বর্তমান বিশ্বে সবচেয়ে বড় আতঙ্কের নাম করোনা ভাইরাস। চীনের উহান প্রদেশ থেকে বিশ্ব জুড়ে এই ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ছে। শনিবার চীনের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, করোনা ভাইরাসে নতুন করে আরও ১০৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। এতে করে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ালো দুই হাজার ৩৪৫ জনে। নতুন করে আরও আক্রান্ত হয়েছেন ৩৯৭ জন। এনিয়ে আক্রান্তের সংখ্যা ৭৬ হাজার ২৮৮ জনে দাঁড়িয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে চীনে আতঙ্কে রয়েছেন বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরাও। মোবাইল ফোনে কথা হয় চীনে অবস্থানরত বাংলাদেশি শিক্ষার্থী শারমিন জাহানের সঙ্গে।
শারমিন নর্থ চায়না ইলেকট্রিক পাওয়ার ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী। তিনি বেইজিংয়ের সামপিং শহরে অবস্থিত ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের মাস্টার্স প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী।
তিনি জানান, এই মুহূর্তে আমরা চরম আতঙ্কের মধ্যে আছি। করোনা ভাইরাস আতঙ্কে এখানকার প্রত্যেকটি বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় লক ডাউন করে দেওয়া হয়েছে। চাইলেই কেউ ঢুকতে ও বের হতে পারছে না। তবে ডিনের অনুমতি নিয়ে খুব স্বল্প সময়ের জন্য বের হওয়া যাচ্ছে।
আরও পড়ুন: দুই পুরুষের চুম্বন বাধা নয়, গল্পের জন্য নিষিদ্ধ হলো ছবি
আমরা এখানে প্রায় ৭০ জন বাংলাদেশি শিক্ষার্থী আছি। সেমিস্টার ভ্যাকেশনের কারণে অনেকে আগেই বাংলাদেশে চলে গেলেও অল্প কয়েকজন এখনও আছি। তবে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আমাদের সুস্থতার জন্য যথেষ্ট সতর্ক। যারা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডর্মেটারিতে আছি তাদের জন্য বেশ কয়েকটি গ্রুপে ভাগ করে দেওয়া হয়েছে। প্রত্যেক গ্রুপ লিডার সবার খেয়াল রাখছেন। প্রত্যেকদিন আমাদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হচ্ছে।
শারমিন বলেন, আমাদের দ্বিতীয় সেমিস্টার চালু হয়েছে। চীন সরকার ও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তে অনলাইনে ক্লাস নেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। আমাদের শিক্ষকরা বিভিন্ন গ্রুপে যুক্ত করে নিয়ে ক্লাসগুলো চালিয়ে যাচ্ছেন। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয় লক ডাউন থাকায় ক্যাম্পাসের ক্যান্টিন থেকে খাবার কিনে খেতে হচ্ছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা কেউ করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়নি।
আরও পড়ুন: প্রেমের ফাঁদে ফেলে যুবককে তরুণীর অমানুষিক নির্যাতন
চীনে বাংলাদেশ অ্যাম্বাসি থেকে আমাদের সর্বোচ্চ সহযোগিতা করা হচ্ছে জানিয়ে শারমিন বলেন, বেইজিংয়ে শিক্ষার্থীদের গ্রুপে অ্যাম্বাসি থেকে একটি হটলাইন নাম্বার দিয়ে প্রয়োজনে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে। এই অবস্থায় আমি বাংলাদেশে যেতে চাচ্ছিনা।
বাংলাদেশের সবার কাছে অনুরোধ জানিয়ে শারমিন বলেন, আপনারা করোনা ভাইরাস নিয়ে গুজব ছড়াবেন না। কারণ আমাদের পরিবার বাংলাদেশে আছে। গুজব ছড়ানোর কারণে পরিবারগুলো অনেক ভেঙ্গে পড়ে। আমাদের নিয়ে বেশি টেনশন করেন। এমনকি তারা অসুস্থও হয়ে যাচ্ছেন।
ইত্তেফাক/বিএএফ
