চুড়িহাট্টায় পুড়ে যাওয়া ভবনের সামনে দুইটি কালো ব্যানার টানানো হয়েছে। সেই ব্যানারের সামনে কাঁদতে দেখা গেছে সেদিনের দুর্ঘটনায় নিহতদের স্বজনদের। নিহতদের স্বজনদের অনেকে বুকে কালো ব্যাজ পরে ক্ষতিপূরণের দাবিতে গণস্বাক্ষর সংগ্রহ করেন। গত বছরের ভয়াবহ দিনটিকে স্মরণ করতে স্থানীয় বাসিন্দা ও বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন ওয়াহেদ ম্যানসনে সমাবেশ করেন। ঐ ঘটনায় নিহত রানা ও রাজুর বাবা সাহেবউল্লাহও এসেছিলেন। তিনি বলেন, সন্তান হারানোর বেদনা যে কত কষ্টের যারা হারিয়েছে শুধু তারাই বোঝে। পুরো সংসার তছনছ হয়ে গেছে। এ সময় তিনি কান্নায় ভেঙে পড়েন।
নিহত মোহাম্মদ আলীর বোন জরিনা বেগম বলেন, ঘটনার পর ঢামেক হাসপাতালে ভাইয়ের লাশ শনাক্ত করি। এরপর লাশ দাফনের জন্য সেখানে প্রশাসনের পক্ষ থেকে ২০ হাজার টাকা দেওয়া হয়। এরপর থেকে আর কেউ খোঁজ নেয়নি। আমাদের দিন খুবই কষ্টে যাচ্ছে। অভাব অনটনের মধ্যে দিন কাটছে।
নিহত শামীমের ভাই আবির হোসেন বলেন, আমার ভাইয়ের মৃত্যুর পর আমাদের পরিবার অনেক কষ্টে আছে। ভাই বড়ো হওয়ার কারণে সে-ই ছিল একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। আমরা অসহায় হয়ে গেছি।
স্থানীয় বাসিন্দা শাহিন বলেন, ঘটনার এক বছর পার হলেও এখনো চুড়িহাট্টার আশপাশের এলাকার বাসাবাড়িতে কেমিক্যালের গুদাম রয়েছে। দিন দিন তা বাড়ছে। অবিলম্বে এসব কেমিক্যালের গুদাম সরিয়ে নেওয়া না হলে আমরা চকবাজারবাসী কঠোর আন্দোলনে যাব।
ক্ষতিগ্রস্ত ৩১ পরিবারকে সহায়তা দিল ডিএসসিসি
চুড়িহাট্টায় আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত ৩১ পরিবারকে সহায়তা দিয়েছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)। গতকাল বৃহস্পতিবার নগর ভবনে এক অনুষ্ঠানে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যদের হাতে সহায়তার অর্থ তুলে দেন মেয়র সাঈদ খোকন। সহায়তার অংশ হিসেবে ৩১ পরিবারের ২১ জনকে সিটি করপোরেশনে পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে নিয়োগপত্র, চার জনকে দুই লাখ টাকা এবং দুই জনকে একটি দোকান বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া উচ্চ শিক্ষিত চার জনকে যোগ্যতা অনুসারে আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে চাকরি দেওয়ার নিশ্চয়তা দেওয়া হয়েছে।
অনুষ্ঠানে সাঈদ খোকন বলেন, আমরা ৩১ জনের আবেদন পেয়েছিলাম, ঐ আবেদনের ভিত্তিতে আজ তাদের সহায়তা দেওয়া হল। দুর্ঘটনার দিন আমি সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তাদের নিয়ে অসহায় মানুষের পাশে ছিলাম। তিনি বলেন, দ্রুত পুরান ঢাকা থেকে কেমিক্যাল গোডাউন সরানো গেলে ঝুঁকি কমবে।
