আমরা অপসংস্কৃতিতে ডুবে যাই

আপডেট : ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ২০:০৮

১৯৫২ সালের একুশে ফেব্রুয়ারির আগের দিন ২০ তারিখ আমি বেগমবাজার আমার পিতার বাসায় থাকি। চকবাজারের মোড়ে তখন একটা বিরাট বটগাছ ছিল। জেলখানার সামনেও একটা বিরাট বটগাছ ছিল। চকবাজার মোড়ে যে বিরাট বটগাছ, তার পাশেই ছিল মোমিন কোম্পানির সব বাস আর ট্যাক্সিগুলো। বটগাছের নিচে বসতো মাঠাওয়ালারা। বটপাতার মধ্যে ননি দিত। আমি ছাত্র ইউনিয়নের প্রথম সভাপতি মোহাম্মদ সুলতানের এক লেখায় পড়েছি, বিশ্ববিদ্যালয়ের বেলতলায় যে বক্তৃতা হয়েছিল সেখানে একুশে ফেব্রুয়ারির দিন ধার্য করা হয়, যেখানে আমিও নাকি বক্তৃতা দিয়েছি। কিন্তু আমার কাছে কোনো ডকুমেন্ট নাই। ২১ তারিখে ছাত্রধর্মঘট। ভ্যানে পুলিশ মাইকে অ্যানাউন্স করল—আগামীকাল ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে। কোনোরকম সমাবেশ করা যাবে না। তখন জাতীয় জাদুঘর ছিল নিমতলিতে, এখন যেখানে এশিয়াটিক সোসাইটি। সেখানে ঢাকা আর্ট গ্রুপের দ্বিতীয় বার্ষিক চিত্রপ্রদর্শনী হওয়ার কথা। সেই প্রদর্শনী ওপেনিং করার কথা পূর্ব পাকিস্তানের গভর্নর মালিক ফিরোজ খান নূনের স্ত্রী লেডি ভিকারুননিসা নূনের। যাঁর নামে ভিকারুননিসা নূন স্কুল। আমার এখনো মনে পড়ে—এক্সিবিশনটা একুশ তারিখে ওপেন হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু আমিনুল ইসলাম  বলছে ২২ তারিখ। ১৯৫৩ সালে হাসান হাফিজুর সম্পাদিত ‘একুশে ফেব্রুয়ারী’ নামে যে সংকলনটি সেখানে একুশে ফ্রেব্রুয়ারির ওপর আমার একটি লিনোকাট আছে। এটি কিন্তু ভাষা আন্দোলনের ওপর প্রকাশিত প্রথম শিল্পকর্ম। অনেকেই দাবি করে তারা এঁকেছে। কিন্তু তার প্রকাশনা আমাকে দেখাতে পারেনি। আরো সেখানে ছিল আমার একটি লেখা ‘একটি বেওয়ারিশ ডায়েরির কয়েটি পাতা’। সেটি ছিল একজন শিল্পীর কথা। সেখানে ২০ ফেব্রুয়ারি রাত, ২১ এবং ২২ তারিখের ঘটনাটা আমি লিপিবদ্ধ করেছি। ২১ তারিখ আমতলায় কে কী বলেছে, কী ঘটেছে একেবারে হুবহু লেখা। সেখানে কিন্তু আমি লিখেছি আমাদের চিত্রপ্রদর্শনী হওয়ার কথা। তখন তো আমার স্মৃতি অনেক প্রখর ছিল। বায়ান্ন সালের পর তেপান্ন সালে লেখা।

তখন মেডিক্যালের উত্তর দিকের অংশ ছিল বিশ্ববিদ্যালয়ের, বাকিটা ছিল ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ। প্রথমে পুরো বিল্ডিংটাই ছিল বিশ্ববিদ্যালয়ের। দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের সময় পূর্বাঞ্চলের আহতদের জন্য এই হাসপাতাল হয়। আর ব্যারাকগুলো হয়। যেখানে এখন শহিদ মিনার ওখানে তখন ব্যারাক ছিল। ওখানে ব্রিটিশ সৈন্যরা, কর্মচারীরা, যারা হাসপাতালের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ছিল, তারা থাকত। পাকিস্তান হওয়ার পর উত্তর দিকে একটু বাদ দিয়ে বাকিটা মেডিক্যাল কলেজ হয়ে যায়। মেডিক্যাল কলেজ হওয়ার পর ব্যরাকগুলোতে ছাত্ররা থাকত। তার আগে এই জায়গাটায় নানা গাছ-গাছালি ছিল। আম বাগান, নানা রকম গাছ ছিল। সেখানে এক ফকির ধুতি-নেংটি পরা, মাথায় বড়ো টিকি। হাতে অনেকগুলো লোহার বালা, একটা লাঠি। তার গায়ের রং কুচকুচে কালো এবং সারা গায়ে তেল মাখা থাকত। এজন্য তার নাম ছিল তেলি শাহ্। তখন ঢাকায় ঘোড়দৌড় হতো। তার কাছে লোকজন আসত কোন ঘোড়া জিতবে তা জানার জন্য। পরবর্তী সময়ে যখন হাসপাতালে রূপান্তরিত হয়ে গেল তখন গাছগুলো কেটে ব্যারাক হয়ে গেল, হাসপাতালের কর্মচারীদের থাকার জায়গা। পরে সেটা মেডিক্যাল কলেজের ছাত্রবাস হলো।

২১ তারিখ মেডিক্যালের উত্তর দিকের অংশে যখন পুলিশের সঙ্গে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া হচ্ছে, আমরা তখন বেরুবার চেষ্টা করছি। পুলিশ টিয়ারগ্যাস ফেলছে। তখন টিয়ারগ্যাসের সঙ্গে আমরা পরিচিত ছিলাম না। সবার কাশি হচ্ছে। ওখানে একটা পুকুর ছিল। যাদের রুমাল ছিল তারা রুমাল ভিজিয়ে নিয়েছে। যাদের রুমাল নেই তারা শার্ট ছিঁড়ে টুকরো টুকরো করে পানিতে ভিজিয়ে বিতরণ করছে। তখন মেডিক্যাল কলেজ আর বিশ্ববিদ্যালয়ের মাঝখানে লোহার মোটা লম্বা লম্বা শিকের প্রাচীর ছিল। সেখান থেকে চার/পাঁচ ফুটের মতো একটা অংশ ভাঙা হয়। সেই ভাঙা জায়গা দিয়ে ছাত্ররা মেডিক্যাল কলেজের ব্যারাকে আসে, এখন যেখানে শহিদ মিনার সেখানে। মেডিক্যাল কলেজের ব্যারাকে আসার কারণ তখন প্রভিনশিয়াল অ্যাসেম্বেলি চলছিল, সেখানে রাষ্ট্রভাষার জন্য স্মারকলিপি দেওয়ার কথা। আমি গাজীউল হকের লেখায় পড়েছি—এই প্রাচীরটি ভাঙার নির্দেশ নাকি দিয়েছিলেন আমার পিতা ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ। আমি তখন সেখানে ছিলাম, কিন্তু আমি শুনিনি। রাস্তা দিয়ে তখন যাওয়া যাচ্ছিল না। সে কারণে এখান দিয়ে যাওয়া হয়েছে। ওখানে আমরা বসে আছি, থমথমে ভাব। পুলিশ তাড়া করছে রাস্তা থেকে। আবার দৌড়ে ভেতরে আসছি। হঠাত্ আমি দেখলাম পুলিশ হাত দিয়ে ডাকছে, ভাবটা এমন যে—আপনাদের কী বলার আছে, বলেন। এ সময় গুলির শব্দ। ভয়ার্ত পাখি যেমন উড়ে যায়, ঠিক সে রকম আমরা ছুটতে শুরু করলাম। কিছুক্ষণ পর এসে আবার বসলাম। তখনও কিন্তু আহত কাউকে দেখিনি। আমরা নিজেদের মধ্যে হাসাহাসি করছি যে—আমাদের ভয় দেখাচ্ছে। আমার সঙ্গে হাসান হাফিজুর রহমান বসে ছিল। হঠাত্ আমি দেখি মেডিক্যাল কলেজ আর ছাত্রাবাসের দক্ষিণে একটা প্রাচীরের মতো, সেখানে একটা চলন্ত জটলার মতো। পিঁপড়ে যেমন শস্যদানা নিয়ে এগোয়, সে রকম। আমি দৌড়ে গেলাম সেখানে। গিয়ে দেখলাম শ্যাম বর্ণের একজন লম্বা যুবক। দাড়ি-গোঁফ কামানো। শার্টটা প্যান্টের ভেতর গোঁজা। কল খুলে দিলে যেভাবে পানি পড়ে, সেভাবে তার শরীরের নিচ থেকে রক্ত ঝড়ছে। তার মুখে বৃষ্টির ফোঁটার মতো ঘাম। কাটা মুরগির মতো জিভটা বের করে বলছে—পানি পানি। আমি অন্যদের সঙ্গে তাকে ধরেছি। অন্যরা অনেক লম্বা, আমি খুব খাটো। অতএব আমার মাথাটা তার বুকের কাছে। তখন আমার হাতে টিয়ারগ্যাস থেকে বাঁচার জন্য যে রুমালটায় পানিও আছে, আমার ঘামও আছে, আমি ইতস্তত করলাম এটা নিংড়ে দেবো কি না। তার আকুলতা দেখে আমি আর থাকতে পারলাম না। আমি তখন আমার রুমালটা নিংড়ে দিলাম তার জিভে। সে তখন বলল—আমার নাম আবুল বরকত। আমার বাসায় খবর দিয়েন। বিষ্ণুপ্রিয়া ভবন, পল্টন লাইন। তাকে নিয়ে যখন ইমার্জেন্সিতে ঢুকলাম। তখন ইমার্জেন্সিতে বেশির ভাগই ছিল টিয়ারগ্যাস ও লাঠিচার্জে আহতরা। আবুল বরকত হলো প্রথম গুলিবিদ্ধ। ওকে দেখে যারা আহত ছিল তারা বলল, ওনাকে দেখেন, ওনাকে দেখেন। আবুল বরকতকে রাখার পরই স্টেচারে একটা লাশ এল। তার মাথার খুলিটা নাই। মগজটা বোধ হয় শুকনো ঘাসে পড়েছিল। সেটা তুলে আবার মাথার কাছে স্টেচারে সযত্নে রাখা। তারপর আরেক জন এল। তার ডান বা বাম পায়ের গোড়ালিটা ফাটা বাঁশের মতো হা করা। আমার সঙ্গে তখন অলি আহাদের দেখা। আমি অলি আহাদকে ওর নামটা বললাম—আবুল বরকত। তারপর ছুটে এলাম নিমতলিতে আমাদের আর্ট এক্সিবিশন বন্ধ করার জন্য। জয়নুল আবেদিন তখন লন্ডনে। আমি নাম বলব না, তখন যারা শিক্ষকবৃন্দ ছিলেন তাদের মধ্যে কেউ কেউ বললেন, যেহেতু লেডি নুন ওপেন করবেন, অতএব এক্সিবিশন ওপেন করে বন্ধ করে দেওয়া হোক। আমি রাজি হলাম না। আমি তখন সেকেন্ড ইয়ারে পড়ি। আমি বললাম, তাইলে আমার ছবি আমি রাখব না। তখন আমার পিছে পিছে কাইয়ুম চৌধুরী, বিজন চৌধুরী, রশিদ চৌধুরীসহ আরো কয়েকজন গেল। সেই অবস্থায় আমার জামায় রক্ত। তখন কামরুল হাসান, আবদুর রাজ্জাককে তারা বলল, ওকে বাসায় পৌঁছে দাও। আমাকে যখন রিকশা করে নিয়ে যাচ্ছে তখন ঢাকার লোকজন জানতে চাইছে, গুলি নাকি চালিয়েছে? আমি বরকতের রক্তে ভেজা আমার জামা দেখালাম। ১৯৫২ সালে ২১ শে ফেব্রুয়ারির আগ পর্যন্ত ঢাকার স্থানীয় জনগণ ছিল মুসলমান, কিন্তু ২১ শে ফেব্রুয়ারির গুলি চলার পর তাদের ভেতরে বাঙালিসত্তা জেগে ওঠে—যার সর্বশেষ পরিণতি ৭১ সালে বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের ভেতর দিয়ে। তারপর আবার ঘুরে দাঁড়াল। বাসায় আসার পর নিচের তলায় আমার মা দেখে বললেন, যা তোর বাবার কাছে যা, সে তোর অপেক্ষায়। আমি দোতলায় উঠতেই আমার বাবা অত্যন্ত রাগান্বিত হয়ে আমার দিকে এলেন—আমি না বলেছিলাম তুমি বেরোবে না। আমি খুব ধীরগলায় বললাম, আমাকে দেখেন। তখন তিনি দেখলেন আমার সারা শরীরে রক্ত। বললেন, গুলি করেছে? আমি বললাম, হ্যাঁ। তখন বাবা আমাকে বললেন, আমার কালো আচকানটা কোথায়? আমার বাবা প্রতি মাসে মফস্বলে যেতেন বলে একটা চামড়ার ছোট সুটকেস ছিল। সেটায় করে কিছু কাপড়চোপড় নিয়ে যেতেন। আমার মা ওই সুটকেসটা খুললেন। সেখান থেকে কালো আচকান বের করে তাঁর দাড়ি ছাঁটার জন্য যে কাঁচি সেটা আমার হাতে দিলেন। আচকান থেকে এক ফালি কাপড় কেটে নিলেন নিজের হাতে। আমার দিকে ওই কাপড়ের টুকরাটা বাড়িয়ে দিলেন। বললেন, আমার হাতে বেঁধে দাও। তারপর বললেন, ভাষার জন্য যদি তোমার মৃত্যু হতো, তাতেও আমার কোনো আক্ষেপ থাকত না।

এত বছর পর বলব, আমরা একুশের চেতনাকে এখনো প্রতিষ্ঠিত করতে চাই কি না—এ বিষয়ে আমার সন্দেহ আছে। আমার মনে হয় একুশের চেতনা বলতে ‘শোষণহীন সমাজ এবং শ্রেণিসংগ্রামের ভেতর দিয়ে একটি রাষ্ট্র গঠন’ এটাই ছিল মূল কথা। বাহ্যিক দিক থেকে হয়তো ভাষাটা এসেছিল। কিন্তু ভাষাটা ছাপিয়ে যেটা ছিল সেটা হলো এই অঞ্চল অর্থাত্ পূর্ববাংলা আন্দোলনের জন্য সক্রিয় ছিল। কেননা ব্রিটিশ ভারতে বাঙালি মুসলমান শিক্ষা-দীক্ষা সব দিক থেকেই অনেক অনগ্রসর ছিল। ব্যাবসা-বাণিজ্য, চাকরি সব ক্ষেত্রেই ছিল তারা হাতে গোনা কয়েকজন। এ দেশের সাধারণ মানুষ বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলের মানুষ জমিদার-মহাজনের শোষণে জর্জরিত ছিল। বাঙালি মুসলমানের শিক্ষা-দীক্ষায় অনাগ্রহের কারণ হলো তাদের যে রাজত্ব অর্থাত্ মুসলমান বাদশাহদের যে রাজত্ব, ইংরেজরা আসার পর সেটা অধিকার করে নেয়। যার কারণে ইংরেজদের প্রতি একটা বিদ্বেষের ফলে ইংরেজি শিক্ষার প্রতি তাদের অনাগ্রহ ছিল। ফলে বাংলার হিন্দুরা মুসলমানদের থেকে অনেক বেশি অগ্রসর হয়ে গিয়েছিল। পাকিস্তান আন্দোলনে মুসলমানরা মনে করেছিলেন—অনেক বেশি উন্নতি লাভ করবেন। দেখা গেল দেশভাগের আগে সরকারি চাকরি, স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক, উকিল-মোক্তার মুসলমান ছিল হাতেগোনা। দেশভাগের পর যখন হিন্দুরা ব্যাপকভাবে চলে গেলেন। সেই যে একটা শূন্যতা সৃষ্টি হলো, মুসলমানরা স্কুল-কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক, ডাক্তার-ইঞ্জিনিয়ার, উকিল-মোক্তার হওয়ার সুযোগ পেল। কিন্তু যে স্বপ্ন নিয়ে তারা পাকিস্তান আন্দোলনে জড়িত হয়েছিল, দেখা গেল দেশভাগের পর ভারত থেকে আসা অবাঙালি মুসলমানরা সমস্ত জায়গায় ঢুকে পড়েছে। ফলে যে স্বপ্ন ছিল —পাকিস্তান হলে তাদের ভাগ্যের পরিবর্তন হবে, সেটি আর হলো না। এরই ফলস্বরূপ হলো ভাষা আন্দোলন। মজাটা হলো, ১৯৫২ সালের একুশে ফেব্রুয়ারির পরে ১৯৫৪ সালে যুক্ত ফ্রন্ট সরকার মুসলিম লীগকে পরাভূত করে এখানে যে সরকার গঠন করল, যার নেতৃত্বে ছিলেন অসম্প্রদায়িক ব্যক্তিবর্গ। তখন এ কে ফজলুল হক ছিলেন প্রধানমন্ত্রী। দুঃখের বিষয় হলো, এঁরা কেউ একুশের চেতনাকে উজ্জীবিত রাখার চেষ্টা করেননি। এই যে একুশের স্মারক কেন্দ্রীয় শহিদ মিনার—এটা যে কী সেটা কেউ জানে না। এর পরিচিতি নিয়ে সেখানে কোনো সাইনবোর্ড নেই। প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের তালিকাভুক্ত পুরাকীর্তির সামনে যেমন একটি সাইনবোর্ড থাকে তার ইতিহাস নিয়ে । একুশে ফেব্রুয়ারিটা কী, এই শহিদ মিনারটা কী এবং কেন—সেটা নিয়ে একটা সাইনবোর্ড থাক উচিত ছিল। তাহলে হতো কি, শহিদ মিনারে যারা যায় তারা একুশের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হতে পারত। কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারকে ঘিরে যে রাস্তা, সে রাস্তার নাম হওয়ার দরকার ছিল একুশে ফেব্রুয়ারি সরণি। তাহলে লোকে জানার চেষ্টা করত একুশে ফেব্রুয়ারি কী। এমনকি একটি বাচ্চা, গৃহহীন যারা ওখানে থাকে তারাও জানত। ফলে একুশের চেতনাটা সুপ্রতিষ্ঠিত হতো। আজকে বলতে লজ্জা লাগে, এই একুশে ফ্রেব্রুয়ারির সাত দিন আগে এবং সাত দিন পরে আমরা বাঙালি হয়ে যাই। একুশে ফ্রেব্রুয়ারির সময় আমরা অপসংস্কৃতিতে ডুবে যাই। একুশের চেতনাকে প্রতিষ্ঠিত করতে হলে আজকে প্রধান কাজ হলো শহিদ মিনারের সামনে একুশের ঘটনার সংক্ষিপ্ত ইতিহাস লিখে একটা সাইনবোর্ড টানানো। শহিদ মিনারের পাশ দিয়ে যে রাস্তা সে রাস্তার নাম একুশে সরণি রাখা দরকার। তাহলেই একুশের চেতনা সমুজ্জ্বল থাকবে, নচেত্ নয়।

 

লেখক :চিত্রশিল্পী, ভাষাসৈনিক