আ বু ল স ম গ্র

আপডেট : ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ১৮:২৩

মেলা রঙ্গ

/ ব্রত রায়

 

আবুল মিয়ার বই আসিয়াছে

চলিতেছে খুব সেটা

লেখার জগতে ইদানিং এই

আবুলেরা কেউকেটা!

 

বইয়ের পরে বই চলিতেছে

সইয়ের পরে সই

কে কেনে তাহার চেহারা দেখিবে

সেই ফুরসত্ কই?

 

হঠাত্ করিয়া বইয়ের স্থলে

ওটা কী রে? চেকবুক—

চমকি আবুল চাহিয়া দেখিল

নিজের বিবির মুখ!

 

মুখ ঝামটিয়ে বউ বলে, ‘নাই—

বাজার-খরচ ঘরে  

মিনসে এদিকে পাঠিকা লইয়া

ঢং-কেত্তন করে!’

 

কেহ এ দৃশ্য ভিডিও করিয়া

আপ্লোড করে নেটে

আবুলের যত শত্রু আছিল

উল্লাসে পড়ে ফেটে!

 

ব্যাপার-স্যাপার দেখিয়া-টেখিয়া

আবুল হইল ফিট

আবুলের বই, আবুলের বউ—

দু’টাই হইল হিট!

০০০

থাকতে ভালো

/ সোহেল রানা

 

আবুল হলো রম্যলেখক, মফিজ লেখে ছড়া

ইচ্ছা তাদের এই সমাজে চায় হতে নামকরা 

কার চেয়ে কে আগে হবে অনেক বড় কিছু 

তাই নিয়ে রোজ দ্বন্দ্ব চলে কেউ ছাড়ে না পিছু।

 

কিন্তু হঠাত্ যাচ্ছে দেখা সকাল বিকাল সাঁঝে

হাতটি ধরে বইমেলাতে ঘুরছে মাঝে মাঝে 

বইমেলাতে দ্বন্দ্ব ছেড়ে বন্ধু হতে দেখে 

কাছের মানুষ প্রশ্ন করে তাদের ডেকে ডেকে। 

 

উত্তরে কী বলল জানেন? বলছি শুনুন আজি

টাকা দিয়েও বই ছাপাতে হয়নি তো কেউ রাজি 

মন খারাপের মাত্রা যখন অনেক গেলো বেড়ে—

থাকতে ভালো বন্ধু হলো দ্বন্দ্ব সকল ছেড়ে!

০০০

সব্যসাচী

/ সঞ্জয় সরকার

 

পদ্য লেখার পাঠ চুকিয়ে
মন দিয়েছেন গদ্যে
কারণ— তিনি পাঠক হূদয়

পাননি হাজার পদ্যে।

 

মাসে মাসে লেখেন তিনি

ডজনখানেক গদ্য

উপন্যাসও হয় নাকি তার
দারুণ অনবদ্য।
 

 

শতেকখানা প্রবন্ধ তার

হয়েই গেছে লেখা

দুঃখ তবু—পাননি কোনো

প্রকাশকের দেখা!

 

ছড়ার দিকেও ঝোঁক আছে বেশ

গানও লেখেন তিনি

সব্যসাচী এই লেখককে

আমরা কি কেউ চিনি?

               

নাম হলো তার আবুল হোসেন
সবাই ডাকে আবুল
খ্যাতির টানে যাবেন এবার
বাংলা ছেড়ে কাবুল।
 

উকিলপাড়া, নেত্রকোনা সদর

০০০

আবুল-জরিনার প্রেম

/ কাজী মারুফ

 

হঠাত্ এসে আবুল হেসে বলল, ‘ওরে জরিনা

কতদিন হয় আদর করে হাতটি তোমার ধরি না।

আজকে আমি তোমায় নিয়ে যাবো দূরে হারিয়ে

জলদি চলো যাচ্ছে বেলা আর থেকো না দাঁড়িয়ে।’

 

মুখ ঘুরিয়ে জরিনা কয়, ‘কী বলবো আজ বুঝি না

আমার বিয়ে ঠিক করেছে ছোট্ট খালা রুজিনা।

ছলে অনেক পয়সাওয়ালা রাখবে সুখে টাকাতে

বিলাসবহুল বাড়ি-গাড়ি আছে নাকি ঢাকাতে।

 

তাইতো আমি রাজি হলাম তার সাথে এই বিয়েতে

বাবা মা ভাই সবাই রাজি আমার কও দোষ কি এতে?

তোমার যদি থাকতো এমন আর তো দেরি হতো না

ভালোবেসে সঙ্গী হতাম ভাবনা ছিল কতো না!’

 

অবাক হয়ে আবুল বলে, ‘কি বললি তুই জরিনা?

আমার টাকা শেষ করে আজ ধরবি অন্য তরী, না?

নারী তো নয় ডাইনি যে তুই যাকে চায় কর বিয়ে যা

ছলনাময়ী যা নিয়েছিস, আগে সবই দিয়ে যা।’

০০০

আবুল ভাবে বিয়ের পরে

/ ইমতিয়াজ সুলতান ইমরান

 

আবুল ভাবে বিয়ের পরে

শিশুর পিতা হলো না সে!

লোকে বলে, রোগা গাছে

কভু ভালো ফলন আসে?

 

আনলো আবুল দ্বিতীয় বউ

কিছুলোকের পাল্লায় পড়ে

বলল সবাই, ‘ভাবিস না ভাই

করার যা সব আল্লায় করে।’

 

আবুল ভারি খুশি হলো

আসবে ঘরে ছেলেপুলে

বউটাও বেশ নাদুসনুদুস 

চলনবলন হেলেদুলে!

 

 

বিয়ের পরে সুখের ঘরে 

আবুলের যায় তালগুলিয়ে

ছোটবউয়ের কাছে গেলে

বড়োটা রয় গাল ফুলিয়ে!

 

দিনেরাতে ঝগড়াঝাঁটি 

লেগেই থাকে দুইসতিনে

বড় দিলে একশো গালি

ছোট যাবে দুইশ তিনে।

 

ছোটবউকে বকা দিলে

তেড়ে আসে শালাও তার

আবুল বোঝে আমের সাথে  

হারিয়ে গেছে ছালাও তার!

 

বছর এলো বছর গেলো

ফল আসে না চাষাবাদে

হাই পাওয়ারের খাচ্ছে বড়ি 

ছেলেপুলের আশাবাদে।

কাকুয়ারপার, এয়ারপোর্ট, সিলেট।