নারী-শিশু নির্যাতনবিরোধী সমাবেশ করে মুজিববর্ষ পালন করবে ১৪ দল

আপডেট : ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ২২:৫০

রাজধানীসহ সারা দেশে নারী-শিশু নির্যাতনবিরোধী সমাবেশ কর্মসূচির মাধ্যমে মুজিববর্ষ পালনের ঘোষণা দিয়েছে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোট। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে বঙ্গবন্ধু এভিনিউস্থ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ১৪ দলের বৈঠকে এ ঘোষণা দেওয়া হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন আওয়ামী লীগ প্রেসিডিয়াম সদস্য, কেন্দ্রীয় ১৪ দলের মুখপাত্র ও খাদ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ নাসিম এমপি। বৈঠক শেষে কেন্দ্রীয় ১৪ দলের সমন্বয়ক মোহাম্মদ নাসিম ধর্ষকদের বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলনে সবার এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে বলেন, কেন্দ্রীয় ১৪ দলের উদ্যোগে আগামী পয়লা মার্চ বিকাল ৩টায় কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে নারী-শিশু নির্যাতনবিরোধী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। একই সঙ্গে আগামী ৪ মার্চ বগুড়ায় এবং ১০ মার্চ নওগাঁয় একই উদ্দেশে সমাবেশ হবে। আর ১৭ মার্চ বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকীর দিন রাজধানীসহ সারা দেশের জেলা-উপজেলায় মোমবাতি প্রজ্বালন কর্মসূচি পালন করবে ১৪ দল। কেন্দ্রীয়ভাবে এ কর্মসূচির অংশ হিসেবে ১৭ মার্চ সন্ধ্যা ৬টায় মানিক মিয়া এভিনিউয়ে জমায়েত হয়ে মোমবাতি প্রজ্বালন করে শোভাযাত্রা সহকারে ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে গিয়ে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হবে।

উল্লিখিত কর্মসূচিতে রাজনীতিবিদ, অভিভাবক, পেশাজীবীসহ মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে অংশগ্রহণ করার আহ্বান জানিয়ে মোহাম্মদ নাসিম বলেন, যারা মুজিববর্ষ উদ্যাপন করবেন না তাদের প্রতি এ আহ্বান থাকবে না। তিনি বলেন, নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে সারা দেশে সভা-সমাবেশ করা হবে। ধর্ষকদের বিরুদ্ধে জনগণকে উদ্বুদ্ধ ও সচেতন করতে হবে। ধর্ষক ও নরঘাতক দানবদের বিরুদ্ধে ঘরে, মাঠে, ময়দানে সবখানে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। 

বৈঠকে ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন এমপি বলেন, মূল্যবোধের অবক্ষয়ের কারণে ধর্ষণের ঘটনা ঘটছে। মুজিববর্ষে ধর্ষণ ও মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন জোরদার করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। জাসদের সভাপতি হাসানুল হক ইনু বলেন, মুজিববর্ষ দলমত নির্বিশেষে পালনের সিদ্ধান্ত হয়েছে। শুধু বিএনপি-জামায়াত ও রাজাকার চক্র এখনো পর্যন্ত মুজিববর্ষ পালনের কর্মসূচি ঘোষণা করেনি। সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক দিলীপ বড়ুয়া বলেন, নারী-শিশু নির্যাতনের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক আন্দোলনের পাশাপাশি সামাজিক আন্দোলনের বড়োই প্রয়োজন হয়ে পড়েছে। আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সদস্য মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বীরবিক্রম বলেন, নারী-শিশু নির্যাতন এখন সামাজিক ব্যাধিতে পরিণত হয়েছে। এর বিরুদ্ধে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের সকল শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।

কেন্দ্রীয় ১৪ দলের বৈঠকে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য মোজাফফর হোসেন পল্টু, গণতন্ত্রী পার্টির সাধারণ সম্পাদক ডা. শাহাদাত হোসেন, জাতীয় পার্টির (জেপি) প্রেসিডিয়াম সদস্য এজাজ আহমেদ মুক্তা, বাসদের রেজাউর রশীদ খান, কমিউনিস্ট কেন্দ্রের অসিত বরণ রায়, গণআজাদী লীগের এস কে শিকদার, কমিউনিস্ট কেন্দ্রের নেতা ডা. ওয়াজেদুল ইসলাম খান, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সভাপতি আবু আহাম্মদ মন্নাফি, সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন কবির, মহানগর দক্ষিণের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ডা. দিলীপ রায় প্রমুখ।