বঙ্গবন্ধুকে দলীয়করণ করতে চাই না : ওবায়দুল কাদের

আপডেট : ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ২২:৪৮

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এমপি বলেছেন, বঙ্গবন্ধু আমাদের ইতিহাসের মহাবীর, মহানায়ক। তিনি কোনো পার্টির নয়, গোটা বাংলাদেশের। বঙ্গবন্ধু দল-মত নির্বিশেষে সকল শ্রেণির মানুষের নেতা। তাকে আমরা দলীয়করণ করতে চাই না। তিনি সবকিছুরই ঊর্ধ্বে। কাজেই দলমত নির্বিশেষে যারা মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী, যারা স্বাধীনতার চেতনায় বিশ্বাস করেন, সকলের জন্যই মুজিববর্ষ উদ্যাপন উন্মুক্ত থাকবে। এখানে সংকীর্ণতার কোনো সুযোগ নেই।

গতকাল বৃহস্পতিবার বিকালে ধানমন্ডিস্থ আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক মতবিনিময় সভা শেষে তিনি এসব কথা বলেন। ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ

আওয়ামী লীগের   সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক, ঢাকা মহানগরের অন্তর্গত দলীয় সংসদ সদস্য এবং সহযোগী সংগঠনের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকদের সঙ্গে এ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভা শেষে সাংবাদিক সম্মেলনে ওবায়দুল কাদের জানান, সভার মূল এজেন্ডা ছিল সফলভাবে মুজিববর্ষ উদ্যাপন করতে সামগ্রিক অগ্রগতি এবং প্রস্তুতি পর্যালোচনা।

মুজিববর্ষের কর্মসূচিতে বিএনপি আমন্ত্রণ পাচ্ছে কি না— এমন প্রশ্নের জবাবে সেতুমন্ত্রী বলেন, আমাদের জাতীয় সম্মেলনে বিএনপিকে দাওয়াত দিয়েছিলাম। মুজিববর্ষের ক্ষণগণনা অনুষ্ঠানেও তারা আমন্ত্রিত ছিল। এখন তারা ডিসাইড করবেন, তারা থাকবেন কি না। তাদের আমন্ত্রণ জানাচ্ছি, তারা অংশগ্রহণ করবে কি না, সেটা তাদের ব্যাপার। তবে যারা মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাস করে না এবং সাম্প্রদায়িক শক্তি তাদের মুজিববর্ষ উদ্যাপনে সম্পৃক্ত করা হবে না বলেও জানান ওবায়দুল কাদের। এ সময় মুজিববর্ষ উপলক্ষ্যে সংসদের বিশেষ অধিবেশন অনুষ্ঠিত হবে জানিয়ে সেতুমন্ত্রী বলেন, মুজিববর্ষ উপলক্ষ্যে ২২ এবং ২৩ মার্চ সংসদের বিশেষ অধিবেশন অনুষ্ঠিত হবে। ২২ তারিখ অধিবেশন শুরুর আগে, আমরা যারা একাদশ জাতীয় সংসদের সদস্য; তারা একযোগে ধানমন্ডিতে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করব। এর মধ্য দিয়ে বিশেষ অধিবেশনের কার্যক্রম শুরু হবে। অধিবেশনের দু-দিন বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে সংসদে সদস্যরা বক্তব্য রাখবেন বলেও জানান তিনি।

ওবায়দুল কাদের বলেন, মুজিববর্ষে আমাদের ইতিহাস, ঐতিহ্য, সংগ্রাম, সাফল্য, উন্নয়ন, অর্জন ফোকাস হবে। দেশে-বিদেশে বাংলাদেশ হবে আমাদের ব্র্যান্ড। ‘বাংলাদেশ ব্র্যান্ডকে’ আমরা ফোকাসে রাখব। সেই বঙ্গবন্ধু থেকে শেখ হাসিনা পর্যন্ত।

এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক, আবদুর রহমান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ, সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম কামাল হোসেন, সাখাওয়াত হোসেন শফিক, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. আব্দুস সোবহান গোলাপ, দপ্তর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া প্রমুখ। এছাড়া ঢাকা মহানগর উত্তর-দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক এবং সহযোগী সংগঠনগুলোর সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকরা এসময় উপস্থিত ছিলেন।