কালাইয়ে বেশকিছু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নেই শহিদ মিনার

আপডেট : ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ২১:৫৭

আজ ২১শে ফেব্রুয়ারি মহান ভাষা দিবস। অথচ জয়পুরহাটের কালাই উপজেলার অধিকাংশ সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে নেই শহিদ মিনার। ফলে এ দিবসটি বাদেও অন্যান্য দিবসের তাত্পর্য, ইতিহাস এবং এর গুরুত্ব সম্পর্কে ধারণা ও জ্ঞান লাভ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে সাধারণ শিক্ষার্থীরা। জানা যায়, সরকারি তহবিলের অভাব অন্যদিকে সংশ্লিষ্ট নিজ নিজ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান ও ম্যানেজিং কমিটির সভাপতির অবহেলার কারণে ঐ সব প্রতিষ্ঠানে আজও নির্মাণ করা হয়নি শহিদ মিনার।

উপজেলার প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, পৌরসভাসহ উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নে সব মিলে প্রায় ১৬০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ১২৭টিতে নেই কোনো শহিদ মিনার। মাত্র ৩৩টি প্রতিষ্ঠানে শহিদ মিনার আছে। প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সরকারি অথবা প্রতিষ্ঠানের উদ্যোগে শহিদ মিনার নির্মাণ করার নির্দেশ থাকলেও তা আজও বাস্তবায়ন করা হয়নি। অন্যদিকে উপজেলার কিছু কিছু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মহান বিজয় দিবস, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ও স্বাধীনতা দিবস পালিত হলেও অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ঐ সব দিবসের কোনো গুরুত্বপূর্ণ দিক বা তাত্পর্য তুলে ধরা হয় না, এমনও অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে কালাই উপজেলার বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যক্ষ মুনীশ চৌধুরী বলেন, যেসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শহিদ মিনার নেই, সেই সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস, স্বাধীনতা দিবস ও মহান বিজয় দিবস সম্পর্কে প্রকৃত ইতিহাস ও গুরুত্ব সম্পর্কে জ্ঞান লাভ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

এ বিষয়ে কালাই উপজেলার শিক্ষা অফিসার মোছা. ইতিয়ারা পারভীন বলেন, এলাকার প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শহিদ মিনা নির্মাণের জন্য তাগিদ দেওয়া হয়েছে। যাতে করে আগামীতে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শহিদ মিনার স্থাপন করা হয়। কালাই উপজেলার মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার কাজী মো. মনোয়ারুল হাসান বলেন, আজ পর্যন্ত কেন শহিদ মিনার তৈরি করা হয়নি ঐ সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান ও ম্যানেজিং কমিটির সভাপতিরা ভালো জানেন। শহিদ মিনার স্থাপনের বিষয়ে কালাই উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. মোবারক হোসেন পারভেজ বলেন, বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবর্ষ উপলক্ষ্যে উপজেলার সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শহিদ মিনার নির্মাণ করা হবে।