পরীক্ষার্থীরা বিপাকে
বেড়া (পাবনা) সংবাদদাতা
গত ৩ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হয়েছে এসএসসি পরীক্ষা। অথচ এই পরীক্ষার মধ্যেও পাবনার বেড়া উপজেলার বিভিন্ন পাড়া-মহল্লায় দিনে-রাতে উচ্চ শব্দে গানবাজনা চলছে। বিয়ে, গায়ে হলুদ, খাত্না, জন্মদিনসহ যে কোনো অনুষ্ঠানে সাউন্ডবক্স ভাড়া করে বাজানো হচ্ছে গান। এতে শুধু এসএসসি পরীক্ষার্থীই নয়, অন্য শ্রেণির শিক্ষার্থীদের পড়াশোনাও মারাত্মক ব্যাহত হচ্ছে। এ ছাড়া শব্দ দূষণের শিকার হয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ছেন অনেকে। কয়েক বছর আগে পৌর এলাকার দক্ষিণ বনগ্রাম মহল্লায় উচ্চশব্দে গান বাজানোর প্রতিবাদ করতে গিয়ে মোয়াজ্জেম হোসেন নামের এক পরিবহন শ্রমিক খুন হন।
এদিকে, এসএসসির ইংরেজি প্রথম পত্রের পরীক্ষার আগের দিন ৫ ফেব্রুয়ারি পৌর এলাকার মৈত্রবাঁধা মহল্লার একটি বাড়িতে উচ্চশব্দে গান বাজানো হয়। পরে এলাকাবাসী একজোট হয়ে বাড়িটিতে গিয়ে প্রতিবাদ জানালে রাত নয়টার দিকে গান বন্ধ করা হয়। এসএসসি পরীক্ষার্থীর অভিভাবক ওয়াহিদুজ্জামান বলেন, ‘আমার মেয়ের মতো হাজারো পরীক্ষার্থীর প্রতিপক্ষ এখন ঐসব সাউন্ডবক্স। এসএসসির মতো এত গুরুত্বপূর্ণ একটি পরীক্ষার মধ্যেও কিছু কাণ্ডজ্ঞানহীন মানুষ উচ্চশব্দে গান বাজাচ্ছে। এটা দেখার কি কেউ নাই?’ মনজুর কাদের মহিলা ডিগ্রি কলেজের ভূগোল বিষয়ের সহকারী অধ্যাপক আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘আমার জানামতে শব্দ দূষণ প্রতিরোধে একটি আইন আছে। অথচ বেড়ায় এই আইনের প্রয়োগ নেই।’ বেড়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মিলন মাহমুদ বলেন, ‘শব্দের মাত্রা ৪৫ ডেসিবল হলেই সাধারণত মানুষ ঘুমাতে পারে না। ৮৫ ডেসিবলে শ্রবণশক্তি ক্ষতিগ্রস্ত হতে শুরু করে এবং ১২০ ডেসিবলে কানে ব্যথা শুরু হয়। বেড়ায় উচ্চশব্দে গান বাজানোর বিষয়টি মারাত্মক পর্যায়ের একটি শব্দ দূষণ।’ বেড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আসিফ আনাম সিদ্দিকী বলেন, ‘উচ্চশব্দে মাইক বা সাউন্ডবক্স বাজানো নিষিদ্ধ। এর আগে এ ব্যাপারে অভিযান চালিয়ে জড়িতদের শাস্তি দিয়েছি। তবে সম্প্রতি এ সংক্রান্ত কোনো অভিযোগ আমার কাছে আসেনি। এর পরেও এ ব্যাপারে খোঁজ নিয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা নেব।’
