উখিয়া-টেকনাফে সরব আওয়ামী লীগ, কৌশলে এগুচ্ছে বিএনপি

আপডেট : ২৪ ডিসেম্বর ২০১৮, ২১:০৬

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন

উখিয়া (কক্সবাজার) সংবাদদাতা

একদিকে সাগর, অন্যদিকে মিয়ানমারের কাঁটাতারের বেড়া। মাঝখানে বিদ্যমান দুটি উপজেলা শহর উখিয়া ও টেকনাফ নিয়ে গঠিত কক্সবাজার-৪ সংসদীয় আসন। এ আসনে বিভিন্ন দলের ৪ জন প্রার্থী প্রচারণা চালিয়ে গেলেও মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে ধানের শীষ ও নৌকা প্রতীকের মধ্যে। অতিউত্সাহী কতিপয় কর্মীর মধ্যে বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনা ঘটলেও নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের মতো কোনো সহিংস ঘটনা ছাড়াই চলছে বড় দু’ দলের নির্বাচনী প্রচারণা। বিপুল উত্সাহ-উদ্দীপনা নিয়ে ভোটাররা অধিক আগ্রহভরে অপেক্ষা করছে ৩০ ডিসেম্বর পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দেওয়ার জন্য।

নির্বাচনী অফিসসূত্রে জানা যায়, ৪৫টি ভোট কেন্দ্র নিয়ে উখিয়া উপজেলার মোট ভোটার সংখ্যা ১ লাখ ২০ হাজার ৩৩৮ জন। ৫৫টি ভোট কেন্দ্র নিয়ে টেকনাফের ভোটার সংখ্যা ২ লাখ ৬৬ হাজার ১৪৬ জন। এ আসনে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী সাবেক সাংসদ ও জেলা বিএনপির সভাপতি শাহজাহান চৌধুরী জানান, তিনি একটি সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠানের আশা নিয়ে এবারের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। কৌশলী প্রচারণার অংশ হিসেবে ২০ দলীয় জোট তথা বিএনপি নেতাকর্মীদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে পথসভা, মিটিং-মিছিল, সভা-সমাবেশ বাদ দিয়ে তারা যেন ভোটারদের ঘরে-ঘরে গিয়ে ধানের শীষের পক্ষে ভোটারদের আকৃষ্ট করার চেষ্টা অব্যাহত রাখেন। তিনি বলেন, নির্বাচনী মাঠে কোনো ধরনের বাক-বিতণ্ডা, তর্ক-বিতর্ক, মারামারি হোক এটা তিনি মোটেই পছন্দ করেন না। ভোটাররা ভোট দিতে পারলে জয়ের ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদী বলে ওই নেতা দাবি করেন।

নির্বাচন বিশ্লেষকরা মনে করছেন, আওয়ামী লীগের প্রার্থী শাহিন চৌধুরী যদিওবা টেকনাফের পুত্রবধূ হিসেবে মনোনয়ন পেয়েছেন তথাপি তার ইমেজের কারণে উখিয়াতে প্রভাব পড়েছে বেশি। যেহেতু শাহিন চৌধুরী এমন একজন প্রার্থী বংশমর্যাদা হিসেবে যার কোনো বিকল্প নেই। তিনি উখিয়া উপজেলার সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ও বঙ্গমাতা মহিলা কলেজের প্রতিষ্ঠাতা মরহুম নুরুল ইসলাম চৌধুরীর মেয়ে। কক্সবাজার জেলা পরিষদের সদস্য হুমায়ুন কবির চৌধুরীর ছোট বোন। উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও রাজাপালং ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর কবির চৌধুরীর বড় বোন। সে হিসাবে নির্বাচনী এলাকা উখিয়া-টেকনাফে নৌকা মার্কা প্রতীক নিয়ে শাহিন চৌধুরীর সমর্থক নেতা-কর্মীরা সভা-সমাবেশ মিটিং-মিছিল নিয়ে নির্বাচনী মাঠে সরব।

এ প্রসঙ্গে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির চৌধুরী বলেন, উন্নয়নের মার্কা নৌকা প্রতীকে বিজয় হয়ে এর আগে আওয়ামী লীগ গণমানুষের দিন বদল ও ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তা বাস্তবায়ন করেছে। এবারের নির্বাচনে নেত্রী ঘোষণা দিয়েছেন আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় গেলে বাংলাদেশের সব গ্রামের মানুষ শহরের সুযোগ-সুবিধা ভোগ করতে পারবে। আগামী ৫ বছরে সে লক্ষ্য নিয়ে কাজ করবে সরকার।