জুয়েলের সাজা খাটছে কাদের!

আপডেট : ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ০১:০৫

দুদকের মামলায় ১০ বছরের সাজা হয়েছে মো. জুয়েল রানার। কিন্তু তার পরিবর্তে আড়াই বছর ধরে সাজা ভোগ করছেন গার্মেন্টস কর্মী মো. আব্দুল কাদের! দুই জনের বাড়ি বরিশালের বাবুগঞ্জের ছাতিয়া গ্রামে। বাবার নাম একই। প্রকৃত অপরাধী জুয়েলের পরিবর্তে নিরপরাধ আরেক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠানোর এই ঘটনা হাইকোর্টের নজরে আনা হয়েছে। বিষয়টি অনুসন্ধান করে দুই সপ্তাহের মধ্যে স্পেশাল ব্রাঞ্চের (এসবি) পুলিশ সুপার, বরিশালের পুলিশ সুপার ও দুদকের লিগ্যাল অ্যান্ড প্রসিকিউশনকে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ সংক্রান্ত জামিন আবেদনের শুনানি নিয়ে বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি কে এম হাফিজুল আলমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ গতকাল মঙ্গলবার এই আদেশ দেন। আদালত বলেন, অভিযোগ যদি সত্য হয় তাহলে এটা আরেকটি জাহালম কাণ্ড হবে।

মামলার এজাহার থেকে জানা যায়, ভুয়া ও জাল নথি দিয়ে ব্যাংক গ্যারান্টার করে ইউসিবিএল ব্যাংকের বংশাল শাখা থেকে ২ কোটি ৬৮ লাখ ৭৪ হাজার ২৭৫ টাকা আত্মসাত্ করা হয়। এ ঘটনায় দুদকের সহকারী পরিচালক মো. আবদুল ওয়াহিদ ২০০৮ সালের ১১ আগস্ট শাহবাগ থানায় মামলা করেন। এ মামলায় জুয়েল রানা ৫ নম্বর এজাহারভুক্ত আসামি। এ মামলায় ২০১৬ সালের ২০ ডিসেম্বর জুয়েলসহ পাঁচ আসামিকে দোষী সাব্যস্ত করে ১০ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড ও ৪০ লাখ টাকা করে অর্থদণ্ড দেয় ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৩। জুয়েল বিচারের শুরু থেকেই পলাতক রয়েছে। ২০১৭ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর জুয়েলের পরিবর্তে কাদেরকে গ্রেফতার করে বরিশাল পুলিশ। এই মামলায় তার পক্ষে জামিন চেয়ে হাইকোর্টে আবেদন করা হয়।

শুনানিতে তার আইনজীবী মোতাহার হোসেন সাজু বলেন, আদালত জুয়েল রানাকে সাজা দিয়েছে। কিন্তু তার পরিবর্তে সাজা খাটছে মো. আবদুল কাদের নামের নিরপরাধ এক ব্যক্তি। তাদের বাবার নাম ও ঠিকানা একই। অতএব কাদেরকে জামিন দেওয়া হোক। এ সময় আব্দুল কাদেরের পক্ষে তার জন্মসনদ, ওয়ারিশ সনদপত্র, এসএসসি ও এইচএসসি সার্টিফিকেট, স্টাম্প ভেন্ডারের সনদ ও গার্মেন্টসে চাকরির প্রত্যয়নপত্র দাখিল করেন ঐ আইনজীবী। আদালত বলেন, বিষয়টি অনুসন্ধানের দাবি রাখে। রাষ্ট্রপক্ষে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এ কে এম আমিনউদ্দিন মানিক বলেন, তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা বের হওয়া দরকার। শুনানি শেষে হাইকোর্ট অনুসন্ধানের নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে আগামী ৫ মার্চ এ বিষয়ে পরবর্তী আদেশের জন্য দিন ধার্য করেন।