বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে শিক্ষক নিয়োগের উদ্দেশ্যে এনটিআরসিএ (বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ) কর্তৃক সম্প্রতি গণবিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে। প্রায় ৪০ হাজার শিক্ষক (১-১৪ তম নিবন্ধনের) নিয়োগের গণবিজ্ঞপ্তি নিবন্ধনধারীদের যতটা না খুশি করেছিল; তার চেয়ে দ্বিগুণ হতাশ করেছে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় আবেদনের শর্ত। গত ১৯ ডিসেম্বর থেকে শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়ায় আবেদন শুরু হয়েছে। আবেদনে কোনো উপজেলা, জেলা ভিত্তিক কোনো নিয়োগের কথা বলা হয়নি। সব নিবন্ধনধারী শূন্য পদ সাপেক্ষে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আবেদন করতে পারবে। এতে করে নিয়োগ পেতে প্রত্যেক নিয়োগপ্রার্থীর প্রতিষ্ঠানভেদে আবেদন করতে হাজার হাজার টাকা খরচ হবে! যেমন সমাজবিজ্ঞান বিষয়ে একজন কলেজ নিবন্ধনধারীর মেধা তালিকায় সিরিয়াল হলো ১৯৩। ধরলাম, সারা দেশের বেসরকারি কলেজসমূহে সমাজবিজ্ঞানে শূন্য পদ আছে ২০২টি। তাহলে নিয়োগ নিশ্চিত করার জন্য তাকে কতটি পদে আবেদন করতে হবে চিন্তা করা যায় (সাধারণভাবে যেখানে একটি আবেদন করলে তার হয়ে যেত, সেখানে প্রতিষ্ঠানভিত্তিক আবেদনে অসংখ্য আবেদন না করলে তার নিয়োগের নিশ্চয়তা থাকবে না)! সংশ্লিষ্ট সব বিষয়ের নিয়োগপ্রত্যাশী প্রায় প্রত্যেক স্কুল-কলেজ নিবন্ধনধারীকে প্রত্যেকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আবেদন করতে ১৮০ টাকা ফি দিতে হবে। ফলে এনটিআরসিএ-র এই নিয়োগ প্রক্রিয়ার ফাঁদে পড়ে নিয়োগ প্রত্যাশীদের হাজার হাজার টাকা ফি দিতে হবে। আবার প্রতিষ্ঠানভিত্তিক আবেদনে দেখা যাবে কোনো কোনো প্রতিষ্ঠানে অনেকে ৬০ নম্বর পেয়ে নিয়োগ পেয়ে গেছেন, অন্যদিকে কোনো প্রতিষ্ঠানে ৮০ পেয়েও নিয়োগ হয়নি! তাহলে জাতীয় মেধা তালিকা সঠিক মূল্যায়ন হলো কি?
অন্য আর একটি সমস্যা হলো, আবেদনে নতুন শর্ত হিসেবে ৩৫ প্লাস বয়সধারীদের অযোগ্য ঘোষণা করা হয়েছে। তাদের দোষটা কী? চলমান নিয়োগ প্রক্রিয়া সংশোধন করে প্রতিষ্ঠানভিত্তিক নয়, বিষয়ভিত্তিক একটি আবেদনের ভিত্তিতে মেধা তালিকা অনুসারে অতি দ্রুত নিয়োগের ব্যবস্থা করা হোক।
সাধন সরকার
ছাত্র, ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগ
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা
