স্পিনকে ভয় পাচ্ছে না জিম্বাবুয়ে

আপডেট : ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ২১:৫০

দেশের মাটিতে যুগ যুগ ধরে বাংলাদেশের বোলিং আক্রমণের মূল অস্ত্র স্পিন। ঘূর্ণি জাদুতে ইংল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়ার মতো বড়ো দলকেও কুপোকাত করেছে বাংলাদেশ। চেনা প্রতিপক্ষ জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে স্পিননির্ভর আক্রমণের চর্চা অনেক বছর ধরে করে আসছে বাংলাদেশ। এবং তাতে সফলতাও মিলেছে।

আগামীকাল শুরু হতে চলা বাংলাদেশ-জিম্বাবুয়ে একমাত্র টেস্টেও একই পথে হাঁটতে পারে স্বাগতিকরা। ১৬ সদস্যের টেস্টের দলে রাখা হয়েছে স্বীকৃত তিন স্পিনার। দলে পাঁচ পেসার থাকলেও বাঁহাতি স্পিনার তাইজুল ইসলাম, অফস্পিনার মেহেদী হাসান মিরাজ-নাঈম হাসানই হতে পারেন ম্যাচে বাংলাদেশের মূল ভরসা। হারের বৃত্ত থেকে বের হয়ে জয়ের স্বস্তি পেতে স্পিনাররাই হবেন মুমিনুলদের তুরুপের তাস।

জিম্বাবুয়ের ব্যাটসম্যানদের স্পিন দুর্বলতা নতুন নয়। বিকেএসপিতে দুই দিনের প্রস্তুতি ম্যাচেও সফরকারী দলের পাঁচ ব্যাটসম্যান আউট হয়েছে স্পিন সামলাতে না পেরে। তাও আল-আমিন জুনিয়র, শাহাদাত হোসেন দিপুর নিরীহ অফস্পিনে।

জিম্বাবুয়ের মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যান সিকান্দার রাজা অবশ্য বাংলাদেশের স্পিন ভালোভাবে সামলানোর আত্মবিশ্বাসই দেখালেন। অভিজ্ঞ এই ব্যাটসম্যানের মতে, আগের মতো স্পিনকে ভয় পাচ্ছে না দলটি। বারবার বাংলাদেশ সফরের মাধ্যমে স্পিন খেলায় উন্নতি এসেছে বলেই দাবি তার।

গতকাল মিরপুর স্টেডিয়ামে ঐচ্ছিক অনুশীলন শেষে সিকান্দার রাজা বলেছেন, ‘যেভাবে প্রস্তুতি নিচ্ছি আমরা, কোনো স্নায়ুর চাপ থাকার কথা না। স্পিনাররা আমাদের বিপক্ষে সবসময়ই ভালো করেছে। বাংলাদেশে নিয়মিত আসার কারণে আমরা বাংলাদেশি ক্রিকেটার থেকে শিখছি। আপনি যতই বলেন স্পিনাররা আমাদের বিপক্ষে অনেক উইকেট নিচ্ছে, আমরাও সময়ের সঙ্গে স্পিনের বিপক্ষে রান করা শুরু করেছি। আমরা গতবার যেই ম্যাচটা জিতেছি, সেটাই আদর্শ উদাহরণ।’

বিকেএসপিতে দুই দিনের প্রস্তুতি ম্যাচ খেলে গতকাল সফরকারীদের বেশিরভাগ ক্রিকেটারই বিশ্রামে ছিলেন। প্রস্তুতি ম্যাচে না খেলা সিকান্দার রাজা, ব্রেন্ডন টেইলররা গতকাল বিসিবি একাডেমি মাঠে ঘাম ঝরিয়েছেন।

২০১৮ সালে সিলেট টেস্টে বাংলাদেশকে হারিয়েছিল জিম্বাবুয়ে। পরে মিরপুরে মুশফিকুর রহিমের ডাবল সেঞ্চুরিতে সিরিজটা ড্র হলেও ঐ জয় আত্মবিশ্বাস যোগাচ্ছে ক্রেইগ আরভিনের দলকে। সম্প্রতি ঘরের মাঠে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে দারুণ লড়াই করেছে জিম্বাবুয়ে। প্রথম টেস্ট হারের পর দ্বিতীয় টেস্ট ড্র করেছে তারা। গোটা পাঁচদিন লড়েছে জিম্বাবুয়ে। লঙ্কানদের বিরুদ্ধে এই পারফরম্যান্স বাংলাদেশ সফরে প্রেরণা যোগাচ্ছে সিকান্দার রাজাদের।

গতকাল তিনি বলেছেন, ‘শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সিরিজটা ভালো কেটেছে আমাদের। ওরা হয়তো প্রথম টেস্ট জিতেছে। কিন্তু ম্যাচটা সহজেই ড্র হতে পারত। আর দ্বিতীয় টেস্ট কাগজে-কলমে ড্র হলেও আমরা জয়ের খুব কাছে ছিলাম। আমরা আত্মবিশ্বাস নিচ্ছি শ্রীলঙ্কা সিরিজ থেকে। খুব দ্রুতই আরেকটি টেস্ট খেলায় আমাদের সুবিধা হবে।’

সাদা পোশাকে দল হিসেবে জিম্বাবুয়ে আগের চেয়ে অনেক শক্তিশালী। মানসিকভাবে ভালো অবস্থানে আছে তারা। দলে এসেছে বেশ কিছু পরিবর্তন। সিকান্দার রাজার ভূমিকা এখন পুরোদস্তুর অলরাউন্ডার। মিডল অর্ডারে ব্যাটিংয়ের সঙ্গে কার্যকর অফস্পিন করেন তিনি। যার ফলে দলগত পারফরম্যান্সে উন্নতি আসছে জিম্বাবুয়ের। গতকাল এই অলরাউন্ডার বলেছেন, ‘মানসিকতার দিক থেকে আমরা উন্নতি করেছি। আমরা এখন আগে থেকে আরো শক্তিশালী।’