চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় খালেদা জিয়ার জামিন শুনানি রবিবার

আপডেট : ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ০০:২৫

জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার জামিন আবেদনের ওপর শুনানি আগামী রবিবার অনুষ্ঠিত হবে। তার আইনজীবীদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিচারপতি ওবায়দুল হাসান ও বিচারপতি একেএম জহিরুল হকের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ গতকাল বুধবার শুনানির এই দিন ধার্য করেন। মঙ্গলবার হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় জামিন আবেদনটি দাখিল করেন খালেদা জিয়ার আইনজীবী সগীর হোসেন লিয়ন। ঐ আবেদনে বলা হয়, গত দুই বছর ধরে কারাগারে আছেন খালেদা জিয়া। তিনি তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও একজন বয়স্ক নারী। দিনের পর দিন তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হচ্ছে। অন্যের সাহায্য ছাড়া তিনি চলাফেরা করতে পারেন না। এমনকি নিজে কোনো খাবার ও অন্যের সহযোগিতা ছাড়া ওষুধও গ্রহণ করতে পারেন না। এ কারণে যুক্তরাজ্যের মতো দেশে অ্যাডভান্স ট্রিটমেন্ট নেওয়ার প্রয়োজন। এ জন্য মানবিক কারণে তিনি হাইকোর্টে জামিনের আবেদন করেছেন।

গতকাল জামিন আবেদনের ওপর শুনানির দিন ধার্যের আবেদন জানান খালেদা জিয়ার অন্যতম আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন। তখন বেঞ্চের জ্যেষ্ঠ বিচারপতি ওবায়দুল হাসান বলেন, আমরা আগে কী এই মামলাটি শুনেছি? খন্দকার মাহবুব বলেন, আপনারা শুনেছেন। এটা চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলা। বিচারপতি বলেন, আমরা তো আবেদনটি খারিজ করেছিলাম। আপিল বিভাগ ঐ আদেশ বহাল রেখেছে। আইনজীবী খন্দকার মাহবুব বলেন, আমরা নতুন গ্রাউন্ডে জামিন চেয়ে আবেদন করেছি। আপিল বিচারাধীন থাকাবস্থায় পুনরায় জামিন চাইতে আইনগত কোনো বাধা নেই। তখন বিচারপতি ওবায়দুল হাসান বলেন, আবেদন দিন রবিবার শুনানির জন্য কার্যতালিকায় আসবে। এ সময় খালেদা জিয়ার পক্ষে আইনজীবী জয়নুল আবেদীন, কায়সার কামাল, রুহুল কুদ্দুস কাজল এবং দুদকের পক্ষে খুরশীদ আলম খান উপস্থিত ছিলেন।

জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় সাত বছরের সাজার রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেন খালেদা জিয়া। ঐ আপিল বিচারাধীন থাকাবস্থায় গত বছরের ৩১ জুলাই খালেদা জিয়ার জামিন আবেদন খারিজ করে দেয় হাইকোর্ট। ঐ আদেশের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে আবেদন করা হয়। গত ১২ ডিসেম্বর প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ হাইকোর্টের আদেশ বহাল রাখেন। একই সঙ্গে খালেদা জিয়ার সম্মতি পেলে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাকে অ্যাডভান্স ট্রিটমেন্ট দিবে। এদিকে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় দশ বছরের সাজার বিরুদ্ধে আপিল করেছেন খালেদা জিয়া। ঐ আপিলটি আপিল বিভাগের সংশ্লিষ্ট শাখায় দীর্ঘদিন ধরে পড়ে আছে। কিন্তু শুনানির কোনো উদ্যোগ নেননি তার আইনজীবীরা।