‘বেবি মরিনহো’র জয়

আপডেট : ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ২১:৪৯

জার্মান ক্লাব লিপজিগের কাছে গত বুধবার রাতে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের শেষ ষোলোর লড়াইয়ে নিজ মাঠেই ১-০ গোলে হারল টটেনহ্যাম হটস্পার। গেল আসরের রানার আপ টটেনহ্যামের কোচ হোসে মরিনহো বলেছেন তাদের হারটি ছিল যেন ‘বুলেট ছাড়া বন্দুক নিয়ে লড়াইয়ে যাওয়ার’ মতো।

ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের ক্লাব টটেনহ্যাম তাদের দুই ফরোয়ার্ড হ্যারি কেইন ও সন হিউং-মিনকে ছাড়াই খেলতে নেমেছিল। তার মধ্যে বদলি হিসেবে খেলা এরিক লামেলা ও টেংগুই এনডোম্বেলেও পুরোপুরি খেলার উপযোগী ছিলেন না।

মরিনহো তাই বলেন, ‘আমি সত্যি সংকটে আছি। এটা যদি শুধু এই খেলা নিয়ে হতো তাইলে আমি বলতাম কোনো সমস্যা নেই। কিন্তু আমাদের এফএ কাপ ও প্রিমিয়ার লিগেও খেলা আছে।’

লিপজিগ অবশ্য মাঠের খেলায় স্বাগতিকদের পুরোপুরিই কোণঠাসা করে রেখেছিল। প্রথমার্ধেই অতিথি দলটি টটেনহ্যামের গোলপানে ১২টি শট নেয়। তবে টিমো ওয়ের্নার তাদের গোলটি করেন পেনাল্টি থেকে। চলতি আসরে এটি তার চতুর্থ গোল, মৌসুম জুড়ে ২৬তম। যদিও লামেলা ও এনডোম্বেলে নামার পর টটেনহ্যাম চাপ কমাতে পেরেছিল। তাতে অবশ্য সমতা ফেরেনি। বরং ব্যবধান কম রাখার ক্ষেত্রে গোলরক্ষক লোরিসের ছিল বড়ো অবদান। তিনি গোটা চারেক নিশ্চিতপ্রায় গোল ঠেকিয়ে দেন।

তারপরও আশাবাদী পর্তুগিজ এই কোচ। তিনি বলেন, ‘আমি চিন্তিত নই। ১-০ নিয়েও আমরা সেখানে যেতে পারি এবং জিতব। কিন্তু আমায় যা ভাবায় তা হলো—এই খেলোয়াড়দের নিয়েই পরের খেলাগুলো সামাল দিতে হবে আমাদের।’

জার্মান ক্লাবটির কোচ জুলিয়ান ন্যাজেলসম্যান অবশ্য তার অল্প সময়ের ক্যারিয়ারে এতটা সুনাম কুড়িয়ে ফেলেছেন যে তাকেই এরই মধ্যেই ‘বেবি মরিনহো’ খেতাব দিয়ে ফেলেছে ইউরোপীয় গণমাধ্যম। কিন্তু তিনি এরই মধ্যে তার চাইতে ২৫ বছরের বড়ো আসল মরিনহোর সঙ্গে লড়াইয়েই জিতে গেলেন।

মাঠের বাইরেও মরিনহোর মতোই বিতর্কিত ও আলোচিত মন্তব্যের জন্য বিখ্যাত ন্যাজেলম্যান এই খেলার মধ্য দিয়ে সবচেয়ে কম বয়সি (৩২ বছর ২১১ দিন) হিসেবে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের কোনো নকআউট ম্যাচের দায়িত্ব পালন করলেন।

অপরদিকে মরিনহো এদিন কেবল চতুর্থ কোচ হিসেবে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে ১৫০তম ম্যাচে দায়িত্ব পালন করলেন। অপর তিন জন হলেন স্যার অ্যালেক্স ফার্গুসন, আর্সেন ওয়েঙ্গার ও কার্লো আ্যাানচেলোত্তি। এর মধ্যে প্রাপ্ত জয়ে অ্যানচেলোত্তি (৮৪) মরিনহোর চাইতে এগিয়ে। পর্তুগিজটি জিতেছেন ৮১  খেলায়।

কিন্তু বিপক্ষের মাঠে পরের খেলাটিতে এসব পরিসংখ্যান খুব কমই কাজে আসবে মরিনহোর।