একুশে বইমেলার রঙ বদলেছে। যুগের সাথে তাল মিলিয়ে যুক্ত হয়েছে নতুন অনেক কিছুই। বদলেছে মানুষের বইমেলায় আসার কারণও। সেই কারণগুলো জানাচ্ছেন মুহা. তাজুল ইসলাম
v আমাদের সমাজে একশ্রেণির খাদক আছেন যারা এলাকার আবুলের চটপটি, মামার ফুসকা, খালুর মুড়ি মাখানো কিংবা দুলাভাইয়ের হালিম খেয়ে সারাবছর কাটিয়ে দেন। কিন্তু বইমেলা এলেই দেখা যায়, তাদের বইমেলার আশপাশের নানা ধরনের খাবার না খেলে চলেই না। তারা এসব খাবার খাওয়ার টানে তাই চলে আসেন বইমেলায়, বইয়ের টানে নয়।
v আরেক শ্রেণির মানুষ আছেন যারা দিনরাত স্ট্যাটাস দিয়ে নিজেদের আপটুডেট রাখেন। এই যেমন দাঁত ব্রাশ, কান চুলকানো থেকে শুরু করে পায়ের নখ কাটা পর্যন্ত কোনো কিছুর স্ট্যাটাস আপডেটই তাদের বাদ যায় না। সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে নিজের নতুন স্ট্যাটাস জানান দিতে তাদেরও দেখা যায় বইমেলায়।
v কেউ কেউ আছেন যাদের দীর্ঘদিনের শখ নিজেকে টিভি চ্যানেলে দেখানো। বইমেলায় যেহেতু প্রচুর টিভি চ্যানেলের আনাগোনা থাকে, তাই সেখানে ক্যামেরার সামনে পড়া খুব স্বাভাবিক একটি ঘটনা। তাই নিজেকে একঝলক দেখাতে তারা বইমেলায় আসে।
v অনেকেই সারা বছরে একটিও বই কিনেন না, কিন্তু বইমেলায় তাদের নিয়মিতই দেখা যায়। এই শ্রেণির মানুষগুলো প্রতিনিয়ত বইমেলায় আসেন নিত্যনতুন সেলফি তুলে নিজেদের ফেসবুকে লাইক বাড়াতে।
v বইমেলায় অনেক লেখকের বই এক কপিও বিক্রি হয় না, কিন্তু বিভিন্ন টিভি-চ্যানেল এবং পত্রিকার সাংবাদিক নিয়মিতভাবে তার সাক্ষাত্কার প্রচার করতে থাকেন। তারা নিজ খরচে বই প্রকাশ করে থাকেন সামাজিক মর্যাদা বাড়ানোর আশায়। সেইসঙ্গে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সাক্ষাত্কার দিতে তারা বইমেলায় আসেন।
