত্রীদের উত্তরদানের জন্য ২ হাজার ৯০২টি প্রশ্ন পাওয়া যায়। এর মধ্যে ২ হাজার ২৩৬টি প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন মন্ত্রিগণ।
সংসদ অধিবেশন সমাপ্তি ঘোষণার আগে স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী মুজিববর্ষ উপলক্ষ্যে আগামী ২২ ও ২৩ মার্চ সংসদের বিশেষ অধিবেশন বসবে বলে জানান। এই অধিবেশনের মতো বিশেষ অধিবেশনও সরকার ও বিরোধী দলের অংশ গ্রহণে প্রাণবন্ত থাকবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।
মুলতুবি প্রস্তাব নাকচ
সংসদের চলতি এই অধিবেশনে সাধারণ আলোচনার জন্য দুইটি প্রস্তাব পাওয়া যায়। প্রস্তাব দুইটি উত্থাপন করেন বিরোধী দল জাতীয় পার্টির (এ) সংসদ সদস্য ডা. রুস্তম আলী ফরাজী। প্রস্তাব দুইটি ছিল ‘করোনা ভাইরাস নিয়ে আশু করণীয়’ ও ‘ঢাকার বায়ু দূষণ রোধ’ প্রসঙ্গে। ঐ বিষয় দুইটি নিয়ে ইতিমধ্যে সরকার পদক্ষেপ গ্রহণ করায় প্রস্তাব দুইটি নাকচ করেন স্পিকার।
