লক্ষ্মীপুর-১ (রামগঞ্জ) আসন

মাঠে সরব আওয়ামী লীগের আনোয়ার খান বিএনপির গলার কাঁটা সেলিম

আপডেট : ২৪ ডিসেম্বর ২০১৮, ২২:০২

লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আর মাত্র কয়েকদিন বাকী। এরই মধ্যে সারাদেশের ন্যায় লক্ষ্মীপুরেও জমে উঠেছে ভোটের মাঠে প্রচার-প্রচারণা। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত বিভিন্ন দলের প্রার্থীরা তাদের নেতা-কর্মীদের নিয়ে প্রচারণায় নেমে পড়েন। নির্বাচনী এলাকায় পোস্টার, মাইকিং ও নেতা-কর্মীদের আনা-গোনায় সরগরম থাকে পাড়া মহল্লা থেকে শুরু করে শহরের রাস্তা-ঘাট, বাদ যায়নি চায়ের দোকানগুলোও। দেশে প্রতি পাঁচ বছর পর পর আসে জাতীয় সংসদ নির্বাচন। প্রতিটি দলের নেতা-কর্মী থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ চেয়ে থাকে এই নির্বাচনের দিকে।

লক্ষ্মীপুর জেলায় রয়েছে ৪টি সংসদীয় আসন। এরই মধ্যে এই সংসদীয় আসনগুলোতে আওয়ামী লীগ-মহাজোট ও বিএনপির ঐক্যফ্রন্ট মনোনীত প্রার্থীরা তাদের নির্বাচনী কার্যক্রম পরিচালনা করছেন খুব জোরেসোরে। কিন্তু ব্যতিক্রম পরিস্থিতি বিরাজ করছে লক্ষ্মীপুর-১ রামগঞ্জ সংসদীয় আসনে। এই আসনে আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীকে লড়ছেন আওয়ামী লীগ নেতা ড. আনোয়ার হোসেন খান। বিএনপির ঐক্যফ্রন্ট থেকে ধানের শীষ প্রতীকে লড়ছেন এলডিপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব শাহাদাত হোসেন সেলিম। রীতি অনুযায়ী বড় এই দুই দলের দুই প্রার্থী প্রতীক বরাদ্দের পর তাদের নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা শুরু করেন। প্রচার-প্রচারণার শুরু থেকে আজ পর্যন্ত আওয়ামী লীগের প্রার্থী প্রতিদিন নতুন নতুন কৌশলে তার দলের নেতা-কর্মীদের নিয়ে ভোটের মাঠ চষে বেড়ালেও বিএনপির ঐক্যফ্রন্ট মনোনীত প্রার্থী শাহাদাত হোসেন সেলিম শুরু থেকে প্রচার-প্রচারণায় নিষ্ক্রীয় রয়েছেন। এদিকে এরই মধ্যে পুরো নির্বাচনী এলাকায় নৌকার পোস্টার, ব্যানার ও মাইকিং এ সরগরম থাকলেও এই এলাকার কোথাও নেই ধানের শীষের পোস্টার, ব্যানার ও মাইকিং।

আওয়ামী লীগের প্রার্থী আনোয়ার খান নির্বাচনে প্রচারণার দিন থেকে প্রতিটি ইউনিয়ন, পৌরসভা ও প্রতিটি ওয়ার্ডে দলীয় নেতা-কর্মী থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষকে নিয়ে সকাল থেকে শুরু করে গভীর রাত পর্যন্ত কর্মী সমাবেশ, উঠান বৈঠক, সমন্বয় সভা ও গণসংযোগ করে যাচ্ছেন। ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী শাহাদাত হোসেন সেলিম নির্বাচনী এলাকায় এখনো পরিচিতিও অর্জন করতে পারেননি।

স্থানীয় ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এক সময়ের বিএনপি অধ্যুষিত লক্ষ্মীপুর-১ রামগঞ্জ আসনটি বর্তমানে আওয়ামী লীগের ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। এই আসনে এলডিপির প্রার্থী সেলিমের তেমন একটা পরিচিতি নেই। আওয়ামী লীগের প্রার্থী আনোয়ার খান এলাকার সকলের কাছে প্রিয় মুখ। আওয়ামী লীগের থেকে প্রার্থী দেওয়া হয়েছে আনোয়ার খানকে আর ঐক্যফ্রন্ট থেকে যদি শাহাদাত হোসেন সেলিমকে না দিয়ে মূলদল বিএনপির অন্য কাউকে প্রার্থী করা হতো তাহলে এই আসনে সমানে সমানে লড়াই হতো। এখন এক সময়ের বিএনপির এই ঘাঁটিতে এলডিপির তথা ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী শাহাদাত হোসেন সেলিম মাঠে না থাকায় বিএনপি নেতা-কর্মীদের জন্য ভোটের মাঠে তিনি গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছেন। অন্যদিকে আওয়ামী লীগের প্রার্থী ড. আনোয়ার হোসেন খান এই আসনটিকে আওয়ামী লীগের ঘাঁটিতে পরিণত করায় এখন তিনি ভোটের মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন। যার কারণে তার বিজয় প্রায় নিশ্চিত।