তিন মাসে ২ হাজার কোটি টাকা দেওয়ার কথা থাকলেও একটি টাকাও বিটিআরসিকে দেয়নি গ্রামীণফোন (জিপি)। টাকা না দিয়ে আপিল বিভাগের আদেশ পুনর্বিবেচনা চেয়ে রিভিউ আবেদন করে প্রতিষ্ঠানটি। ঐ আবেদনের শুনানি নিয়ে আপিল বিভাগ আগামী সোমবারের মধ্যে গ্রাামীণফোনকে ১ হাজার কোটি টাকা প্রদানের নির্দেশ দিয়েছে। প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ গতকাল বৃহস্পতিবার এই আদেশ দেয়। আদালত বলে, আগে টাকা দিয়ে আসুন। সোমবার পরবর্তী আদেশ দেওয়া হবে।
আদালতে জিপির পক্ষে আইনজীবী এ এম আমিন উদ্দিন ও মেহেদী হাসান চৌধুরী এবং বিটিআরসির পক্ষে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম ও খন্দকার রেজা-ই-রাকিব শুনানি করেন। মেহেদী হাসান চৌধুরী সাংবাদিকদের বলেন, অডিটে রবির ক্ষেত্রে সিম্পল ইন্টারেস্ট ক্যালকুলেট করা হয়েছে। জিপির ক্ষেত্রে কম্পাউন্ড ইন্টারেস্ট সিস্টেমে করা হয়েছে। সোমবারের মধ্যে ১ হাজার কোটি টাকা দেওয়ার আদেশের বিষয়টি এখন কোম্পানিকে জানাব। আদালত বলেছে, আদেশ অনুসারে অবশ্যই ২ হাজার কোটি টাকা দিতে হবে। আমরা বলার চেষ্টা করেছি, কোম্পানির অ্যাবিলিটি তো থাকতে হবে। গ্রামীণফোন একটা শেয়ার মার্কেট লিস্টেড কোম্পানি। ৫০০ কোটি টাকা এক মাসে দেবে। বাকিটা ছয় মাসে ইক্যুয়েলি দেবে। কিন্তু আদালত সেটা গ্রহণ করেনি বলে তিনি জানান। এই আদেশের পর গ্রামীণফোনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তাদের গণমাধ্যম শাখা থেকে জানানো হয়, ‘আপিল বিভাগের আদেশের বিষয়ে আমরা অবগত। রিভিউ পিটিশনের মাধ্যমে আমরা প্রত্যাশিত ফল পাইনি। এই মুহূর্তে আমাদের কোনো মন্তব্য নেই।’
প্রসঙ্গত, গ্রামীণফোনের নিরীক্ষা প্রতিবেদনে নানা অসংগতি পাওয়ায় বিটিআরসি তাদের কাছে ১২ হাজার ৫৮০ কোটি টাকা দাবি করে। গত বছরের ২ এপ্রিল দাবিকৃত টাকা দেওয়ার জন্য জিপিকে চিঠি দেয় সংস্থাটি। ঐ চিঠির বিষয়ে নিম্ন আদালতে টাইটেল স্যুট (মামলা) করে জিপি। একই সঙ্গে ঐ মামলা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত অর্থ আদায়ের ওপর অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা চাওয়া হয়। ২৮ আগস্ট নিম্ন আদালত অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার আবেদন খারিজ করে দিলে ঐ আদেশের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে যায় তারা। গত বছরের ১৭ অক্টোবর আদালত আপিলটি শুনানির জন্য গ্রহণ করে টাকা আদায়ের ওপর দুই মাসের অন্তর্বর্তীকালীন নিষেধাজ্ঞা দেয়। এই আদেশ স্থগিত চেয়ে আবেদন করে বিটিআরসি। গত ২৪ নভেম্বর তিন মাসের মধ্যে ২ হাজার কোটি টাকা দেওয়ার আদেশ দেন আপিল বিভাগ। এ আদেশ রিভিউ চেয়ে আবেদন করে জিপি।
বিটিআরসির প্রতিক্রিয়া:আপিল বিভাগের এই নির্দেশনার পর গ্রামীণফোন এবার টাকা দিয়ে দেবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিটিআরসির প্রধান। গতকাল বৃহস্পতিবার সংস্থার চেয়ারম্যান জহুরুল হক সাংবাদিকদের বলেন, আমার যতটুকু মনে হয় টাকাটা তারা দিয়ে দেবে। তিনি বলেন, বুধবার ১০০ কোটি টাকা নিয়ে তারা এসেছিল, বলছে যে এটা আমরা শুরু করলাম, বিগিনিং। আমরা বললাম, এই বিগিনিংটা যদি আগে শুরু করতেন তাহলে সবার জন্য ভালো হতো। যেহেতু মামলার ব্যাপার, আপিল বিভাগের ২ হাজার কোটি টাকা দেওয়ার নির্দেশ আছে, তাই আমরা টাকা নিইনি। এখন ১ হাজার কোটি টাকা দেওয়ার পরে আদালত যে আদেশ দেয়, সেই আদেশ আমরা মানব।
যদি টাকা না দেয়—এমন প্রশ্নে বিটিআরসি চেয়ারম্যান বলেন, সুপ্রিম কোর্ট বলে দিয়েছে, না দিলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। আইনে যা যা ক্লজ আছে তা করা হবে। ওরা যদি টাকা না দেয় আমরা অ্যাডমিনিস্ট্রেটর নিয়োগ করব। সরকারের সঙ্গে আলোচনা করে সবচেয়ে যোগ্য, অভিজ্ঞ ও সত্ মানুষকে আমরা জিপির অ্যাডমিনিস্ট্রেটর নিয়োগ করব।’
