রে জা উ ল ক রি ম খো ক ন
শোবিজে কপাল খুলে যাওয়ার ব্যাপারটি অদ্ভুতই বটে। কখন যে কীভাবে হঠাত্ করেই কেউ খ্যাতি ও জনপ্রিয়তার শিখরে পৌঁছে তারকা হিসেবে গণ্য হবেন—তা আগে থেকে বলা মুশকিল। ভূমি পেডনেকারের কথাই ধরা যাক। ২০১৫ সালে ‘ডম লাগাকে হাইসা’ ছবির মাধ্যমে বলিউডে নায়িকা হিসেবে আত্মপ্রকাশের আগে তাকে চিনতো না তেমন কেউ। এর আগে কোনো সুন্দরী প্রতিযোগিতায় প্রতিযোগীরূপে কিংবা ফ্যাশন শো’তে র্যাম্প মডেল হিসেবে অথবা বিজ্ঞাপনে মডেলরূপে ভূমিকে দেখেনি কেউ। তিনি কাজ করতেন বলিউডের বিখ্যাত চলচ্চিত্র প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান ইয়াশরাজ ফিল্মসের অ্যাসিস্ট্যান্ট কাস্টিং ডিরেক্টর হিসেবে। একটানা ৬ বছর ধরে এ কাজে নিয়োজিত ছিলেন ভূমি। তখনো নায়িকা হিসেবে রূপালি পর্দায় তাকে দেখার কোনো সমম্ভাবনা ছিল না। কিন্তু ইয়াশরাজ ফিল্মসের সিনেমা ‘দম লাগাকে হাইসা’য় গ্রামের এক সাধারণ যুবতী গৃহবধূর ভূমিকায় অনবদ্য অভিনয়ের মাধ্যমে রীতিমতো চমক সৃষ্টি করেন ভূমি পেডনেকার। অভিনীত চরিত্রটিকে পর্দায় বাস্তবসম্মত করে তুলতে তাকে শরীরের ওজন বাড়াতে হয়েছিল অনেকটাই। গ্ল্যামারাস সাজসজ্জার ধারে-কাছে না গিয়ে অতি সাদামাটা গ্রামের এক স্কুলশিক্ষিকার চরিত্রে নিজেকে বিশ্বাসযোগ্য করে তুলতে তার কার্পণ্য ছিল না। সব মিলিয়ে দর্শকপ্রিয় সিনেমাটিতে এক ধরনের বিস্ময় হিসেবে আবির্ভূত হয়েছিলেন ভূমি। ‘দম লাগাকে হাইসা’ ছবিতে নতুন মুখের অভিনেত্রী হিসেবে চমত্কার অভিনয়ের জন্য ফিল্মফেয়ারসহ আরো অনেকগুলো প্রেস্টিজিয়াস অ্যাওয়ার্ড জিতে নিয়েছিলেন তিনি। বলিউডে যেখানে গ্ল্যামারাস আবেদনময় ইমেজে দুর্দান্ত ফিগারে প্রথম সিনেমায় উপসিস্থত হয়ে সব নতুন মুখই সাড়া জাগাতে পারেন না তেমনভাবে সেখানে স্থুল দেহের গ্রাম্য এক স্কুলশিক্ষিকা গৃহবধূর অতি সাধারণ গেটআপে প্রথম রূপালি পর্দায় উপস্থিত হয়ে চমক সৃষ্টি করাটা ছিল ভূমির অসাধারণ কৃতিত্ব। সেই থেকে সবার মনোযোগ তার দিকে। অবাক ব্যাপার হলো, এরপর যতগুলো সিনেমায় তাকে দেখা গেছে তার প্রায় সবগুলোতেই প্রচলিত ধারার বাইরে ভিন্ন ধরনের কিছুটা চ্যালেঞ্জিং জটিল নারী চরিত্রে রূপদান করেছেন। গত বছর অর্থাত্, ২০১৯ সালে ভূমি অভিনীত বেশ কয়েকটি আলোচিত এবং সাড়া জাগানো সিনেমা মুক্তি পেয়েছে। এর মধ্যে ‘সোনচারিয়া’, ‘সাঁন্দ কী আঁখ’, ‘বালা’, ‘পতি পত্নী আউর ওহ’র কথা বলা যায়। প্রতিটি ছবিতেই তাকে ভিন্ন ধাঁচের রোলে চমত্কার অভিনয় করতে দেখা গেছে। ভূমি পেডনেকার তার যোগ্যতার প্রমাণ দিয়ে চলেছেন অভিনীত ছবিগুলোতে। ৩০ বছর বয়সী এই অভিনেত্রীকে এছাড়াও ‘টয়লেট এক প্রেমকথা’, ‘শুভ মঙ্গল সাবধান’, ‘লাস্ট স্টোরিজ’ ছবিগুলোতে দেখা গেছে। এ সপ্তাহে ভূমি অভিনীত দুটি হিন্দি সিনেমা ‘ভূত-পার্ট ওয়ান—দ্য হন্টেডশিপ’ এবং ‘শুভ মঙ্গল জেয়াদা সাবধান’ এক সঙ্গে মুক্তি পাচ্ছে। এর মধ্যে একটি হরর থ্রিলার ধাঁচের সিনেমা। অপরটি কমেডি ঘরানার। সব ধরনের সিনেমায় নিজেকে চমত্কারভাবে মানিয়ে নিতে অভ্যস্ত ভূমিকে আগামীতে আরো বেশ কিছু সিনেমায় চ্যালেঞ্জিং অভিনয়ের চমক নিয়ে হাজির হতে দেখা যাবে। এর মধ্যে রয়েছে ‘ডলি কিটি আউর ওহ চমকতে সিতারে’, ‘দুর্গাবতী’, ‘মিস্টার লেলে’, ‘তখত’ প্রভৃতি সিনেমা। সুঅভিনেত্রী হিসেবে তার খ্যাতি ও পরিচিতি ছড়িয়ে পড়ায় বলিউডে গতানুগতিক কমার্শিয়াল ধাঁচের সিনেমার জন্য তাকে যেমন নির্ভরযোগ্য ভাবতে পারছেন নির্মাতারা একইভাবে ব্যতিক্রমধর্মী বিষয়বস্তুর অফট্র্যাকের চরিত্রেরও কাস্ট করতে এগিয়ে আসছেন। ভূমি পেডনেকার কাউকে হতাশ করছেন না। তার পারফরমেন্সে কোনোরকম ঘাটতি কিংবা দুর্বলতা থাকতে দিচ্ছেন না তিনি নিজেই। হিন্দি সিনেমায় তরুণ প্রজন্মের অভিনেত্রীদের মধ্যে মেধাবী যোগ্যতাসম্পন্ন তারকা বিবেচনা করছেন দর্শক-সমালোচক সবাই। একজন কাস্টিং ডিরেক্টর থেকে ব্যস্ত চাহিদাসম্পন্ন অভিনেত্রী হিসেবে ভূমির উত্তরণ বলিউডে সাম্প্রতিক একটি অসাধারণ বিষয় সন্দেহ নেই।
