ইসলাম মানবতার সামনে মহান আল্লাহর পরিচয় তুলে ধরার পাশাপাশি মহান আল্লাহর নিদর্শনাবলি দেখে তার পরিচয় খুঁজে পেতে বার বার তাগিদ প্রদান করে। তার বাস্তব প্রমাণ ও অকাট্য দলিল হলো আল্লাহর কলামের বানী যেখানে বলা হয়েছে- অর্থাত্ হে মুহাম্মদ (স) আপনি তাদেরকে বলে দিন তোমরা জমিনে ভ্রমণ কর আর মিথ্যাবাদীদের কী পরিণতি হয়েছে তা অবলোকন কর। ইসলামে জ্ঞানার্জনের আবশ্যকতার কারণে যেখানেই জ্ঞানের মত মহামূল্যবান সম্পদ পাওয়া যাবে তা যেন মুনিনেরই বহু আকাঙ্ক্ষিত সম্পদ সেভাবে মুমিন তা আহরণ করবে, তার হিফাজত করবে, তার মাধ্যমে মানবতাকে আলোর পথ দেখাবে। যেমনি আমাদের মহান শিক্ষক রাসুল (স) বলেন, প্রজ্ঞাপূর্ণ কথা মুমিনের হারানো সম্পদ যেখানে সে তা পাবে তা কুড়িয়ে নেবে।
সফর আরবি শব্দ, যার অর্থ হলো দূরে কোথাও যাওয়া। আল কুরআনে এই শব্দটি এভাবে এসেছে সূরা কাহাফের ৬২ নম্বর আয়াতে। এর আরবি প্রতিশব্দ হলো রেহলা যার অর্থ ভ্রমণ করা। এই শব্দটিও আল কুরআনে এসেছে। যিনি ভ্রমণ করেন তাকে বলা হয় মুসাফির। দুনিয়ার সকল মানুষই মুসাফির। কারণ সফর করা ব্যতীত মানুষ থাকতে পারে না। মানুষকে মহান আল্লাহ তাদের খাদ্যের জন্য, ব্যবসাবাণিজ্যের জন্য ও পারস্পরিক যোগাযোগ এবং সম্পর্ক রক্ষা করার জন্য সফর উপযোগী করে সৃষ্টি করেছেন। সমগ্র পৃথিবীর মানুষকে মহান আল্লাহ বিভিন্ন দেশে ভ্রমণ ও পরিভ্রমণ করার নির্দেশের মাধ্যমে পৃথিবীর জানা-অজানা বিষয়সমূহ আয়ত্তে আনার ও জ্ঞান বিজ্ঞানে উন্নতি সাধন করার জন্য তাগিদ দিয়েছেন; পাশাপাশি মহান আল্লাহর ওপর তাদের ইমান যেন আরো দৃঢ় হয় এবং মিথ্যাবাদীদের কঠিন পরিণতি দেখে যেন শিক্ষা নেয়। আদি মানব হতে শুরু করে অপরাপর মানুষ তাদের জানার জন্য এবং রিজিকের তাগিদে দিগন্তের এক প্রান্ত হতে অপর প্রান্ত পর্যন্ত ছুটে চলেছে। আর এই ছুটে চলার মাধ্যমে উঠে এসেছে অতীতে জাতির বিস্ময়কর কত কাহিনি, উঠে এসেছে অতীতের নানা রকমারি আবিষ্কার। মাটির নিচ হতে ভেসে উঠেছে হারানো হাজারো বছরের জাতির ইতিকথা। এমন কথা ও কাহিনীর সারসংক্ষেপ আল কুরআনে অত্যন্ত সুন্দরভাবে চিরন্তন হয়ে আছে। আল্লাহ রাব্বুল আলামিন জাতির ইতিহাস হতে শিক্ষা নেয়ার জন্য সফর করতে বলেছেন। তিনি বলেন মহান আল্লাহর সৃষ্টিরহস্য নিয়ে গবেষণা করার জন্য সফর করতে হবে। কারণ সফর ছাড়া গবেষণা সফল হয় না। মহান আল্লাহ বলেন ‘নিশ্চয়ই আসমান ও জমিনের সৃষ্টিতে, রাত ও দিনের বিবর্তনে এবং নদীতে নৌকাসমূহের চলাচলে মানুষের জন্য কল্যাণ রয়েছে। আর আল্লাহ তা’আলা আকাশ থেকে যে পানি বর্ষণ করেছেন, তা দ্বারা মৃত জমিনকে সজীব করে তুলেছেন এবং তাতে ছড়িয়ে দিয়েছেন সবরকম জীব-জন্তু। আর আবহাওয়া পরিবর্তনে এবং মেঘমালা যা তারই হুকুমের অধীনে আসমান ও জমিনের মাঝে বিচরণ করে, নিশ্চয়ই সে সমস্ত বিষয়ের মাঝে নিদর্শন রয়েছে বুদ্ধিমান সমপ্রদায়ের জন্য’।
—লেখক :শিক্ষার্থী, সরকারি মাদ্রাসা-ই-আলিয়া, ঢাকা
