/ মোহাম্মদ কামরুজ্জামান
উপস্থাপক (উপ) : প্রিয় দর্শক, পাঠকরা লেখকদের লেখা পছন্দ করছিলেন না—অনেকদিন ধরেই এরকম একটা অভিযোগ শোনা যাচ্ছিল। লেখকরা পাঠকদের থেকে দূরে অবস্থান করছিলেন। পাঠকদের ভাবনার জগত যখন সরল, লেখকদের ভাষার জগত তখন কঠিন। তাই দুটোর মেলবন্ধন ঘটছিল না। ইদানীংকালের বইমেলায় এই সমস্যার একটি সমাধান হয়েছে। পাঠকরা নিজেরাই নিজেদের জন্য লিখে নিচ্ছেন। বেচাবিক্রি ভালো। প্রকাশকরাও লাভবান হচ্ছেন। পাঠকরা নিজেরাই প্রকাশ করে নিচ্ছেন। প্রকাশকদের আর ঘাটাচ্ছেন না। পাঠকরা নিজেরা লিখে, নিজেরা ছাপিয়ে, নিজেরা কিনে বাসায় বসে পড়ে নিচ্ছেন। মাঝে মাঝে মেলায় এসে প্রকাশকদের থাকা-খাওয়া আর স্টল চালানোর খরচাপাতি দিয়ে যাচ্ছেন। প্রকাশকদের সব কাজ পাঠকরাই করে দিচ্ছেন। শুধু একটা কাজ একটু হচ্ছে না—প্রুফ রিডিং। পাঠকরা নিজেরাই যখন ঘরে নিয়ে পড়বেন সুতরাং প্রুফ রিডিং আর কার জন্য করবেন?—আমরা আমরাই তো। সুধী দর্শকমণ্ডলী, আমরা এখন কথা বলব এই সময়ের জনপ্রিয় লেখক দ্বৈত সত্তার (দ্বৈস) সঙ্গে। জনপ্রিয় লেখক দ্বৈত সত্তা, এ মেলায় আপনার কয়টি বই বেরিয়েছে?
দ্বৈস :কথা ঠিক করে বলেন।
উপ :কথা তো ঠিকই আছে, কোথায় ভুল হলো?
দ্বৈস :প্রথমেই তো ভুল করলেন।
উপ :স্যরি, বুঝতে পারছি না।
দ্বৈস :দেখুন, লেখক বলে আপনি আমাকে অপমান করেছেন।
উপ:তাহলে?
দ্বৈস :আমার বই বিক্রি হয়।
উপ :তাহলে তো আপনি একজন পাঠক। তা এবারের বইমেলায় কী কী বই পাঠ করলেন?
দ্বৈস :তেরোটা শিশুতোষ, সতেরোটা ডিটেকটিভ, ঊনত্রিশটা সাইফাই।
উপ :আমরা দেখতে পাচ্ছি, আপনি প্রচুর পাঠ করেছেন। তা কোন কোন প্রকাশনী থেকে পাঠ করেছেন?
দ্বৈস :মেসার্স ভাইরাল এন্টারপ্রাইজ, আঁটিবাজার প্রিন্টিং অ্যান্ড প্রেস লি., মডার্ন কম্পিউটার্স, বৃহত্তর মুগদা-মান্ডা কো-অপারেটিভ সোসাইটি।
উপ :আপনি এ বছর কয়টি পাণ্ডুলিপি পুরস্কার পেয়েছেন?
দ্বৈস :যে কয়টি পাণ্ডুলিপি জমা দিয়েছি।
উপ :কয়টি পাণ্ডুলিপি জমা দিয়েছিলেন?
দ্বৈস :যে কয়টিতে স্পন্সর জোগাড় করে দিয়েছি।
উপ :একজন সফল পাঠক হিসাবে আপনাকে অভিনন্দন এবং সেইসঙ্গে ধন্যবাদ মূল্যবান সময় দেওয়ার জন্য।
দ্বৈস :একজন টিভি দর্শক হিসাবে আপনাকেও ধন্যবাদ জানাই।
সুধী দর্শকমণ্ডলী! আমরা কথা বলছিলাম...।
