ইন্টারনেটের ব্যবহার দ্রুত বাড়িতেছে। ইন্টারনেট বলিতে গেলে এখন শিক্ষিত মানুষের ঘরে ঘরে পৌঁছাইয়া গিয়াছে। ইহা এমন এক অন্তর্জাল যাহা পৃথিবীকে নিয়া আসিয়াছে হাতের মুঠায়, পরিণত করিয়াছে গ্লোবাল ভিলেজ বা বৈশ্বিক গ্রামে। ইন্টারনেটের বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনকারী আমেরিকার একজন সফল উদ্যোক্তা জেরি ইয়াং সমপ্রতি কিছু গুরুত্বপূর্ণ কথা বলিয়াছেন— যাহা আমাদের তরুণ উদ্যোক্তাসহ প্রত্যেকের জন্যই কমবেশি অনুসরণযোগ্য। তিনি বলিয়াছেন যে, জীবনে প্রতিষ্ঠা লাভ করিতে হইলে আগে নিজের কাজকে ভালোবাসিতে হইবে।
তরুণ উদ্যোক্তাদের ব্যাপারে তাইওয়ান বংশোদ্ভূত জেরি ইয়াংয়ের বক্তব্য হইল, ‘নিজের চিন্তা নিয়ে এগিয়ে যেতে ভয় পেয়ো না। তোমাকে অবশ্যই ভালোবাসতে হবে যেখানে শেষ করতে চাও সেই গন্তব্যস্থলকে।’ এখানে একাগ্রতা ও অধ্যবসায়ের গুরুত্ব বুঝিতে পারি আমরা। আবার তিনি বলেন, ‘ বের হয়ে পৃথিবীটা দেখ, যতটুকু তুমি চেন তার চেয়ে বেশি ভূমিতে নিজের পদচিহ্ন অঙ্কন কর’। এখানে ভ্রমণের এবং বিশ্বজগতকে সম্যকভাবে চেনার প্রয়োজনীয়তার কথা বলা হইয়াছে। এমনকি সাফল্য লাভে অধিক সংখ্যক মানুষের নাম জানিয়া রাখাটাও অত্যন্ত তাত্পর্যপূর্ণ। তাহাছাড়া জীবনে তাড়াহুড়া করিবার কিছু নাই। সঠিক সময়ে নিজের দায়িত্বটা সঠিকভাবে পালন করাই হইল বড় কথা। ইয়ংয়ের মতে, ‘ সময় দাও, শেখ এবং প্রত্যেক কাজ থেকে নতুন কিছু উপভোগ কর। এ শিক্ষা কাজে লাগাও এবং আরো বিস্তৃত করে ছড়িয়ে দাও, যাতে অন্যরা তোমার বিজ্ঞতা থেকে লাভবান হতে পারে।’ অর্থাত্ আমরা যাহা কিছু করি না কেন, তাহার মূল লক্ষ্য হইতে হইবে মানবকল্যাণ। এইজন্য নিত্যনূতন জ্ঞান অনুসন্ধানে নিজেকে ব্যাপৃত রাখিতে হইবে। নিজের কাজটাকে নিতে হইবে আনন্দের অনুষঙ্গ হিসাবে। যে কাজে আনন্দের যোগ নাই, তাহাতে সময় নষ্ট করা নিরর্থক।
এখানে সাফল্যের আরো কিছু সূত্রের কথা আমরা বলিতে পারি। যেমন— সমালোচনাকে বরণ করিয়া নেওয়া, ক্ষমা করিবার মহত্ গুণ অর্জন করা, দায় না চাপাইয়া দায় নেওয়ার চেষ্টা করা, কাউকে পরিহাস না করিয়া উত্সাহ দেওয়া, বিশ্রামে নহে পরিশ্রমের মধ্যে নিজের আনন্দ খুঁজিয়া পাওয়া ইত্যাদি। মোট কথা, বিশ্বের অতীত ও বর্তমানের সকল সফল মানুষের জীবন ও কর্ম আমাদের জীবন চলিবার পথে অসীম উত্সাহ ও উদ্দীপনার উত্স হউক। আর সাফল্যের সর্বাপেক্ষা তাত্পর্যপূর্ণ মন্ত্রটি হইল, আমরা যে যাহাই করি না কেন, নিজের কাজকেই সর্বাগ্রে ভালোবাসিতে হইবে।
